ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘টাকার খেলা’র মাধ্যমে ভোট প্রভাবিত করার অভিযোগ তুলে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশ জাসদসহ ১০টি বামপন্থী রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত এই জোট আজ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে এই আহ্বান জানায়। বাসদের সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বিষয়টি জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, আগামীকাল বৃহস্পতিবার সারা দেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনের নামে প্রহসনের কারণে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত জনগণ একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রত্যাশায় রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে স্বাধীনতাবিরোধী ধর্মান্ধ রাজনৈতিক শক্তি ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগকে ভন্ডুল করতে তৎপর হয়ে উঠেছে।
গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের নেতারা দাবি করেন, দেশের বিভিন্ন জেলায় ভোটের আগে নগদ অর্থ বিতরণের মাধ্যমে ভোট কেনার চেষ্টা চলছে। তাঁদের ভাষ্য, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর নেতা-কর্মীরা সংগঠিতভাবে মাঠে নেমে ভোটারদের মাঝে অর্থ ছড়িয়ে নির্বাচনের ফল নিজেদের পক্ষে নেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কোথাও কোথাও অর্থ বিতরণের সময় জনগণের প্রতিরোধের মুখেও পড়তে হয়েছে সংশ্লিষ্টদের। ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওর উল্লেখ করে জোট নেতারা দাবি করেন, ঢাকা-১৫ আসনে প্রকাশ্যে প্রচারণার সময় এক আইনজীবীকে টাকা দিতে দেখা গেছে। এ ছাড়া ঠাকুরগাঁওয়ে একটি ঘটনায় বিপুল অঙ্কের নগদ টাকাসহ এক নেতাকে আটকের কথাও উল্লেখ করা হয়। এসব ঘটনাকে নির্বাচনী আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছে জোটটি।
গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, অর্থ, পেশিশক্তি, প্রশাসনিক কারসাজি ও সাম্প্রদায়িক প্রচারণামুক্ত একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন কমিশনের দায়িত্ব। আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। ঠাকুরগাঁওয়ের ঘটনাসহ যেসব স্থানে ভোট কেনাবেচার অভিযোগ উঠেছে, সেসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। এ বিষয়ে নীরবতা বা শিথিলতা জনগণ মেনে নেবে না বলেও সতর্ক করা হয়।
একই সঙ্গে জোটটি সচেতন নাগরিক ও সাধারণ ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, কোনো ধরনের অর্থের প্রলোভনে প্রভাবিত না হয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে। টাকার বিনিময়ে ভোট দেওয়ার প্রবণতা গণতন্ত্রকে দুর্বল করে এবং দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয় বলে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতির শেষাংশে বলা হয়, ‘আসুন, আমরা সকলে মিলে নির্বাচনে টাকার খেলাকে রুখে দিয়ে জনগণের কষ্টার্জিত ভোটাধিকার নিশ্চিত করি। জয় হোক গণতন্ত্রের, জয় হোক সাধারণ মানুষের।’