এনজিও থেকে ঋণগ্রহীতাদের জন্য বড় স্বস্তির খবর দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে নিবন্ধিত এনজিও থেকে নেওয়া ক্ষুদ্রঋণের দায় সরকার গ্রহণ করবে এবং সাধারণ মানুষকে আর সেই ঋণ পরিশোধ করতে হবে না।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে রংপুর কালেক্টরেট মাঠে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটির রংপুর বিভাগীয় জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব ঘোষণা দেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘এই এলাকার মানুষ স্বাভাবিকভাবে কষ্টে থাকার কারণে বিভিন্ন সময় এনজিও থেকে ক্ষুদ্রঋণ গ্রহণ করেন। অনেক মানুষ ছোট ছোট ঋণ গ্রহণ করেছেন। ক্ষুদ্রঋণ গ্রহণ করেছেন। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ১২ তারিখের নির্বাচনে আমরা সরকার গঠনে সক্ষম হলে রেজিস্টার্ড এনজিও থেকে আপনাদের নেওয়া ক্ষুদ্রঋণ পরিশোধ করা লাগবে না।’
বিএনপি সরকারের আমলে রংপুর অঞ্চল দারিদ্র্যসীমা থেকে বেরিয়ে এসেছিল উল্লেখ্য করে তারেক রহমান বলেন, ‘দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনা করেছেন, সেই সময় আমরা দেখেছি যে এই অঞ্চলের সবচাইতে বেশিসংখ্যক মানুষ দারিদ্র্যসীমা থেকে বেরিয়ে এসেছিল। কিন্তু বিগত ১৬ বছর ধরে আমরা দেখেছি, তথাকথিত উন্নয়নের নামে লুটপাট হয়েছে। কিন্তু মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য সঠিক কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। ফলে মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়নি। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় টিকে থাকার জন্য নতুন ব্যবসা-বাণিজ্য, মিল-কারখানা কোনো কিছু এখানে করা হয় নাই।’
তারেক রহমান আরও বলেন, ‘এই এলাকায় একটু আগে আমি আবু সাঈদের বাড়ি থেকে আসলাম। আমি নিজেও জানতাম না যে সেখানেও কয়লা আছে। আমি জানতাম, দিনাজপুরে কয়লা আছে। কিন্তু আজ আমি শুনলাম যে সেখানেও কয়লা আছে। এই কয়লা যদি আমরা উত্তোলন করতে পারি, এই কয়লা দিয়ে আমরা অনেক কিছুর পরিবর্তন করতে পারব।’
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ করা হবে। তাঁদের হাতে কৃষি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। অন্তত এক ফসলের বীজ ও কীটনাশক বিনা মূল্যে দেওয়া হবে। এ ছাড়া ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর মাধ্যমে নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও অধিকার নিশ্চিত করা হবে। এ সময় তিনি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নসহ খাল খনন প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেন।
রংপুরকে ঢেলে সাজাতে হবে, কর্মসংস্থান করতে হবে জানিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘এই এলাকায় প্রাকৃতিক সম্পদ যে রকম আছে, একই সাথে সবচাইতে বড় সম্পদ কৃষি আছে। বাংলাদেশের খুলনা অঞ্চল, চট্টগ্রাম অঞ্চলসহ অন্যান্য অঞ্চল যদি ইন্ডাস্ট্রিয়াল বেল্ট হতে পারে, তাহলে কেন এই রংপুর বিভাগসহ রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় এলাকায় কৃষিজাত পণ্যের ইন্ডাস্ট্রি হবে না? আমরা ক্ষমতায় গেলে কৃষিজাত পণ্যের যাঁরা ব্যবসা-বাণিজ্য করেন, যাঁদের ইন্ডাস্ট্রি আছে, তাঁদের বিশেষ সুবিধা দেব; যাতে করে তাঁরা এই এলাকায় এসে তাঁদের নতুন মিল-ফ্যাক্টরি স্থাপনের কাজ শুরু করেন। এর ফলে এই এলাকার মানুষ কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘রংপুর আবু সাঈদের পবিত্র রক্ত মেশানো মাটি। এখানে আবু সাঈদ, চট্টগ্রামের ওয়াসিমসহ প্রায় ১৪০০ শহীদ যে স্বপ্ন নিয়ে জীবন উৎসর্গ করেছেন, সেই “জুলাই সনদ” রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তাই ভোর থেকে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে সকলেই ভোট দেবেন।’
জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করেন তারেক রহমান বলেন, ‘একটি দল আমাদের সঙ্গে পাঁচ বছর সরকারে ছিল। তাদের মন্ত্রী ছিল। তখন আমরা ভালো হলেও এখন আমরা তাদের কাছে নাকি খারাপ। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা খারাপ হলে তারা কেন পাঁচ বছর সঙ্গে ছিল?’
রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামুর সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর) অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।