হোম > মতামত > সম্পাদকীয়

আত্মসাৎ

সম্পাদকীয়

মাত্র ৬০ কেজি চালের লোভ যদি সামলাতে না পারেন, তাহলে আদতেই কি জনগণের খেদমত করতে পারেন কোনো ইউপি সদস্য? বরিশালের আগৈলঝাড়ায় এক নারীর ভিডব্লিউবি কার্ডের চাল নিজের স্বাক্ষরে তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক নারী ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। সংরক্ষিত মহিলা আসনের অভিযুক্ত এই ইউপি সদস্য ঘটনাটিকে ভুল বলে দাবি করেছেন। কিন্তু এই ‘ভুল’ যে ঘটেছে, সে ব্যাপারে তো কোনো সন্দেহ নেই। আর এই ভুলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিলেন একজন অসহায় নারী!

আমাদের দেশের মানুষ খুব সুখে আছে, এ রকম ভাবার কোনো কারণ নেই। আকাশছোঁয়া দ্রব্যমূল্য, বেকারত্ব, রাজনৈতিক অস্থিরতা, মাস্তানি, চাঁদাবাজিসহ নানা ঘটনায় চারদিক যখন বিপর্যস্ত, তখন ছোট ছোট কত ঘটনা লোকচক্ষুর অগোচরে ঘটে যাচ্ছে, তার কি ইয়ত্তা আছে? যদি এই আত্মসাতের ঘটনা খবরের কাগজে প্রকাশিত না হতো, তাহলে কি কেউ জানতে পারত? মাত্র ৬০ কেজি চালের লোভ সামলাতে পারছেন না একজন ইউপি সদস্য; এটা কি মেনে নেওয়ার মতো ঘটনা?

জনগণের সেবা করার জন্য যাঁরা দায়িত্ব নেন, তাঁদের বিশ্বাস না করলে কাকে বিশ্বাস করা যাবে? সরকারি নানা প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের বহু ঘটনা আগেও ঘটেছে। যে বিশ্বাসের কথা বলা হলো, সে বিশ্বাসে আসলে চিড় ধরেছে অনেক আগেই। তারপরও মানুষ রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে সততা ও নিষ্ঠা আশা করে। গ্রামের প্রতিটি মানুষ সবাই সবাইকে চেনে। তারা তাদের সুখ-দুঃখের কথাও জানে। কারা ভালো আছে, কারা কোনোভাবে টিকে আছে, সেটাও কারও অজানা থাকে না। কিন্তু রাজনীতি এমন এক জায়গায় এসে পৌঁছেছে, যেখানে সমাজটাই বিভক্ত হয়ে গেছে। সামগ্রিকভাবে সমাজের যে ছন্দ থাকার কথা, তা বিপর্যস্ত হয়ে গেছে। পারস্পরিক সহাবস্থানের মাধ্যমে ভিন্নমত প্রকাশের অধিকারের চর্চা করাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। কিন্তু বিভক্ত সমাজে সেই সৌন্দর্যের চর্চা কতটা বজায় থাকে, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। অথচ নির্বাচিত যেকোনো জনপ্রতিনিধি তাঁর নির্বাচক জনগণের প্রতি দায়িত্ব পালন করবেন, সেটাই স্বাভাবিক হওয়ার কথা। কিন্তু সেখানে কী হচ্ছে, তার একটি ছোট উদাহরণ এখন আমাদের সামনে। ছোট লোভকেও ছাড়তে পারছেন না জনপ্রতিনিধিরা!

প্রান্তিক মানুষের জীবনে খানিকটা সুখ আনার জন্য যেসব প্রকল্প চালু হয়েছে, তা যদি নির্দিষ্ট মানুষেরা না পায়, তাহলে সেসব প্রকল্পের উদ্দেশ্যই তো আর কাজ করবে না। দরিদ্র মানুষদের জন্য যেসব কার্ড দেওয়ার কথা, তা ক্ষমতাসীন দলের নেতার কাছের লোকদের মধ্যে ভাগ-বাঁটোয়ারা করে নেওয়ার মতো ঘটনার কথাও তো আমরা জানি। সে পরিস্থিতির পরিবর্তন কাম্য ছিল সবার। কিন্তু পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে, এমন কথা কি জোর দিয়ে বলা যাবে?

আগৈলঝাড়ার সংরক্ষিত ইউপি সদস্যের মতো ‘ভুল’ যেন কোনো জনপ্রতিনিধি না করেন, তার নিশ্চয়তা কে দেবে? দেশ ও দশের জন্য রাজনীতি আপ্তবাক্য হয়েই থাকবে, নাকি বাস্তবে

তা দেখা যাবে?

ব্যর্থতাই সাফল্যের ভিত্তি

শিক্ষকের লজ্জা

সমালোচনা

জেলেদের সঙ্গে প্রতারণা

ডিলার নিয়োগে অনিয়ম

মুক্তিযোদ্ধার লাশ

ভয়ের বিষয়

পরকীয়ার শাস্তি

অন্যপাতা

শিশুদের সাইবার হয়রানি