ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাঁরা বিজয়ী হয়েছেন তাঁদের ফলাফলের গেজেট দ্রুত প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে তাঁদের শপথ পড়াবেন কে, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
নির্বাচনে বিএনপি ২০৯ আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে। জামায়াতে ইসলামী এবার তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়ে আসন পেয়েছে ৬৮টি। ২৯৯ আসনের মধ্যে ২৯৭ আসনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী চট্টগ্রামের দুটো আসনের ফলাফল পরে দেওয়া হবে। জামায়াতের প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে।
আজ শুক্রবার নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ জানান, সংসদ নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৫৯.৪৪ শতাংশ। এ হার ২৯৭ আসনের প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে। আর গণভোটে প্রদত্ত ভোটের হার ৬০.২৬ শতাংশ। ২৯৯ আসনের গণভোটের তথ্য একীভূত ফলাফলে এ হার।
গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে হয়েছে। এই নির্বাচনে কোন দল কত আসন পেয়েছে, তাও জানিয়েছেন ইসি সচিব।
২৯৭ আসনের ফলাফল:
বিএনপি ২০৯টি আসন, জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১টি, গণঅধিকার পরিষদ ১টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ১টি, গণসংহতি আন্দোলন ১টি, খেলাফত মজলিস ১টি ও স্বতন্ত্র ৭টি আসন পেয়েছে।
গেজেট ও প্রার্থীদের শপথ
ইসি সচিব জানান, যত দ্রুত সম্ভব ২৯৭ আসনে বিজয়ীদের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের ব্যবস্থা নেবে ইসি সচিবালয়। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ফলাফল শিট পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গেজেট প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একসঙ্গে সবার নাম, ঠিকানাসহ গেজেট প্রকাশ করা হবে।
জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল গণমাধ্যমকে বলেন, দ্রুত ২৯৭ জনের গেজেট প্রকাশ করা হতে পারে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারের কাছে পাঠাবে ইসি সচিবালয়।
২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব নেন শিরীন শারমিন চৌধুরী। তিনি বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন। তাঁর সঙ্গে ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব নেন শামসুল হক টুকু। তিনি এখন মামলার আসামি হয়ে কারাগারে রয়েছেন। ফলে, নতুন সংসদ সদস্যদের কে শপথ পড়াবেন, তা নিয়ে এক ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছে। যদিও তিন দিন পরে সংবিধান অনুযায়ী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার নবনির্বাচিতদের শপথ পাঠ করাতে পারেন।
নির্বাচন কমিশনার মাছউদ বলেন, ১৪৮ এর ৩ ধারায় বলা হয়েছে, স্পিকার অথবা ডেপুটি স্পিকার যদি না পড়ান, বা তাঁরা পড়াতে অসমর্থ হন বা না থাকেন, তাহলে তিন দিন পরেও চতুর্থ দিন থেকে পরবর্তী দিন প্রধান নির্বাচন কমিশনারই শপথ পাঠ করাবেন। তিনি বলেন, সামনে রোজা থাকায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ইসির কাজ গেজেট প্রকাশ করা। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে সরকার। দ্রুত শপথ করে রমজানের আগেই চাইলে সরকার গঠন করতে পারে।
এর আগে, ৫ ফেব্রুয়ারি আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছিলেন, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির মনোনীত ব্যক্তি নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন।কোনো কারণে রাষ্ট্রপতির মনোনীত ব্যক্তির মাধ্যমে এই শপথ গ্রহণ না হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়াতে পারবেন।