হোম > মতামত > সম্পাদকীয়

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস

সম্পাদকীয়

৭ নভেম্বর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ দিন। দেশের চরম রাজনৈতিক অস্থির সময়ে সামরিক অভ্যুত্থান ও অরাজক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহি ও জনতার এক অভূতপূর্ব ঐক্যের সমাবেশ ঘটেছিল। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা অর্জনের মাত্র চার বছরের মাথায় বাংলাদেশ যখন বারবার সামরিক অভ্যুত্থান, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং সার্বিক অস্থিতিশীলতার মুখে পড়েছিল; তখন ৭ নভেম্বরের ঘটনাবলি দেশ ও জাতির ভূরাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষায় ঐক্যের নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মাত্র কয়েক দিন আগে ৩ নভেম্বর অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে সুযোগসন্ধানীরা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করে। সেনাবাহিনীর মধ্যে নানা ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় রাজনীতির পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যেও তখন বিভ্রান্তি এবং চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।

একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে সামরিক বাহিনীর ভূমিকা অপরিসীম। ওই সময়ে সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরে ও বাইরের পরিবেশ নাজুক হয়ে পড়েছিল। ৩ নভেম্বর ঢাকা সেনানিবাসে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে একটি সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দী করা হয়।

এই চরম শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতে ৭ নভেম্বরের প্রথম প্রহরে ল্যান্স নায়েক খন্দকার জিয়াউল হকের নেতৃত্বে ঢাকা সেনানিবাসে সিপাহিরা বিদ্রোহের মাধ্যমে বন্দিদশা থেকে জনপ্রিয় সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করেন। তিনি মুক্ত হওয়ার পর ঢাকার রাস্তায় নেমে আসে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ। সেদিন রাজধানী ঢাকায় উচ্চারিত হয়েছিল ঐতিহাসিক স্লোগান ‘সিপাহি-জনতা ভাই ভাই’।

এটি নিছক সামরিক বাহিনীর ভেতরের কোনো ক্ষমতার পরিবর্তন ছিল না; বরং এতে দৃশ্যমান হয়েছিল গণমানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে ওঠা জাতীয় সংহতির বহিঃপ্রকাশ। দিনটি একদিকে যেমন দেশের স্বাধীনতার ভিত্তিকে সুদৃঢ় করার বার্তা নিয়ে এসেছিল, অন্যদিকে একটি বিভক্ত জাতিকে ঐক্যবদ্ধের প্রক্রিয়ার সূচনা করেছিল। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের পর থেকে বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের চর্চা, অর্থনীতিতে স্বনির্ভরতার ধারা তৈরি এবং নিজস্ব পরিচয়ে বিশ্বমঞ্চে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা ঘটে। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সামরিক বাহিনীতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং অভ্যন্তরীণ বিভাজন দূর করে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার পথে ৭ নভেম্বর হয়ে উঠেছিল মূল ভিত্তি।

দিবসটিকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে ভিন্ন অবস্থান রয়েছে। তারপরও বলতে হয়, জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সমুন্নত রাখার প্রশ্নে এই দিবসের গুরুত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। ৭ নভেম্বরের শিক্ষা হলো, দেশ যখন অভ্যন্তরীণ বা বৈদেশিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে, তখন দল-মতনির্বিশেষে সবাইকে দেশের জন্য ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দেশের স্বার্থে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না। জাতীয় সংকটে সকল বিভেদ ভুলে দেশপ্রেমে একতাবদ্ধ হতে হবে।

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন

বাংলাদেশ নিয়ে শঙ্কা

একই সড়ক দুবার উদ্বোধন

শ্রমিক অসন্তোষ

আত্মসাৎ

ব্যর্থতাই সাফল্যের ভিত্তি

শিক্ষকের লজ্জা

সমালোচনা

জেলেদের সঙ্গে প্রতারণা

ডিলার নিয়োগে অনিয়ম