গোলাপ একটি প্রাচীন প্রজাতির উদ্ভিদ। এটি বিভিন্ন সংস্কৃতিতে গৃহীত হয়েছে অনেক আগে থেকে। প্রায় ৫ হাজার বছর আগে মধ্য এশিয়ায় গোলাপের বিভিন্ন জাতের চাষ শুরু হয় বলে জানা যায়। এর শতাধিক জাত রয়েছে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শফিক বিপ্লবের সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন মুহাম্মদ শফিকুর রহমান।
রোজাসি পরিবারের রোজা গণের অন্তর্ভুক্ত গোলাপ নামের এই বড় উদ্ভিদগোষ্ঠীটির রয়েছে শত শত প্রজাতি ও হাজারো সংকর জাত। ফলে গোলাপ ফুলের একক কোনো বৈজ্ঞানিক নাম নেই! এর ইংরেজি নাম রোজ।
আমাদের দেশে চায়না ও ইন্ডিয়ান গোলাপের আধিক্য দেখা যায়। এ ছাড়া ইংলিশ, আমেরিকান ও ডাচ রোজও আছে। জনপ্রিয় কিছু গোলাপের জাত হলো কাঁটা গোলাপ, চায়না গোলাপ, বেঙ্গল ক্রিমসন, ইরানি গোলাপ, ইউরোপীয় হাইব্রিড গোলাপ, ইন্ডিয়ান গোলাপ ইত্যাদি। সোলাইরি, জুমেলি, প্রিন্সেস ডিমোনাকো রিভাইভাল, এবারাকো, এডিমিশেল হিলিনা, টপ সিক্রেট, আব্রাহাম ডারিনা, অ্যাভালেন্স এলাংকা ইত্যাদি। হাইব্রিড বড় কাট ফ্লাওয়ারের কিছু জাত হলো অভিসারিকা, তাজমহল, মুস্টোন, ব্লু মুন, টাটা প্যারাডাইস, রেড লাভ রং। এ ছাড়া মিনিয়েচার চায়না রোজও রয়েছে।
চারা ও দাম
গোলাপের সাধারণত বার্ডিং কলমের চারা পাওয়া যায়। এ ছাড়া গুটি কলম ও কাটিংয়ের চারা সহজলভ্য। ক্লাইম্বিংসহ অনেক গোলাপের বীজের চারা বিভিন্ন নার্সারি থেকে সংগ্রহ করা সম্ভব। দেশি জাতের চারার দাম ২০ টাকা থেকে শুরু। সর্বোচ্চ ৫০০ টাকায় উন্নতমানের গোলাপের চারা পাওয়া যায়।
পরিচর্যা
গোলাপগাছ রোদ পছন্দ করে, তবে প্রখর রোদ নয়। ছাদ থেকে একটু উঁচুতে টব রাখতে হবে। নিয়মিত পরিমিত পানি, মাসে এক দিন তরল সার হিসেবে খৈল-পচা পানি দিতে হবে। পিনচিং ও কাটিং গোলাপের জন্য জরুরি। ফুল ঝরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুলের বোঁটাসহ কেটে ফেলা, মরা পাতা অপসারণ, নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার, বছরে দুবার ২৫ শতাংশ মাটি পরিবর্তন, বয়স্ক গাছের টবের দিক পরিবর্তন ইত্যাদি হলো গোলাপগাছের অন্যতম পরিচর্যা।
রোগ ও পোকা দমন
গোলাপগাছে মারাত্মক রোগ হলো ডাইব্যাক ও অ্যাপসিলাসিস। আর লেদা পোকা, ঘোড়া পোকা, শুঁয়ো পোকা ও জাব পোকা গোলাপগাছ আক্রমণ করে। অন্যান্য গাছের মতো মিলিবাগও সমস্যা দেখা দিতে পারে। মাইট রোগ ও পোকার কারণে প্রতিবছর গরমের সময় গোলাপবাগানীদের অনেক গাছ মারা যায়।
রোগ ও পোকা দমনে জৈবিক ও রাসায়নিক দুই ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করা যায়। এর মধ্যে মাইটি সাইড, ছত্রাকনাশক এবং কীটনাশক একত্রে মাসে দুবার অনুমোদিত মাত্রায় ব্যবহার করা জরুরি। মাসে একবার ডিটারজেন্ট ১:১ হারে পানিতে গুলে দিলে গাছ সতেজ থাকে। গাছের অনুখাদ্যের ঘাটতি মেটাতে ঘরে তৈরি জৈব নির্যাস ব্যবহার করা যেতে পারে। সবজি-পচা পানি পাতলা করে গাছের গোড়ায় দেওয়া যেতে পারে।
জেনে রাখা ভালো
কমবেশি সারা বছর গোলাপ ফুল ফোটে। এ জন্য দরকার নিয়মিত পরিচর্চা। তবে ৮০ শতাংশ ফুল শীতে ফোটে। একটি গোলাপগাছ কমপক্ষে ২০ বছর ফুল দেয়। বাংলাদেশে বাণিজ্যিক কাট ফ্লাওয়ার হিসেবে গোলাপ চাষ হয়ে থাকে। ছাদেও বাণিজ্যিক গোলাপ চাষ করা যায়। সে ক্ষেত্রে কাট ফ্লাওয়ার রোজের জাতগুলো লাগানো যায়। ছাদে ফুলের সৌন্দর্যের পাশাপাশি ফুল ও চারা বিক্রি করে বাড়তি আয় করাও সম্ভব।
গোলাপ ফুল থেকে তৈরি হয় উৎকৃষ্ট সুগন্ধিযুক্ত গোলাপ জল। কোনো কোনো দেশে গোলাপ ফুল দিয়ে জ্যাম ও জেলিও তৈরি করা হয়। গোলাপ ফুলে ভিটামিন সিসহ বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন পাওয়া যায়।