যশোরের অভয়নগরে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এক আজব কারণে আটক হয়েছেন। ওই স্কুলের একজন শিক্ষক এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করার পর তিনি তাঁকে পালাতে সহায়তা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে স্কুলের দপ্তরিও এই পলায়ন পর্বে অংশ নেন। স্কুল চলাকালে এক ছাত্রী বাথরুমে গেলে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ইমরান হোসেন তাকে সেখানে ধর্ষণ করেন, সেই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। অর্থাৎ ঘটনাটি শুধু অভিযোগ পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই, তার সত্যতাও পাওয়া গেছে। তবে পগারপার হওয়া শিক্ষক এখনো ধরা পড়েননি।
ধর্ষণের ঘটনার প্যাটার্ন প্রায় একই রকম। এই ঘটনা তদন্ত করার জন্য শার্লক হোমস বা এরকুল পোয়ারোর মতো দুঁদে গোয়েন্দা হওয়ার দরকার নেই। দরকার নেই ব্যোমকেশ বা ফেলুদার মতো তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন গোয়েন্দারও। দেশজুড়ে ধর্ষণের যে বাড়বাড়ন্ত, তা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শিক্ষক শ্রেণির কারও কারও মধ্যে কেন যেন হঠাৎ যৌনতৃষ্ণা বেড়ে গেছে। কিছুদিন ধরে মাদ্রাসাশিক্ষকদের একের পর এক ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশিত হতে থাকলে বোঝা যায়, তাঁদের অদম্য যৌনক্ষুধার শিকার হচ্ছে তাঁদেরই শিক্ষার্থীরা। ধর্ষণের ক্ষেত্রে ছেলে বা মেয়ের ধার ধারছেন না তাঁরা। এই যৌনলিপ্সার শিকার হচ্ছে যেকোনো লিঙ্গের কোমল শিশুরা। ধর্ষণ করার পর তা প্রকাশ করা হলে খুন করে ফেলা হবে বলে শাসায় এই ধর্ষককুল। অভয়নগরের এই শিক্ষকও অন্য কুলাঙ্গারদের মতো শিশুটিকে হত্যার ভয় দেখিয়েছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন বিকৃত যৌনক্ষুধা নিয়ে যেসব রিল কিংবা ভিডিও দেখা যায়, সেগুলোতে সমাজের গণ্যমান্য বলে খ্যাত মানুষদেরও দেখা যায়। প্রযুক্তি সহজলভ্য হওয়ার কারণে নানাভাবে এসব অপকর্ম ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। প্রশ্ন হলো, দোষটা কি প্রযুক্তিকে দিতে হবে, নাকি যিনি এই অপকর্মে যুক্ত হচ্ছেন, দোষটা তাঁর? এই প্রশ্নের উত্তর সবাই জানেন। সমাজে সম্মান আছে যাঁদের, তাঁদের ভেতর কেন এ রকম এক পিশাচ বসবাস করবে, সেটাই তো প্রশ্ন। সমাজ থেকে কি সুস্থতা এভাবেই হারিয়ে যাবে?
শঙ্কার বিষয় হলো, রাজনীতিবিদ, ধর্মীয় নেতা, শিক্ষক থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে যৌন বিকৃতি দেখা যাচ্ছে। এই অবস্থা সমাজের জন্য খুবই ক্ষতিকর। প্রতিটি পেশার মানুষকে যদি সন্দেহ করতে হয়, তাহলে সমাজের স্বাভাবিক ছন্দ কি টিকে থাকে? সামাজিক জীবনের অভ্যন্তরে কেন এ রকম অন্ধকার দিক থাকবে? তাহলে কার ওপর ভরসা করবে মানুষ। শিক্ষালয়ে শিশুদের পাঠিয়ে নিশ্চিন্ত মনে থাকা যাবে না—এ কেমন কথা? রাজনীতিক বা ধর্মীয় নেতাদের মধ্যেও যে হারে এই অনৈতিকতার চাষবাস দেখা যাচ্ছে, তাতে আশাবাদ টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। নিজ স্কুলের এক শিক্ষক বিকৃত মনের পরিচয় দিয়েছেন, তাই প্রধান শিক্ষকের উচিত ছিল নিজ উদ্যোগে এই শিক্ষককে পুলিশে সোপর্দ করা। কিন্তু তিনি যা করলেন, তা শিক্ষকদের জন্য অমোচনীয় লজ্জা হয়েই টিকে থাকবে।