হোম > মতামত > সম্পাদকীয়

৫ আগস্ট

অর্জনের হিসাব, অপূর্ণতার প্রশ্ন

সম্পাদকীয়

আজ ৫ আগস্ট। ২০২৪ সালের এই দিনটি ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে মোড় ঘোরানোর সময়। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা, শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া আন্দোলন, জন-অসন্তোষ এবং রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর সেদিন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়েছিল এবং শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছেড়ে দেশত্যাগ করেছিলেন। তাতেই দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে, শুরু হয় নতুন প্রত্যাশার। রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সংস্কার, গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন নিশ্চিত করা, জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ে তোলা এবং জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার যে অঙ্গীকার সামনে এসেছিল, দীর্ঘ দুই বছর পর সেই প্রত্যাশার হিসাব মেলানোর সময় এসেছে।

কোনো দেশে গণ-অভ্যুত্থান হয় রাষ্ট্রের চরিত্র পরিবর্তনের দাবি নিয়ে, শুধু সরকার পরিবর্তনের জন্য নয়। বাংলাদেশের মানুষও সেই প্রত্যাশায় আন্দোলনের পক্ষে বুক পেতে দাঁড়িয়েছিল। সেদিন তারা এমন একটি রাষ্ট্র চেয়েছিল, যেখানে আইন সবার জন্য সমান হবে, রাজনৈতিক মতভেদ দমনপীড়নের কারণ হবে না, বিচারব্যবস্থা স্বাধীন থাকবে এবং রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয় প্রভাবমুক্ত হয়ে কাজ করবে।

শুরুতে সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণে কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। নির্বাচনব্যবস্থা, প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা এবং সাংবিধানিক সংস্কার নিয়ে আলোচনা ও প্রক্রিয়া শুরু হয়। বিভিন্ন কমিশন গঠন এবং বহু পুরোনো সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হয়েছিল। এ ছাড়া রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামো নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি হয়। এরপর দেখতে দেখতে পরিবর্তনের সব যাত্রা থেমে গেল।

এখন সবকিছুই অসমাপ্ত। নির্বাচন হলো, নতুন সরকার ক্ষমতায় এল। তারপরও কোনো পরিবর্তন হলো না। আজকের এই দিনে কথাটি এখন স্পষ্ট করে বলার সময় এসেছে, দুই বছর পরও জনগণের কোনো প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।

গণ-অভ্যুত্থানের পর আরেকটি বড় প্রত্যাশা ছিল জাতীয় ঐক্য। তারও কিছুই হয়নি; বরং রাজনৈতিক বিভাজন আরও বেড়েছে। সেই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করানোর অপচেষ্টা করা হয়েছে। মনে রাখতে হবে, অতীতের অন্যায়ের বিচার যেমন জরুরি, তেমনি প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকেও বেরিয়ে আসা সমান গুরুত্বপূর্ণ। আইনের শাসনের অর্থ হলো, প্রতিটি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। সেই ভারসাম্য রক্ষা করাই রাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের পরিবেশ নিয়েও মানুষের প্রত্যাশা ছিল। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে স্বাধীন সংবাদমাধ্যম শুধু সরকারের সমালোচক নয়; বরং রাষ্ট্রের জবাবদিহি নিশ্চিত করার অন্যতম স্তম্ভ। তাই এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে সাংবাদিকেরা ভয় অথবা চাপ ছাড়াই সত্য তুলে ধরতে পারবেন এবং নাগরিকেরাও স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারবেন। একইভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃশ্যমান এবং নিরপেক্ষ অবস্থান জনগণের আস্থা পুনর্গঠনের জন্য অপরিহার্য।

গণ-অভ্যুত্থানের সাফল্য সরকার পরিবর্তনে নয়; এর প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে এমন একটি রাষ্ট্র গড়ে তোলার ওপর, যেখানে ক্ষমতার উৎস হবে জনগণ, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ থাকবে না, প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করবে স্বাধীনভাবে এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রতিফলিত হবে গণতন্ত্র। সেই অঙ্গীকার রক্ষা করতে পারলেই ইতিহাস বলবে—বাংলাদেশ একটি নতুন রাষ্ট্রচিন্তার ভিত্তি স্থাপন করেছিল।

পাউরুটি

সেতু সমাচার

মগের মুলুক

নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি

প্রতারণা

জামায়াত এমপির কন্যার কাণ্ড

পরোয়ানা

ইস্ট ইন্ডিয়া ১৮১৮

লোভী চিকিৎসক

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ