কেনাকাটা করার সময় কোনো কোনো মানুষের চোখ এমন সব পোশাক বা অনুষঙ্গের দিকে যায়, সেগুলোর বহুমুখী ব্যবহার রয়েছে। এক্সক্লুসিভ কোনো ওড়না বা প্যান্ট না কিনে এমন কিছু পোশাক তাঁরা বেছে নেন, যা নিরপেক্ষ রঙের ও বিভিন্ন ধরনের টপস বা কামিজের সঙ্গে পরা যায়। আধুনিক ‘গো-টু ফ্যাশন’ ওয়ার্ডরোবের বা ক্যাপসুল কালেকশনের মূলকথাই হলো এমন কিছু পোশাক সংগ্রহে রাখা, যা কখনো ট্রেন্ড থেকে হারিয়ে যায় না এবং যেকোনো অনুষ্ঠানে সহজে মানিয়ে যায়।
গো-টু ফ্যাশন ওয়ার্ডরোব বলতে মূলত এমন কিছু পোশাকের সংগ্রহ বোঝায়, যা বহুমুখী, আরামদায়ক এবং যেকোনো মুহূর্তে চোখ বন্ধ করে পরে নেওয়া যায়। ফ্যাশনের ভাষায় একে অনেক সময় ক্যাপসুল ওয়ার্ডরোবও বলা হয়। সহজ কথায়, এটি হলো আপনার আলমারির সেই সব পোশাকের কালেকশন, যা কখনো ট্রেন্ড বা ফ্যাশনের বাইরে চলে যায় না এবং খুব অল্প সময়ে আপনাকে একটি আকর্ষণীয় লুক দিতে পারে। অফিস মিটিং, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা বা হঠাৎ কোনো দাওয়াতে যাওয়ার জন্য এই সংগ্রহ আপনাকে দ্রুত তৈরি হতে সাহায্য করতে পারে।
টাইমলেস ডিজাইন: এই পোশাকগুলো কোনো নির্দিষ্ট সাময়িক ট্রেন্ডের ওপর নির্ভর করে না। বছর বছর ধরে ফ্যাশনে ইন থাকে।
সহজ সমন্বয়: এই ওয়ার্ডরোবের প্রতিটি পোশাকের রং ও কাটিং এমন; যাতে একটির সঙ্গে অন্যটি খুব সহজে মিলিয়ে পরা যায়। যেমন একটি কালো প্যান্ট দিয়ে আপনি শার্ট, টি-শার্ট বা কুর্তি—সবই পরতে পারবেন।
যেকোনো ফরমাল বা ক্যাজুয়াল মিটিংয়ের জন্য ওয়ার্ডরোবে একটি মার্জিত সাদা শার্ট অপরিহার্য। এ ছাড়া কালো, নেভি ব্লু বা ধূসর রঙের টি-শার্ট রাখা যেতে পারে। এগুলোর পাশাপাশি ইন্দো-ওয়েস্টার্ন বা ক্যাজুয়াল লুকের জন্য আরামদায়ক সুতি কুর্তি থাকলেও যেকোনো সময় ব্যবহার করা যায়।
ওয়ার্ডরোবে একটি গাঢ় নীল এবং একটি কালো স্ট্রেট-ফিট বা মম-ফিট জিনস রাখা যেতে পারে। ফরমাল অফিস লুক বা করপোরেট ইভেন্টের জন্য কালো, বেইজ বা কফি রঙের সিনথেটিক প্যান্ট রাখলে কাজে আসবে। আবার যেকোনো কুর্তি বা লং টপসের সঙ্গে সহজে পরার জন্য কালো ও স্কিন কালার লেগিংস রাখলে বিভিন্ন সময়ে চট করে তৈরি হয়ে নেওয়া সহজ হবে।
আলমারিতে একটি সুন্দর জামদানি, সিল্ক বা লিনেন শাড়ি রাখুন যেগুলো উৎসব-পার্বণে আপনার রূপ বাড়িয়ে দেবে। মনকাড়া রঙের ২ থেকে ৩ জোড়া ক্যাজুয়াল ও সেমি-ফরমাল থ্রি-পিস বা সালোয়ার-কামিজ রাখতে পারেন।
হালকা শীতে বা যেকোনো সাধারণ টি-শার্টের ওপর স্টাইলিশ লুক দিতে ডেনিম জ্যাকেটের জুড়ি নেই। এর সঙ্গে একটি কালো বা নিউট্রাল রঙের ব্লেজার ও কয়েকটি শ্রাগ রাখলে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের লুক তৈরি করে নেওয়া সহজ হবে।
জুতার আলমারিতে এক জোড়া আরামদায়ক স্নিকার, ফরমাল লোফার বা ফ্ল্যাট স্যান্ডেল এবং একটি ক্ল্যাসিক হিল রাখা চাই। অন্যান্য অনুষঙ্গের মধ্য়ে একটি বড় টোট ব্যাগ, একটি স্টাইলিশ স্লিং ব্যাগ এবং একটি মেটালিক বা চামড়ার বেল্টের হাতঘড়ি রাখতে পারেন।
অফিসের জন্য তৈরি হতে
অফিস পোশাকের চাবিকাঠি হলো মার্জিত ও পেশাদার ভাব বজায় রাখা। সারা দিন পরে থাকার জন্য কাপড়টি আরামদায়ক হওয়াও জরুরি। প্যাস্টেল ব্লু, সাদা বা লেমন রঙের সুতি বা লিনেন শার্টের সঙ্গে গাঢ় রঙের ট্রাউজার পরা যেতে পারে। এ ছাড়া সুতি বা সিল্কের সাধারণ কুর্তি এবং লেগিংস অথবা ফরমাল সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে কালো বা ট্যান রঙের চামড়ার লোফার অথবা ফ্ল্যাট শু পরা যেতে পারে। একটি ক্ল্যাসিক মেটালিক বা চামড়ার স্ট্র্যাপের হাতঘড়ি ও ল্যাপটপ সহজে বহন করার জন্য একটি নিউট্রাল রঙের টোট ব্যাগ বা ব্যাকপ্যাক পুরো সাজটা সম্পন্ন করে তুলবে।
ঋতুভেদে শরীরে আরাম দেবে এমন পোশাক পরা জরুরি। সঙ্গে চামড়ার স্ট্র্যাপ দেওয়া ওপেন-টো স্যান্ডেল, স্লাইডার বা আরামদায়ক স্নিকার পরা যেতে পারে।
সূত্র: ইনসাইড আউট স্টাইল ও অন্যান্য