বাজারে দামি ক্রিম বা সেরাম পাওয়া গেলেও আসল সৌন্দর্য আসে ভেতর থেকে। আমাদের ত্বক কেমন হবে, তা অনেকটা নির্ভর করে আমরা প্রতিদিন কী খাচ্ছি, তার ওপর। পুষ্টিকর খাবার শরীরের পক্ষে তো ভালোই, ত্বকের জন্যও। এসব খাবারে ত্বকের কোষ পুনরুজ্জীবিত হয় এবং প্রাকৃতিকভাবে উজ্জ্বল ও মোলায়েম করে তোলে। কিন্তু জানতে হবে, কোমল ত্বক পেতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কোন কোন খাবার রাখলে উপকার পাবেন।
ত্বকের শুষ্কতা দূর করে মোলায়েম ভাব বজায় রাখতে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের জুড়ি নেই। এটি ত্বকের কোষের আর্দ্রতা বজায় রাখে। আখরোট, চিয়া সিড, তিসির বীজ এবং সামুদ্রিক মাছ; যেমন রুপচাঁদা, টুনা ইত্যাদি ত্বক ভেতর থেকে হাইড্রেট করে এবং খসখসে ভাব দূর করে মসৃণ করে তোলে।
ত্বক টানটান এবং তারুণ্য রাখতে কোলাজেন নামের প্রোটিন প্রয়োজন। ভিটামিন সি হচ্ছে কোলাজেনের পাওয়ার হাউস। এই ভিটামিন শরীরে কোলাজেন তৈরিতে সরাসরি সাহায্য করে। লেবু, কমলা, মাল্টা, আমলকী, পেয়ারা, আমড়া, স্ট্রবেরি ইত্যাদি ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়া রোধ করে এবং যেকোনো দাগ দূর করে প্রাকৃতিকভাবে ত্বক উজ্জ্বল করে তোলে।
সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি আমাদের ত্বকের নমনীয়তা নষ্ট করে দেয়। এই ক্ষতি থেকে ত্বক বাঁচায় ভিটামিন ই এবং বিটা ক্যারোটিন। খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন গাজর, মিষ্টিআলু, পাকা পেঁপে, টমেটো ও কাঠবাদাম। কিছুই না পেলে প্রতিদিন অন্তত টমেটো ও কাঠবাদাম খান। টমেটোর লাইকোপেন প্রাকৃতিক সানস্ক্রিন হিসেবে কাজ করে এবং কাঠবাদামের ভিটামিন ই ত্বক নরম ও কোমল রাখে।
ত্বক তখনই চকচকে দেখাবে, যখন শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বা বিষাক্ত উপাদান বের হয়ে যাবে। দিনে অন্তত ২ কাপ গ্রিন টি এবং ৮ থেকে ১০ গ্লাস বিশুদ্ধ পানি পান করুন। গ্রিন টি ত্বকের প্রদাহ ও ব্রণ কমায়। আর পানি ত্বকের ভেতর থেকে সতেজ রাখে।
যাঁদের ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক, তাঁরা খাদ্যতালিকায় মিষ্টিআলু ও গাজর রাখতে পারেন। এগুলোতে থাকা বিটা ক্যারোটিন মরা চামড়া দূর করে নতুন কোষ তৈরিতে সহায়ক। এ ছাড়া খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন ডিমের কুসুম। এতে থাকা ভিটামিন ডি ও বায়োটিন শুষ্ক ত্বকের ফেটে যাওয়া ভাব দ্রুত কমায়। সকালের নাশতায় বিভিন্ন ফলের সঙ্গে খেতে পারেন টক দই। প্রোবায়োটিকস সমৃদ্ধ টক দই ত্বকের পিএইচ ভারসাম্য ঠিক রাখে এবং অতিরিক্ত শুষ্কতা কমায়।
অতিরিক্ত চিনি ও মিষ্টি খাবার
এগুলো ত্বকের কোলাজেন ধ্বংস করে। অতিরিক্ত চিনি রক্তে মিশে ত্বকের ইলাস্টিন ও কোলাজেন ভেঙে ফেলে। ফলে ত্বক স্বাভাবিক টানটান ভাব ও কোমলতা হারিয়ে দ্রুত বুড়িয়ে যায়।
অতিরিক্ত চা ও কফি পান
অতিরিক্ত কফি বা কড়া চা পানের ফলে শরীর ও ত্বক ডিহাইড্রেটেড বা পানিশূন্য হয়ে পড়ে। ত্বক ভেতর থেকে শুকানোসহ এর স্বাভাবিক লাবণ্য হারিয়ে যায়।
অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও লবণাক্ত খাবার
ভাজাপোড়া খাবার অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে এসবে থাকা ট্রান্স-ফ্যাট ত্বকের রক্তসঞ্চালন কমিয়ে দেয়। ফলে ত্বক নিস্তেজ দেখায়। এ ছাড়া চিপস, ফাস্ট ফুড বা প্রক্রিয়াজাত খাবারে প্রচুর লবণ থাকে, যা কোষ থেকে পানি শুষে নেয়।
রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট
ময়দা দিয়ে তৈরি খাবার রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। এগুলো ত্বকে ব্রণের উপদ্রব বাড়ায় এবং ত্বকের মসৃণতা নষ্ট করে।
সূত্র: গুড ফুড, হেলথ লাইন ও অন্যান্য