বর্তমান ফ্যাশন দুনিয়ায় চুলের স্টাইল শুধু সৌন্দর্যের অনুষঙ্গ নয়, বরং ব্যক্তিত্ব প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। পোশাকের মতো হেয়ার কাটেও এসেছে নানান বৈচিত্র্য। সেই ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক সময়ে তরুণদের মধ্যে যে হেয়ার স্টাইলটি বিশেষভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, তা হলো নেকড়ে বা উল্ফ হেয়ার কাট।
এই হেয়ার কাট সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আমরা কথা বলেছি কসমেটোলজিস্ট ও শোভন মেকওভারের স্বত্বাধিকারী শোভন সাহার সঙ্গে।
শোভন সাহা জানান, নেকড়ে বা উল্ফ হেয়ার কাট মূলত তাঁদের জন্য উপযোগী, যাঁদের জো লাইন শার্প এবং মুখের গঠন লম্বাটে বা ডায়মন্ড শেপের। এই হেয়ার কাট এ ধরনের মুখের আকার আরও আকর্ষণীয়ভাবে ফুটিয়ে তোলে।
শোভন সাহা বলেন, ‘যাঁদের মুখ গোল, তাঁদের ক্ষেত্রে এই হেয়ার কাট এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। কারণ এতে মুখ আরও গোল দেখাতে পারে।’
নেকড়ে হেয়ার কাটের বড় সুবিধা হলো, এতে আলাদা করে খুব বেশি হেয়ার স্টাইলিংয়ের প্রয়োজন হয় না। লেয়ারড ও টেক্সচার্ড এই কাট এমনভাবেই ডিজাইন করা হয়, যাতে চুল স্বাভাবিকভাবে স্টাইলিশ দেখায়।
ব্যস্ত জীবনে এখন অনেকে প্রতিদিন সময় নিয়ে চুল সেট করার সুযোগ পান না, কিন্তু তারপরও নিজেকে ফ্যাশনেবলভাবে উপস্থাপন করতে চান। তাঁদের জন্য নেকড়ে হেয়ার কাট হতে পারে একটি আদর্শ সমাধান।
ফিউশন পোশাকের সঙ্গে দারুণ মানানসই
ফ্যাশনের দিক থেকে এই হেয়ার কাট বেশ ইউনিক। যাঁরা ফিউশন পোশাক, যেমন কুর্তির সঙ্গে জিনস, লং টপ, ওয়েস্টার্ন ও দেশীয় পোশাকের মিশ্রণ পছন্দ করেন, তাঁদের সঙ্গে এই হেয়ার কাট দারুণভাবে মানিয়ে যায়।
শোভন সাহার মতে, এই হেয়ার কাট একজন মানুষকে একই সঙ্গে ক্যাজুয়াল ও ট্রেন্ডি লুক দেয়, যা দৈনন্দিন জীবন থেকে শুরু করে বন্ধুদের আড্ডা কিংবা ছোটখাটো অনুষ্ঠানের জন্যও উপযোগী। তবে নেকড়ে হেয়ার কাট নেওয়ার আগে চুলের ধরন বুঝতে হবে।
শোভন সাহা বলেন, ‘যাঁদের চুল মাঝারি ঘনত্বের, তাঁদের ক্ষেত্রে এই হেয়ার কাট সবচেয়ে ভালো লাগে। অন্যদিকে যাঁদের চুল অতিরিক্ত পাতলা, তাঁদের এই হেয়ার কাট না নেওয়াই ভালো।’ কারণ লেয়ার কাটের কারণে পাতলা চুল আরও পাতলা দেখাতে পারে, যা লুক নষ্ট করে দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নেকড়ে হেয়ার কাট মূলত শাগ কাট ও মালেট কাটের সংমিশ্রণ। দক্ষিণ কোরিয়া ও পশ্চিমা ফ্যাশন দুনিয়া থেকে এর জনপ্রিয়তা শুরু হলেও, এখন এটি বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার তরুণদের মাঝে ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।
এই কাটের বৈশিষ্ট্য হলো, ওপরে কিছুটা ভলিউম, মাঝখানে লেয়ার এবং নিচের দিকে ন্যাচারাল ফ্লো। ফলে চুলে একটি এফর্টলেস কুল লুক তৈরি হয়।
সব মিলিয়ে বলা যায়, নেকড়ে বা উল্ফ হেয়ার কাট আধুনিক, ব্যস্ত ও ফ্যাশন সচেতন মানুষের জন্য একটি চমৎকার পছন্দ। তবে এই হেয়ার কাট নেওয়ার আগে অবশ্যই মুখের গঠন ও চুলের ঘনত্ব বিবেচনা করা জরুরি। প্রয়োজনে অভিজ্ঞ কসমেটোলজিস্টের পরামর্শ নিয়ে, তবেই সিদ্ধান্ত নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
নেকড়ে কাটের খরচ
স্যালনের মান ও হেয়ার এক্সপার্টের দক্ষতার ওপর নেকড়ে হেয়ার কাটের খরচ নির্ভর করে। সাধারণভাবে ১ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা ব্যয় করলেই এই হেয়ার কাট করানো সম্ভব।