হোম > জাতীয়

কোটার হার পরিবর্তন করতে পারবে সরকার, পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হাইকোর্টের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

সরকারি চাকরিতে কোটা (৯ম থেকে ১৩তম গ্রেড) বাতিল করে ২০১৮ সালে জারি করা পরিপত্র অবৈধ ঘোষণার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। 

আজ রোববার বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি খিজির হায়াতের বেঞ্চ ২৭ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশ করেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার সংক্ষিপ্ত রায় প্রকাশ করা হয়েছিল। 

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ সাইফুজ্জামান আজকের পত্রিকাকে বলেন, আপিল বিভাগ কোটার বিষয়ে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে আদেশ দিয়েছেন। এর ফলে আপাতত হাইকোর্টের রায় কার্যকর হবে না। রায়ের নকল পেলে দু-এক দিনের মধ্যে লিভ টু আপিল করা হবে বলে জানান তিনি। 

সরকার প্রয়োজনে কোটার অনুপাত পরিবর্তন, হ্রাস বা বৃদ্ধি করতে পারবে। আর এই রায় সরকারের ওপর কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না। কোনো পাবলিক পরীক্ষায় কোটা পূরণ না হলে সরকার সাধারণ মেধাতালিকা থেকে শূন্য পদ পূরণ করতে পারবে। 

রায়ে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, নাতি–নাতনিদের জন্য কোটা পুনর্বহাল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জেলা, নারী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য কোটা বজায় রাখতে বলা হয়। রায় পাওয়ার তিন মাসের মধ্যে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব—এই বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে বলা হয়েছে। 

সরকারি চাকরিতে ৯ম থেকে ১৩তম গ্রেডে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করে জারি করা পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে গত ৫ জুন রায় দেন হাইকোর্ট। পরে হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। এ ছাড়া রায় স্থগিত চেয়ে পৃথক আবেদন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আল সাদী ভূঁইয়া এবং উর্দু বিভাগের শিক্ষার্থী আহনাফ সাঈদ খান। 

১০ জুলাই দুটি আবেদন একসঙ্গে শুনানি করে আদেশ দেন আপিল বিভাগ। আদেশে সরকারি চাকরিতে নিয়োগে কোটার বিষয়ে চার সপ্তাহের স্থিতাবস্থা জারি করা হয়। একই সঙ্গে এই বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৭ আগস্ট দিন ধার্য করেন আদালত। 

আপিল বিভাগ আন্দোলনকারীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আইনজীবীর মাধ্যমে তাঁদের বক্তব্য তুলে ধরতে পারবেন। আদালত মূল আবেদন নিষ্পত্তির সময় তাঁদের সে বক্তব্য বিবেচনায় নেবেন।

আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, ‘আপিল বিভাগ সাবজেক্ট মেটারে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে বলেছেন। হাইকোর্টের রায়ের আগে যে অবস্থা ছিল, সেটাই হলো। 

দুই শিক্ষার্থীর আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক বলেন, আপিল বিভাগের আদেশের ফলে ২০১৮ সাল থেকে যেভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলে আসছিল, সেভাবে চলবে। 

২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর জারি করা পরিপত্রে বলা হয়, ৯ম (পূর্বতন প্রথম শ্রেণি) এবং ১০ম থেকে ১৩তম গ্রেডের (পূর্বতন দ্বিতীয় শ্রেণি) পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে। ৯ম গ্রেড (পূর্বতন প্রথম শ্রেণি) এবং ১০ম থেকে ১৩তম গ্রেডের (পূর্বতন দ্বিতীয় শ্রেণি) পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি বাতিল করা হলো। পরে ওই পরিপত্র চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন অহিদুল ইসলামসহ ৭ শিক্ষার্থী। হাইকোর্ট ওই পরিপত্র বাতিল করে রায় দেন।

আরও খবর পড়ুন:

লিবিয়ার ডিটেনশন সেন্টার থেকে ফিরলেন ১৭৪ বাংলাদেশি

ওসমান হাদির জবানবন্দি গ্রহণ করলেন ট্রাইব্যুনাল

জ্বালানি সংকট সমাধানে কমিটিতে বিরোধী দলের যাঁরা

শামীম ওসমানসহ ১২ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ ৫ মে

চট্টগ্রামে পর্যাপ্ত বিমান শক্তি থাকলে রোহিঙ্গা সংকট সৃষ্টি হতো না: সেনাপ্রধান

ঢাকায় হবে ১১০ মেগাওয়াটের লোডশেডিং: সংসদে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

শিক্ষা খাতে আ.লীগ আমলের দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে: সংসদে শিক্ষামন্ত্রী

এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শূন্য পদ ৭৭,২২৭টি—শিগগিরই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি: সংসদে শিক্ষামন্ত্রী

শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে মায়ের দুধের ভূমিকা অনন্য: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

জ্বালানি সংকট সমাধানে সরকার ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে কমিটি ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী