এই গরমে সারা দিনের ক্লান্তি নিয়ে বাড়ি ফিরে ত্বকের যত্নে নানা রকম প্যাক তৈরি করে মেখে গোসল করাটা জটিল। তাই বলে একেবারেই যদি ত্বকের যত্ন না নেওয়া হয়, তাহলে কী অবস্থা হবে, তা তো বুঝতেই পারছেন। বলছি, ব্যস্ততার ফাঁকে নিজের জন্য একটুখানি সময় বরাদ্দ রাখুন। আর বেছে নিন সর্বগুণসমৃদ্ধ যেকোনো প্রাকৃতিক উপাদান। তবে সেই প্রাকৃতিক উপাদান পেতে ঢুঁ মারতে হবে রান্নাঘরে। ভিটামিন সি, কে ও বিটা ক্যারোটিনযুক্ত শসা আপনার ত্বকের সব সমস্যার সমাধান করতে একাই এক শ! এই শসা গরমে আপনার ত্বক ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি উপকারী হয়ে উঠবে আরও নানা কারণে। চট করে পড়ে ফেলুন সেগুলো—
সুস্থ ও তারুণ্যদীপ্ত ত্বকের জন্য শুধু শসাই যথেষ্ট। শসার কুলিং প্রোপার্টি প্রাকৃতিক টোনার ও এসট্রিনজেন্ট হয়ে ত্বকের যত্ন নেয়। তৈলাক্ত ত্বকের বাড়তি তেল শুষে নিয়ে বাড়ায় ত্বকের উজ্জ্বলতা। শসার রস ব্রণের দাগ মুছে দেয়। যেহেতু শসার ৯৫ শতাংশই পানি, তাই ময়শ্চারাইজিংয়ের কাজটাও সেরে নিতে পারেন শসা দিয়ে। ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে ও মুখ পরিষ্কার করতে রাসায়নিক উপাদানযুক্ত ফেসওয়াশের বদলে শসার রস ব্যবহার করুন। এটি ৩০ মিনিট রেখে ঠান্ডা পানির ঝাপটায় মুখ ধুয়ে ফেলুন। শসার রসের প্রলেপ রোমকূপ পরিষ্কার রাখে। তাই ত্বক আরও বেশি অক্সিজেন ধরে রাখতে পারে।
শসার প্রায় পুরোটাই পানি। তাই এটি ত্বকে পানির ভারসাম্য রক্ষা করে। শুষ্ক নিষ্প্রাণ ও নির্জীব ত্বকে ময়শ্চারাইজার ক্রিম না লাগিয়ে শসার রস বেছে নিন। সরাসরি ব্যবহার ছাড়া প্রতিদিনকার ফেস মাস্কে পানির পরিবর্তে শসার রস ব্যবহার করতে পারেন। হাইড্রেটিং ফেস মাস্ক তৈরির জন্য সমপরিমাণ শসার রস ও টক দই দিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানসমৃদ্ধ এ দুটি উপাদানই ঠান্ডা। টক দই না থাকলে কাঁচা দুধ ও শসার রস দিয়ে মিশ্রণ বানিয়ে মুখে, গলায় ও ঘাড়ে লাগান। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে নিন।
শসায় রয়েছে প্রাকৃতিক ব্লিচিং এজেন্ট। রোদে পোড়া দাগ ঘোচাতে, ত্বকের দাগ মুছে দিতে এবং রং ফরসা করতে শুধু শসাই যথেষ্ট। প্রাকৃতিক ব্লিচের জন্য সমপরিমাণ শসা ও লেবুর রস একসঙ্গে করে পুরো শরীরে ব্যবহার করুন। শুকাতে শুরু করলে আলতো ম্যাসাজ করে গোসল সেরে নিন। রোদে পোড়া দাগ তুলতে দুই টেবিল চামচ শসা বাটার সঙ্গে এক চা-চামচ অ্যালোভেরা জেল দিয়ে পেস্ট তৈরি করে পুড়ে যাওয়া জায়গায় লাগান। এতে সান ট্যান হালকা হবে, সঙ্গে ত্বকের জ্বালা ভাব ও র্যাশ থেকে মুক্তি পাবেন।
বয়স ২৫-এর পর থেকে নিয়মিত ত্বকে শসা ব্যবহার করে সময়ের কাঁটাকে আটকে দিন। ম্যাংগানিজ ও পটাশিয়াম রয়েছে বলে এটি ত্বকের শুষ্কতা কমায়, বলিরেখা পড়তে দেয় না এবং বয়সের ছাপ দূরে রাখে। অ্যান্টিএজিং স্কিন ট্রিটমেন্টের জন্য শসা ও ডিমের সাদা অংশ উপকারী। একটি ডিমের সাদা অংশের সঙ্গে এক টেবিল চামচ শসার রস এবং এক টেবিল চামচ লেবুর রস দিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। পুরো মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।
ব্যস্ততা, দুশ্চিন্তা ও পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে চোখের নিচে কালি পড়ে। অনেকের চোখে দেখা দেয় ফোলা ভাব। শসায় ঠান্ডা উপাদান তো রয়েছেই, এতে আছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও সিলিকা। এগুলো ত্বকে নবযৌবন এনে দেয়। চোখের নিচে কালি ও ফোলা ভাব দূর করতে দুই স্লাইস শসা চোখের ওপর ২০ মিনিট রেখে দিন। এই উপায়ে অল্প দিনের মধ্যে সুফল পাওয়া যাবে। তা ছাড়া চোখের ক্লান্তি দূর করতে শসা রস করে ফ্রিজে রেখে দিন। ঠান্ডা হলে তাতে তুলা ভিজিয়ে চোখের ওপর রেখে বিশ্রাম নিন।
শসার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের প্রদাহ দূর করে। ত্বকের রং হালকা করার পাশাপাশি রোমকূপে জমে যাওয়া তেল পরিষ্কার করে। ছোপ ছোপ দাগ দূর করতে কাঁচা হলুদবাটা, শসার ও লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগান। স্ক্রাব হিসেবে শসা, কাঁচা হলুদ এবং মসুর ডাল বেটে একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে প্রলেপ দিন। ১৫ মিনিট পর হালকা ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন। ব্যস, সমস্যা মিটে যাবে।
সূত্র: স্টাইলক্রেজ ও অন্যান্য