ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর
দীর্ঘ দুই দশকের অপেক্ষা আর রক্তক্ষয়ী ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। ১৭ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের প্রায় দুই বছর পর এই ক্ষমতা হস্তান্তর অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বইছে উৎসবের আমেজ।
ঐতিহ্যগতভাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবনের দরবার হলে অনুষ্ঠিত হয়। তবে এবার এতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। জানা গেছে, ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হবে। সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ও গণ-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতেই এই বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্র বলছে।
এই রাজকীয় আয়োজনে অংশ নিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান ও আঞ্চলিক নেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে ঢাকা। তবে কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক থাকায় মোদির ঢাকা সফর অনিশ্চিত। পিটিআই আরও জানিয়েছে, মোদির পরিবর্তে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর অথবা উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণন।
নির্বাচনে জয়ের পর মোদির অভিনন্দন বার্তার জবাবে বিএনপি তাদের আন্তর্জাতিক নীতি স্পষ্ট করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে দলটি জানায়, ‘আমরা পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সংবেদনশীলতা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার অঙ্গীকার নিয়ে ভারতের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করতে আগ্রহী।’
উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে শেখ হাসিনার ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর দুই বছর ধরে দুই দেশের মধ্যে একধরনের শীতল সম্পর্ক বিরাজ করছিল। এই অবস্থায় তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে মোদির আমন্ত্রণ এবং বিএনপির ইতিবাচক বার্তা নতুন কূটনৈতিক মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের সঙ্গে একটি সংক্ষিপ্ত মন্ত্রিসভাও শপথ নেবে। শুরুতে ছোট পরিসরে সরকার পরিচালনা শুরু হলেও পরে মন্ত্রিসভার আকার বাড়ানো হতে পারে। একই দিনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদেরও শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে।
ইতিমধ্যে অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি তদারকি করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও বিএনপির শীর্ষ নেতারা। সব মিলিয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি রাজধানী ঢাকার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা বিশ্বরাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হতে যাচ্ছে।