হোম > জীবনধারা > জেনে নিন

কৈশোরের প্রেম ও সহিংসতা নিয়ে সন্তানদের সঙ্গে কথা বলুন

ফিচার ডেস্ক, ঢাকা 

কৈশোরের গণ্ডি পেরোনোর পর ছেলেমেয়েদের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন আসে। এ সময়েই তারা ডেটিং বা রোমান্টিক সম্পর্কের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে। এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলুন। প্রতীকী ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি।

কৈশোর পেরিয়ে তারুণ্যে পা রাখা এক অদ্ভুত সুন্দর সময়। এ নিয়ে কত কবিতা, কত গান! তবে এই পরিবর্তনটাও জীবনের ‘একটু ভুল’ হয়ে যাওয়ার সময়। কৈশোরের গণ্ডি পেরিয়ে তারুণ্যে পা রাখার সময়টিতে ছেলেমেয়েদের জীবনে শারীরিক ও মানসিক অনেক পরিবর্তন আসে। এ সময়েই তারা ডেটিং বা রোমান্টিক সম্পর্কের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে। কিন্তু এই নতুন পথচলায় তরুণেরা কতটা নিরাপদ? বিশেষজ্ঞদের মতামত, কিশোর-কিশোরীদের ডেটিং সহিংসতা বা ডেটিং ভায়োলেন্স নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলা জরুরি।

ডেটিং সহিংসতা কী

এটি কেবল শারীরিক আঘাত নয়। এর মধ্যে রয়েছে যৌন, মানসিক এবং মৌখিক নির্যাতন। এ ছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার করে কারও ওপর নজরদারি চালানো বা স্টকিং করাও এর অন্তর্ভুক্ত। গবেষণায় দেখা গেছে, ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির প্রায় ১৩ শতাংশ শিক্ষার্থী স্টকিংয়ের শিকার হয়। এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব অত্যন্ত ভয়াবহ। নির্যাতনের শিকার কিশোরীরা অন্যদের তুলনায় ৬ গুণ বেশি যৌনবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। এ ছাড়া ট্রমার কারণে তারা বিষণ্নতা, খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এবং মাদকাসক্তিতে জড়িয়ে পড়ে। এমনকি শারীরিক বা যৌন নির্যাতনের শিকার তরুণ-তরুণীদের প্রায় ৫০ শতাংশ আত্মহত্যার চেষ্টা করে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি তিনজন কিশোর-কিশোরীর মধ্যে একজন তাদের সঙ্গী বা রোমান্টিক পার্টনারের মাধ্যমে কোনো না কোনোভাবে নির্যাতনের শিকার হয়। কলেজপর্যায়ে এ চিত্র আরও উদ্বেগজনক, বিশেষ করে ৪৩ শতাংশ তরুণী সেখানে অবমাননাকর আচরণের শিকার হয়। লিঙ্গ, বর্ণ, সামাজিক অবস্থান বা যৌন অভিরুচি নির্বিশেষে এ সহিংসতা বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় সংকট।

আলোচনার শুরুটা হোক আজই

ডেটিং বা যৌনতার মতো বিষয় নিয়ে কথা বলতে আপনার অস্বস্তি হতে পারে। কিন্তু সন্তানের সুরক্ষায় এটি অত্যন্ত জরুরি। আজ যে অভ্যাস সে গড়ছে, তা সারাজীবন তার সঙ্গে থাকবে। তাই লজ্জা বা অস্বস্তির কারণে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা থেকে পিছিয়ে আসবেন না। আবার কৈশোরের এই সংবেদনশীল বিষয়ে মা-বাবার সঙ্গে কথা বলতে অনেক সন্তানই দ্বিধা বোধ করে। কিন্তু জরিপ বলছে, কিশোর-কিশোরীরা অন্য যে কারও চেয়ে তাদের মা-বাবার পরামর্শকে বেশি গুরুত্ব দেয়। তাই সম্পর্ক শুরু করার আগেই তাদের সঙ্গে সম্মতি, সম্মান এবং সীমারেখা নিয়ে খোলামেলা কথা বলুন।

তাদের বিপজ্জনক সংকেত চিনিয়ে দিন। অনেক সময় অতিরিক্ত ঈর্ষা, ঘন ঘন ঝগড়া বা সম্পর্কের শুরুতে খুব বেশি আবেগের বহিঃপ্রকাশকে রোমান্টিক মনে হতে পারে। তাদের বোঝান, এগুলো সুস্থ সম্পর্কের লক্ষণ নয়।

ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতন করে তুলুন সন্তানদের। সোশ্যাল মিডিয়ায় লোকেশন শেয়ার করা, ব্যক্তিগত তথ্য প্রদান বা ব্যক্তিগত ছবি আদান-প্রদানের ঝুঁকি নিয়ে কথা বলুন। ছবি শেয়ারের জন্য কাউকে চাপ দেওয়া বা ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া যে অপরাধ, এ বিষয়ে তাদের জানানো জরুরি।

সন্তানদের শেখান, সম্মতি মানে কেবল ‘না’ বলা নয়। বরং উৎসাহব্যঞ্জক ‘হ্যাঁ’ থাকা। না বলার মধ্যে কোনো লজ্জা নেই।

আলোচনার পরিবেশ তৈরি করা

কিশোর-কিশোরীরা তাদের চারপাশ ও মিডিয়া দেখে শেখে। ঘরে বা সিনেমায় যদি তারা সহিংস সম্পর্ক দেখে, তবে তারা একেই স্বাভাবিক বলে ধরে নেয়। তাই মা-বাবারা নিজেরা ইতিবাচক সম্পর্কের উদাহরণ তৈরি করুন। কোনো সিনেমায় সহিংসতা দেখলে তা নিয়ে সন্তানের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করুন। মনে রাখবেন, তারা আপনার কথা শুনছে এবং শিখছে। এ ধরনের সমস্যা নিয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে আপনার ছেলে ও মেয়ে উভয়কেই গুরুত্ব দিন।

সাধারণত মা-বাবারা কেবল মেয়ের নিরাপত্তার কথা ভাবেন। কিন্তু ছেলে ও মেয়ে উভয়েই নির্যাতনের শিকার হতে পারে। আবার কেউ নির্যাতকও হয়ে উঠতে পারে। উভয়ের আচরণের পরিবর্তনের দিকে সমান নজর দিন। যদি দেখেন সন্তান নিজেই সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ছে, তবে এর ভয়াবহ আইনি ও অপরাধমূলক পরিণতির বিষয়ে তাকে সতর্ক করুন।

যদি সন্দেহ করেন আপনার সন্তান কোনো অস্বাস্থ্যকর সম্পর্কে আছে, তবে সবার সামনে নয় বরং তার সঙ্গে একান্ত ও নিরিবিলি সময়ে কথা বলুন। কৈশোরে তারা লোকলজ্জার ভয়ে অনেক কিছু লুকিয়ে রাখতে চায়। একটি আরামদায়ক পরিবেশ তাকে আপনার কাছে মুখ খুলতে সাহায্য করবে। আপনার অভিজ্ঞতা থেকে তাদের জানান যে, একটি সুস্থ সম্পর্ক বজায় রাখা অনেক শ্রম ও ধৈর্যের কাজ। তাদের নতুন সম্পর্কের প্রতি আগ্রহ দেখান এবং সঙ্গীর বিষয়ে খোঁজ নিন। যখন আপনি সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি জানবেন, তখন যেকোনো নেতিবাচক পরিবর্তন আপনার চোখে দ্রুত ধরা পড়বে।

সতর্কসংকেত ও সতর্কতা

সন্তানের আচরণের দিকে নজর রাখুন। যদি দেখেন তাদের গ্রেড কমে যাচ্ছে, বন্ধুদের সঙ্গে মেলামেশা বন্ধ করে দিয়েছে, সব সময় মোবাইল ফোনে পড়ে থাকে বা সারাক্ষণ বিষণ্নতায় ভোগে—তবে এগুলো হতে পারে নির্যাতনের লক্ষণ। যদি আপনার সন্তান নির্যাতনের শিকার হয়, সে ক্ষেত্রে রাগান্বিত না হয়ে খেয়াল রাখুন। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তাদের আত্মসম্মান বাড়ানো। যদি তারা আপনার কাছে নির্যাতনের কথা স্বীকার করে, তবে সরাসরি পুলিশে অভিযোগ করার জন্য চাপ দেবেন না। এতে তাদের বিশ্বাস নষ্ট হতে পারে। বরং তাদের আশ্বস্ত করুন যে, আপনি সব সময় পাশে আছেন এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাদের হাতে দিন।

ডেটিং সহিংসতা নিয়ে আলোচনা এক দিনে শেষ করার বিষয় নয়। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া হওয়া উচিত, যা তাদের কৈশোরের শুরু থেকেই চলতে থাকবে। সন্তানদের আত্মবিশ্বাসী করে তুলুন, যাতে তারা নিজেদের উপলব্ধিকে বিশ্বাস করে এবং নিজের নিরাপত্তাকে সবার আগে গুরুত্ব দেয়।

সূত্র: স্টার্স ইনসাইডার, টিন ডেটিং ভায়োলেন্স ডট ওআরজি

চল্লিশে বাঁচুন প্রাণখুলে

আজকের রাশিফল: খুনসুটি গভীর প্রেমে রূপ নেবে, মুখ থুবড়ে পড়ার হালকা যোগ আছে

শীতে গোলাপের পরিচর্যা করবেন যেভাবে

বাসা বদলের প্যাকিং: জেনে নিন নিয়মগুলো

জীবনে ভালো থাকতে চাইলে যা করবেন, যা করবেন না

আজকের রাশিফল: নববিবাহিতদের জন্য সুখবর, গুপ্তবিদ্যায় ঝোঁক বাড়বে

ওজন কমাতে খান সয়াবিন

আজকের রাশিফল: সততা বিপদ থেকে বাঁচাবে, প্রেমে পড়ার আগে ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই করুন

পুরোনো মোবাইলকে বানিয়ে ফেলুন সিসি ক্যামেরা

স্ত্রী রাগ করলে পুরুষেরা প্রায়ই নীরব থাকে কেন