মুশকিল হলো, যেকোনো পেশার লোক কাজে গাফিলতি করতে পারেন। নিজের কাজের ভার চাপিয়ে দিতে পারেন অন্যের ওপর। ফলে যেকোনো সময় অঘটন ঘটতে পারে। এই তো সেদিন কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজে ঘটেছে এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। গুরুতর দাঁতের ব্যথা নিয়ে আনোয়ারা খাতুন ১ জুলাই কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের বহির্বিভাগে গিয়েছিলেন চিকিৎসা নিতে। সহকারী ডেন্টাল সার্জন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বলেন, দাঁতে ক্যাভিটি হয়েছে। তাই দাঁত তুলে ফেলা ছাড়া কোনো চিকিৎসা নেই।
এ পর্যন্ত ঠিক আছে। ১২ জুলাই হাসপাতালে গিয়ে দাঁত অপসারণের নির্ধারিত তারিখ দেওয়া হয়। ওই দিন দাঁত ফেলে দেওয়া হয় ঠিকই, কিন্তু দাঁতের ব্যথার উপশম হয় না। কী হলো জানতে আরেক চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন আনোয়ারা খাতুন। সেই চিকিৎসক জানান, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজে দাঁত অপসারণ করতে গিয়ে সুস্থ একটি দাঁত উপড়ে ফেলা হয়েছে, ক্যাভিটিতে আক্রান্ত দাঁতটি বহাল তবিয়তে রয়েছে। ফলে ক্যাভিটিযুক্ত দাঁতের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সুস্থ দাঁত উপড়ানোর ব্যথা।
এরপরই জানা যায় আসল খবর। যে চিকিৎসক দাঁতের অস্ত্রোপচার করবেন, তিনি দায়িত্ব পালন না করে দাঁত উপড়ানোর দায়িত্ব দিয়েছিলেন তাঁর সহকারীকে। সহকারী তাঁর বুদ্ধিমতো একটি সুস্থ দাঁত ফেলে দিয়েছেন।
জবাবদিহি বলে কোনো বিষয় কি থাকছে না আর! যে যার মতো ক্ষমতার অপব্যবহার করে যাবে এবং সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে কি প্রাণ হাতে করে নিয়ে যেতে হবে? চিকিৎসা পেশাকে মহান পেশা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। মানুষের শারীরিক ও মানসিক কষ্ট লাঘবের জন্য চিকিৎসকেরা যে মেধা ও পরিশ্রমের প্রকাশ ঘটান, তা অনবদ্য। চিকিৎসকদের প্রতি বিশ্বাস রেখে যেকোনো মানুষ অপারেশনের টেবিলে নিজেকে সঁপে দেন।
চিকিৎসাশাস্ত্রে মানবতার সেবা করার যে ব্রত রয়েছে, তার প্রতি সবাই শ্রদ্ধাশীল। দুর্ভাগ্য হলো, ভালো চিকিৎসকদের ভিড়ে এমন কিছু চিকিৎসক রয়েছেন, যাঁরা ঠিকভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন না। কুষ্টিয়ায় যে দন্তচিকিৎসক কাজে অবহেলা করে সহকারীকে দিয়ে দাঁত অপসারণের কাজটি করিয়েছেন, তিনি তাঁর পেশাগত দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করেননি। এ ধরনের কর্মকাণ্ড চিকিৎসা পেশাকে অসম্মানিত করে এবং দক্ষ ও পরিশ্রমী চিকিৎসকদেরও প্রশ্নের সম্মুখীন করে। এ ধরনের কাজে অবহেলার ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের সংগঠন এবং সরকারি পেশাজীবীদের সংগঠন থেকেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া বাঞ্ছনীয়। তা না হলে এ ধরনের কাজে অবহেলার ঘটনা বাড়তেই থাকবে।
যেকোনো কাজে আত্মনিবেদন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যে যার কাজ ঠিকভাবে করলে সবকিছু নিয়মমতো চলে। সবাই নিয়ম মেনে চলছে কি না, সেটি তদারকি করা দরকার। আমাদের দুর্ভাগ্য, পেশাজীবী সংগঠনগুলো কখনো কখনো এ ধরনের অনিয়মের জন্য জবাবদিহি চায় না। এটা দুঃখজনক।
কুষ্টিয়ার নষ্ট দাঁতের রহস্য উন্মোচিত হোক। অবহেলাকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।