প্রবীণ আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নেতা তোফায়েল আহমেদের জানাজা শেষে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। আজ সোমবার রাজধানীর ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জানাজা শেষ হওয়ার পর অর্ধশতাধিক ব্যক্তি ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। এ সময় মসজিদ ও আশপাশের এলাকায় আগে থেকেই অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে পাঁচজনকে আটক করে।
তবে আটক ব্যক্তিরা দাবি করেছেন, তাঁরা কোনো রাজনৈতিক কর্মী নন; শুধু জানাজায় অংশ নিতে এসেছিলেন।
ঘটনাস্থলে দায়িত্বে থাকা রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার জিসানুল হক বলেন, তাঁরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছিলেন। যাঁদের আটক করা হয়েছে, তাঁরা সবাই স্লোগান দিচ্ছিলেন। তাঁদের থানায় নেওয়া হচ্ছে। সেখানে যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এর আগে, বিকেল ৫টার কিছুক্ষণ আগে তোফায়েল আহমেদের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় ধানমন্ডির মসজিদ-উত-তাকওয়াতে। সেখানে বাদ মাগরিব তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় পরিবারের সদস্য, গুণগ্রাহীদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, জাতীয় পার্টির (একাংশ) চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, জাতীয় পার্টির (একাংশ) মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী।
জানাজার আগে রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘আমাদের রাজনীতি, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতায় তোফায়েল আহমেদের যে অবদান তা আমাদের চিরদিন মনে রাখতে হবে। আমি তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করি। বাংলাদেশ যত দিন আছে, তোফায়েল আহমেদ তত দিন বেঁচে থাকবে মানুষের প্রাণে অন্তরে।’
শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ‘দলমত-নির্বিশেষে সকলের উনাকে শ্রদ্ধা জানানো উচিত। আজকের একটি জানাজা আমরা মনে করি জাতীয় সংসদেও হওয়া উচিত ছিল। সরকার থেকে সে উদ্যোগটা নেওয়া উচিত ছিল। আমরা মনে করি, ভবিষ্যতে এই ধরনের উদার দৃষ্টান্ত স্থাপন হবে। জাতি একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র হারাল।’
শামীম হায়দার আরও বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে তাঁকে গার্ড অব অনার এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করতে হবে। এর কোনো ব্যতিক্রম হওয়ার কোনো আইনগত সুযোগ নাই। যদি এটা করা না হয় তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ইতিহাসের কাছে এবং আইনের চোখে দায়ী থাকবেন।’