দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বড় দুটি পর্যটন দেশ ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ড। এই দেশ দুটি আঞ্চলিক বিমান চলাচল হাব হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে প্রতিযোগিতায় নেমেছে। ক্রমবর্ধমান যাত্রী এবং কার্গো পরিবহনের চাপ সামলাতে দুই দেশই তাদের বিমানবন্দর অবকাঠামো ঢেলে সাজাতে বিপুল বিনিয়োগের মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
বিশ্বের জনবহুল দুটি বাজার চীন ও ভারত। এর ঠিক মাঝখানে অবস্থিত থাইল্যান্ড। এই কৌশলগত অবস্থান কাজে লাগিয়ে পুরো আসিয়ান ও এশিয়া অঞ্চলে প্রধান ট্রানজিট এবং লজিস্টিকস হাব হতে চায় দেশটি। থাই উপপ্রধানমন্ত্রী ও পরিবহনমন্ত্রী পিপিফাত রাতচাকিতপ্রাকার্ন জানান, এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ব্যাংককের প্রধান সুবর্ণভূমি বিমানবন্দরের ইস্ট এক্সপেনশন প্রকল্প ক্যাবিনেটের অনুমোদনের জন্য পেশ করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ বিলিয়ন থাই বাথ বা ৩৬৭ মিলিয়ন ডলার। ২০২৭ সালে এর নির্মাণকাজ শুরু হয়ে শেষ হবে ২০২৯ সালের মধ্যে। বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভূমির আয়তনে দ্বিতীয় বৃহত্তম এই বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রী ধারণক্ষমতা ৬০ মিলিয়ন থেকে বাড়িয়ে ৭০ মিলিয়নে উন্নীত করা হবে। সুবর্ণভূমির পাশাপাশি ডন মুয়াং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারণকাজ শেষ হলে ব্যাংককের এই প্রধান দুটি প্রবেশদ্বার বছরে প্রায় ১২০ মিলিয়ন যাত্রী পরিচালনা করতে পারবে। এ ছাড়া চলতি বছরের মধ্যে সুবর্ণভূমির কার্গো ভলিউম ২ দশমিক ৩ মিলিয়ন টন ছাড়িয়ে যাবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
ভৌগোলিক অক্ষ বরাবর উত্তর থেকে দক্ষিণে বিমানবন্দর নেটওয়ার্ক তৈরি করে শক্তিশালী অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলতে চায় ভিয়েতনাম। বর্তমানে দেশটিতে ২২টি বিমানবন্দর সচল রয়েছে এবং ৫টি নতুন বিমানবন্দর নির্মাণের কাজ চলছে। ভিয়েতনামের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে তাদের মোট বিমানবন্দরের সংখ্যা ৩২-এ নিয়ে যাওয়া। এগুলোর মধ্যে লং থান, গিয়া বিনসহ ৭টি সম্পূর্ণ নতুন বিমানবন্দর চালু করা হবে। ২০৫০ সালের মধ্যে আরও ৩টি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর যুক্ত হয়ে মোট সংখ্যা দাঁড়াবে ৩৫।
নতুন বিমানবন্দর এবং বর্তমানগুলোর আপগ্রেডেশনের মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক বার্ষিক যাত্রী ধারণক্ষমতা ২২০ মিলিয়নে পৌঁছাবে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে বার্ষিক যাত্রী প্রবাহ ১৯১ মিলিয়ন এবং বিমান কার্গো পরিবহন ৩ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন টনে পৌঁছাবে। ২০২১ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে এই বিশাল বিমানবন্দর নেটওয়ার্ক গড়তে ভিয়েতনামের প্রায় ৪৮৫ ট্রিলিয়ন ভিয়েতনামি ডং বা ১৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে। এই বিপুল অর্থের ৫৫ শতাংশ সরকারি তহবিল থেকে এবং বাকি ৪৫ শতাংশ বেসরকারি বিনিয়োগ ও পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ মডেল থেকে আসবে। ২০২৭ সালে শেষ হতে যাওয়া গিয়া বিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি এপেকের শীর্ষ সম্মেলন সামনে রেখে তৈরি করছে মাস্টাররাইজ গ্রুপ।
দুই দেশের এই বিমানবন্দর সম্প্রসারণের চিত্র স্পষ্ট করে দিয়েছে, আগামী দিনগুলোতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আকাশপথের নিয়ন্ত্রণ ও লজিস্টিকস ব্যবসা নিজেদের কবজায় নিতে থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম কেউ কাউকে একচুলও ছাড় দিতে রাজি নয়। এবার দেখার বিষয়, কে হতে চলেছে আঞ্চলিক বিমান চলাচল হাব।