হোম > জাতীয়

কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে অভিযোগ কমিটি গঠন বাধ্যতামূলক করে অধ্যাদেশ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিতে এই দুই জায়গায় অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি (আইসিসি) গঠন বাধ্যতামূলক করে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ-২০২৬ জারি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অধ্যাদেশটির অনুমোদন দেওয়া হয় বলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো বার্তায় জানানো হয়েছে।

বার্তায় বলা হয়, যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশে যৌন হয়রানির বিস্তৃত সংজ্ঞায়ন করা হয়েছে; যেখানে শারীরিক, মৌখিক, অ-মৌখিক, ডিজিটাল ও অনলাইন আচরণসহ জেন্ডারভিত্তিক সব অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপমানজনক কার্যকলাপ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ই-মেইল, মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ও অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে সংঘটিত হয়রানিকেও এর আওতায় আনা হয়েছে।

বার্তায় আরও বলা হয়, কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গঠিত কমিটি অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত, তদন্তকালীন সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং উপযুক্ত শাস্তির সুপারিশ করতে পারবে। শাস্তির মধ্যে রয়েছে তিরস্কার, পদাবনতি, চাকরিচ্যুতি বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বহিষ্কার। অভিযোগের কারণে কোনো ধরনের প্রতিশোধমূলক আচরণ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে মিথ্যা অভিযোগের ক্ষেত্রে সুবিচার নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট সুরক্ষাব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে প্রকৃত ভুক্তভোগীরা নিরুৎসাহিত না হন।

এ ছাড়া অধ্যাদেশে অসংগঠিত খাত, যেখানে অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি গঠন সম্ভব নয়, সেখানে স্থানীয় অভিযোগ কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে এই কমিটি গঠিত হবে, যাতে সব নাগরিক অভিযোগ জানানোর কার্যকর সুযোগ পান।

বার্তায় বলা হয়, অধ্যাদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং এর পরিধি পুরো বাংলাদেশে বিস্তৃত হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বাইরে অবস্থিত সরকারের অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য হবে। অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন ও তদারকির জন্য জাতীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মনিটরিং কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের আর্থিক সহায়তা, পুনর্বাসন, কাউন্সেলিং, আইনি সহায়তা ও সচেতনতা কার্যক্রমের জন্য একটি বিশেষ তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সরকার মনে করছে, অধ্যাদেশটি কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী আইনি ভিত্তি দেবে এবং সম্মানজনক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

একই সঙ্গে আজ নারী ও শিশুর সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, পারিবারিক সহিংসতায় সংঘটিত অপরাধ প্রতিরোধ ও দমন, দ্রুত বিচার এবং ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক প্রতিকার ব্যবস্থা কার্যকর করতে পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ অধ্যাদেশ-২০২৬ অনুমোদন করেছে সরকার।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো বার্তায় বলা হয়, এ অধ্যাদেশের মাধ্যমে পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০ রহিত করে অধিক পরিপূর্ণ ও সময়োপযোগী একটি আইনি কাঠামো প্রবর্তন করা হলো। সরকারের লক্ষ্য, পরিবারকে নিরাপদ পরিসর হিসেবে সুরক্ষিত রাখা এবং সহিংসতার শিকার নারী ও শিশুর জন্য দ্রুত সুরক্ষা, নিরাপদ আশ্রয়, চিকিৎসা, আইনগত সহায়তা এবং পুনর্বাসন নিশ্চিত করা।

অধ্যাদেশে পারিবারিক সহিংসতাকে বিস্তৃতভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। শারীরিক নির্যাতন, মানসিক নির্যাতন, যৌন আচরণ/নির্যাতন ও আর্থিক নির্যাতন সবই এর আওতাভুক্ত। এ ছাড়া মানসিক স্বাস্থ্য ক্ষুণ্ন করার মতো আচরণকে মানসিক নির্যাতনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং ডিজিটাল মাধ্যমে সংঘটিত মানসিক নির্যাতনের বিষয়েও প্রাসঙ্গিক আইনি সংযোগ উল্লেখ করা হয়েছে।

বিইআরসির গণশুনানি: ৫০.৮২ টাকায় ফার্নেস অয়েল চায় পিডিবি

আট নির্বাচনে নিহত অন্তত ৬৪৭ জন

টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র বিস্ফোরণ: নাইকোকে ৪২ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ

১৪ বছর পর দেড় শ যাত্রী নিয়ে সরাসরি পাকিস্তান গেল বিমানের ফ্লাইট

কোনো দলের প্রতি ন্যূনতম পক্ষপাত সহ্য করা হবে না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে আমরা ঘরে ফেরার জন্য প্রস্তুত: ধর্ম উপদেষ্টা

সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

গণভোটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট চাওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ: ইসি

ঝিনাইগাতীর ঘটনায় ঢালাও গ্রেপ্তার না করে ‘সুনির্দিষ্টভাবে দায়ীদের চিহ্নিত’ করছে পুলিশ

নিউমুরিং টার্মিনাল পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানি বৈধ, হাইকোর্টের রায়ের পর বিক্ষোভ