সৌদি সরকার ইয়েমেনের বাব আল-মানদেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে বাংলাদেশসহ ১৪ দেশ নিয়ে সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এই জোটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন দেশের বামপন্থী দলগুলোর রাজনৈতিক জোট গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট।
আজ সোমবার বিকেলে জোটের অংশীদার বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) কেন্দ্রীয় সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বাম নেতারা জানান, সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যৌথ সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করার কাঠামো হিসেবে এই বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট (এমএমডিএ) প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বহুজাতিক এই সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের সভায় আমন্ত্রিত হয়েছিল ৫১টি দেশ। তার মধ্যে ৪৩টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছিল, কিন্তু অধিকাংশ দেশই এই জোটে যুক্ত হতে রাজি হয়নি।
এতে আরও বলা হয়, এটা স্পষ্ট যে, পারস্পরিক দ্বন্দ্ব ও নানা বৈশ্বিক জোটে বিভক্ত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর কোনো একটি পক্ষের সঙ্গে এ ধরনের সামরিক জোটে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের নিরাপত্তা, বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি বাড়াবে। এর ফলে অপ্রয়োজনীয় সামরিক ব্যয়ও বাড়বে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ এই জোটের অংশ হওয়ার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ইরানসহ অন্যান্য আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও জানিয়েছেন নেতারা।
বাম জোটের নেতারা বলেন, এতে বাংলাদেশের পণ্যবাহী জাহাজ হুতিদের মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীর টার্গেটে পরিণত হবে। মার্কিন সমর্থিত এই সহযোগী জোটে অংশগ্রহণ ইরান ও ফিলিস্তিনের জনগণের সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী লড়ায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার শামিল, যা বাংলাদেশের জোট নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতিরও পরিপন্থী।
দেশে নির্বাচিত সংসদ ও সরকার থাকার পরও সৌদি জোটে অংশগ্রহণ নিয়ে সংসদে বা বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে কোনো আলোচনা করা হয়নি বলে অভিযোগ করে নেতারা বলেন, এটা গণতান্ত্রিক রীতি-নীতি চেতনার পরিপন্থী যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বিবৃতিতে অবিলম্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগী সৌদি সরকারের নেতৃত্বে ১৪টি দেশ নিয়ে গঠিত বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট (এমএমডিএ) থেকে বেড়িয়ে আসার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন, সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্কাফি রতন, বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদ (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা, বাসদ (মাহবুব) সাধারণ সম্পাদক হারুনার রশীদ ভূঁইয়া, সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী, জাতীয় গণফ্রন্টের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়ক রজত হুদা ও সোনার বাংলা পাটির সভাপতি সৈয়দ হারুন অর রশীদ।