একাদশ জাতীয় সংসদের পঞ্চদশ অধিবেশন শেষ হয়েছে। আজ রোববার দুপুরে অধিবেশন সমাপ্তি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতির আদেশ পড়ে শোনানোর মধ্য দিয়ে অধিবেশনের ইতি টানেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। এর আগে অধিবেশনে সমাপনী ভাষণ দেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিরোধী দলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের।
অধিবেশন সমাপনীর আগে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিজয়ের পর ৩ জানুয়ারি তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া ভাষণের ভিডিওচিত্র অধিবেশন কক্ষের স্ক্রিনে দেখানো হয়।
পঞ্চদশ অধিবেশন শুরু হয়েছিল গত ১৪ নভেম্বর। একজন সংসদ সদস্য মারা যাওয়ার কারণে অধিবেশন একবার মুলতবি করা হয়। শেষ হওয়া এ অধিবেশনের কার্যদিবস ছিল নয়টি। এতে উত্থাপিত মোট নয়টি বিলের সবক’টি পাস হয়েছে। অধিবেশনে ৭১ বিধিতে ৪২টি নোটিশের একটি নিয়েও আলোচনা হয়নি। এগুলোর লিখিত জবাবও দেওয়া হয়নি।
প্রধানমন্ত্রীর উত্তর দেওয়ার জন্য মোট ৪১টি প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। এর মধ্যে ১০টি প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। অন্য মন্ত্রীদের জন্য প্রশ্ন জমা পড়ে ১ হাজার ১২ টি। এর মধ্যে ৫৬৬টি প্রশ্নের উত্তর তাঁরা দিয়েছেন, যা টেবিলে উপস্থাপিত হয়েছে।
ইউনেসকো কর্তৃক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে একটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ ফর দ্য ক্রিয়েটিভ ইকোনমিকস’ প্রবর্তন করায় সংস্থাটিকে ধন্যবাদ জানিয়ে কার্যপ্রণালি বিধির ১৪৭ বিধিতে সাধারণ আলোচনা হয়। এটি জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতভাবে গ্রহণ করা হয়।
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে একটি বিশেষ আলোচনার আয়োজন করা হয় শেষ হওয়া অধিবেশনে। আলোচনার শুরুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বক্তব্য রাখেন। এ জন্য রাষ্ট্রপতিকে সংসদের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানান স্পিকার। তিনি বলেন, এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন সংসদ নেতা শেখ হাসিনা। তিনি তাঁর বক্তব্য রাখেন। এই প্রস্তাবের ওপর ২৪ ও ২৫ নভেম্বর বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। তাতে ৫৯ জন সংসদ সদস্য আলোচনায় অংশ নেন। ১০ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের এ আলোচনা পরে জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিতে প্রস্তাব আকারে গৃহীত হয়।