হোম > রাজনীতি

নির্বাচনী সমাবেশ

একটি দল দুর্নীতিতে ৪ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল: শফিকুর

আব্দুল্লাহ আল গালিব, উত্তরবঙ্গ থেকে

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে এস এম উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: আজকের পত্রিকা

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘অতীতে রাষ্ট্র শাসন করা কোনো দল বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবে না, দুর্নীতি করেনি। একটি দল দুর্নীতিতে চারবার চ্যাম্পিয়নও হয়েছে। আমরা দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে এসব হবে না, সে কথা জোর দিয়ে বলতে পারি।’

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার সরকারি আকবার আলী কলেজ মাঠে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় ঐক্যের পক্ষে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান। এর আগে সকালে তিনি রংপুরের পীরগঞ্জে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন। পরে একে একে গাইবান্ধার শিবগঞ্জ, বগুড়া সদর ও বগুড়ার শেরপুর, সিরাজগঞ্জ সদর ও সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া এবং পাবনা সদরে জনসভা ও পথসভায় অংশ নেন।

সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রংপুরের পীরগঞ্জে আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে তাঁর মা-বাবা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন জামায়াতের আমির। আবু সাঈদের হত্যাকারীদের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমরা আপনার সন্তানের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করব।’

সেখান থেকে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পৌঁছে এস এম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘দুটি কারণে আমাদের কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য পান না—প্রথমত মধ্যস্বত্বভোগী, দ্বিতীয়ত ঘাটে ঘাটে চাঁদাবাজি। আমরা সব চাঁদাবাজকে নির্মূল করব।’

উত্তরবঙ্গের নদীগুলো এখন মরুভূমি, কঙ্কাল হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে জামায়াতের আমির বলেন, ‘সরকার গঠন করতে পারলে আমরা সবার আগে দৃষ্টি দেব এই নদীগুলোর ওপর। তিস্তা মহাপরিকল্পনার পাশাপাশি নদীগুলোকে জীবন দেওয়ার মহাপরিকল্পনা নেওয়া হবে।’

উত্তরবঙ্গে কৃষিভিত্তিক ইপিজেড প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করে শফিকুর রহমান বলেন, কর্মসংস্থানের জন্য এখানে ইপিজেড হওয়ার প্রয়োজন আছে। কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানিযোগ্য করে তুলতে এখানে ইপিজেড করা হবে।

সংস্কার প্রশ্নে গণভোটে হ্যাঁ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আগামী ১২ তারিখ, একসাথে দুটি ভোট হবে। গণভোট আর সাধারণ নির্বাচন। আমি বলব, গণভোট সফল হলে সাধারণ নির্বাচন সফল হবে। তাই গণভোটের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ বলতে হবে। জুলাই শহীদের প্রতি সম্মান দেখানোর জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দিতে হবে।’

সমাবেশে বক্তব্য শেষে গাইবান্ধার ৫টি আসনে জামায়াতের প্রার্থীদের হাতে দলীয় প্রতীক তুলে দেন জামায়াত আমির।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বগুড়ার শিবগঞ্জের মোকামতলা বাজারে এক পথসভায় যোগ দেন জামায়াতের আমির। সেখান থেকে বগুড়া শহরের আলফাতুন্নেছা খেলার মাঠে আয়োজিত সমাবেশে যোগ দেন তিনি। ১০ দলীয় ঐক্যের আয়োজনে এই সমাবেশ শুরু হয় দুপুর ১২টায়।

সমাবেশে জামায়াতের আমির বগুড়াকে সিটি করপোরেশনে রূপান্তর করার প্রতিশ্রুতি দেন। এ ছাড়া বগুড়ায় একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক মানের করার কথাও বলেন তিনি।

জামায়াত আমির আরও প্রতিশ্রুতি দেন, গাইবান্ধা ও বগুড়াবাসীর দাবি অনুযায়ী তাঁরা দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘দেশের জনগণ সাক্ষী, জামায়াতের নেতা-কর্মীরা চাঁদাবাজি, দখলবাজি, টেন্ডারবাজি করে না। আমাদের হাত পবিত্র। এই পবিত্র হাত দিয়েই আমাদের প্রতিশ্রুত সব ওয়াদা বাস্তবায়ন করা হবে।’

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় বেলা আড়াইটার দিকে অন্য একটি সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সেখানে পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব চাই। কেউ আমাদের প্রভু হয়ে আসুক, তা আমরা চাই না। বাংলাদেশের মানুষ ভাঙবে, কিন্তু মচকাবে না। অন্যায়ের কাছে মাথানত করবে না। আমাদের সন্তানেরা আধিপত্যবাদকে লাল কার্ড দেখিয়েছে। এই কার্ড সবুজ ও হলুদও হবে না। এইটা লাল কার্ড হিসেবেই থাকবে।’

সিরাজগঞ্জ শহরের ইসলামিয়া সরকারি কলেজে বেলা সাড়ে ৩টায় ১০ দলীয় জোটের আরেকটি সমাবেশ হয়। ওই সমাবেশে জামায়াত আমির বলেন, ‘যাঁরা বড় গলায় কথা বলেন, তাঁদের হাতেই মা-বোনেরা বেশি নির্যাতিত হন। সাধু সাবধান, আমাদের মুখ খুলতে বাধ্য করবেন না। নইলে ভেতরের সবকিছু প্রকাশ করে দেব। কথা দিচ্ছি, আমরা মা-বোনদের মর্যাদার সঙ্গে ঘরে, চলাচলে ও কর্মস্থলে শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করব।’

শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘আমরা কারও বিরুদ্ধে লাগালাগি, খোঁচাখুঁচি পছন্দ করি না। কিন্তু আমাদের খোঁচা দিলে, খোঁচা ফিরিয়ে দেওয়া আমাদের ওপর ওয়াজিব। এ কাজ করতে আমাদের বাধ্য করবেন না।’ এ সময় তিনি সিরাজগঞ্জে গুঁড়া দুধের কারখানা স্থাপন এবং তাঁতশিল্পসহ সব শিল্পকারখানা আবার চালু করার প্রতিশ্রুতি দেন।

জামায়াত আমির বলেন, ‘জামায়াত সাড়ে তিন কোটি মানুষের সংগঠন। তবু আমাদের নামে কোনো অভিযোগ নেই।’

গতকাল রাত ৮টার দিকে পাবনার এডওয়ার্ড কলেজের সমাবেশে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দলের ওপর দীর্ঘদিন ধরে নানামুখী নিপীড়ন ও আর্থিক ক্ষতি চাপিয়ে দেওয়া হলেও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের চোখ যেন কখনোই কারও সম্পদের দিকে না পড়ে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সংযম বজায় রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করেছি হাজারো ক্ষতির মধ্যেও শৃঙ্খলা রক্ষা করতে।’ তিনি বলেন, ‘৫৬ হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশে কোথাও জনগণ বলে না—জামায়াতের নেতা-কর্মীরা চাঁদাবাজ, মামলাবাজ কিংবা দখলবাজ। বরং বিপদের দিনে বাংলাদেশের মানুষ দেখেছে, আমরা হাজার কষ্ট বুকে চেপে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি।’

গণভোটে এক পক্ষ সরব, আরেক পক্ষ নীরব

প্রজাতন্ত্র দিবসে ভারতের সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করল জামায়াতে ইসলামী

জামায়াত জোটের নীতি ও আদর্শ খিচুড়িমার্কা: চরমোনাই পীর

অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্নীতির বিষয়েও শ্বেতপত্র প্রকাশ করা উচিত: বজলুর রশীদ ফিরোজ

‘রাষ্ট্র সংস্কারের আগে রাজনৈতিক দলের সংস্কার জরুরি’

১১ দলীয় জোটে ইসলামী আন্দোলনের জায়গায় লেবার পার্টি

নিজ স্বার্থে শহীদ ওসমান হাদিকে বিক্রি করছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী: আবদুল কাদের

ছোট ভাইয়ের কবর জিয়ারত করলেন তারেক রহমান

এনসিপির নির্বাচনী ‘থিম সং’ প্রকাশ

আচরণবিধি লঙ্ঘন: সারজিস আলম ও নওশাদ জমিরকে শোকজ