২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মতো পরিস্থিতি যেন ভবিষ্যতে আর কখনো সৃষ্টি না হয়, সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, একটি উদার গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই ছিল গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, যেখানে জনগণের ভোটে সরকার ক্ষমতায় আসবে এবং জনগণের ইচ্ছায় ক্ষমতা ছাড়বে।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীতে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানভিত্তিক অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রকাশনা সিরিজের বিশেষ পর্ব ও স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাহেদ উর রহমান এসব কথা বলেন।
ডা. জাহেদ বলেন, ‘আমরা চেয়েছি একটা উদার গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ, যেখানে নিয়মিত নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার দায়িত্বে আসবে। নির্বাচনের মাধ্যমে আবার চাইলে জনগণ সেই সরকারকে বিদায় করে দিতে পারবে। জনগণের ভোটে যখন সরকার আসবে, তখন তাকে জনগণের কথা শুনতেও হবে, এটাই নিয়ম। এভাবেই গণতন্ত্র কাজ করে।’
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘আমরা আশা করি, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশে চব্বিশের মতো ঘটনা আর কখনো না ঘটুক। এটাই আমাদের জাতীয় জীবনের শেষ গণ-অভ্যুত্থান হয়ে থাকুক।’
এই অনুষ্ঠানে জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ, আহত যোদ্ধাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং ইতিহাস সংরক্ষণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
অনুষ্ঠানে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন প্রযোজিত একটি প্রামাণ্যচিত্রের বিশেষ প্রদর্শনী করা হয়। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্রটি তাঁদের আত্মত্যাগ, সংগ্রাম ও অবদানের ইতিহাস তুলে ধরে। এ ছাড়া মেটাল এরর ও কুঁড়েঘর ব্যান্ডের সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস, আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের বার্তা তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জুলাই কেবল একটি সময়ের নাম নয়। এটি ন্যায়, আত্মত্যাগ, জনগণের অধিকার এবং জাতীয় ইতিহাসের এক অবিনাশী প্রতীক। এই চেতনাকে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে ইতিহাস সংরক্ষণ, গবেষণা, প্রামাণ্য দলিল নির্মাণ এবং সাংস্কৃতিক উদ্যোগের বিকল্প নেই। জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের ধারাবাহিক উদ্যোগ এ ক্ষেত্রে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা, প্রযোজক ও পরিচালক হেলাল খান, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা রহমান তানি এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি চৌধুরী মাজাহার আলী।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক মো. জাভেদ ইকবাল, শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত জুলাই যোদ্ধা এবং বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের সার্বিক সমন্বয়ে ছিল বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (বিসিটিআই)।