হোম > জীবনধারা > জেনে নিন

নার্সিসিস্টিক অ্যাবিউজের কারণে মস্তিষ্কের যে ধরনের ক্ষতি হয়

ফিচার ডেস্ক

নার্সিসিস্টিক নির্যাতনের ফলে শরীরে অতিরিক্ত কর্টিসল নিঃসৃত হয়। এই হরমোন হিপোক্যাম্পাসের কোষগুলোকে ধ্বংস করে দেয়, যার ফলে এটি আকারে ছোট বা সংকুচিত হয়ে পড়ে। ছবি: পেক্সেলস

মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি নার্সিসিস্টিক সম্পর্কে থাকা আর রোলার কোস্টারে চড়া একই কথা। প্রথম দিকে এই সম্পর্ককে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর ও নিখুঁত মনে হলেও ধীরে ধীরে তা এক ভয়াবহ মানসিক খাঁচায় পরিণত হয়। নার্সিসিস্টিক পারসোনালিটি ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত সঙ্গীর সঙ্গে জীবনযাপন কেমন হয়, তা বোঝার জন্য পুরো সম্পর্কের চক্রটি জানা প্রয়োজন।

নার্সিসিস্ট সঙ্গীর সঙ্গে জীবন যেমন

সম্পর্কের শুরুতে নার্সিসিস্ট ব্যক্তি তাঁর সঙ্গীকে পৃথিবীর সেরা মানুষ হিসেবে অনুভব করান। একে বলা হয় লাভ বোম্বিং। লাভ বোম্বিংয়ের পর্ব শেষ হতেই তাঁদের আসল রূপ প্রকাশ পেতে শুরু করে। এই ধাপে জীবনটা বিষাক্ত হতে থাকে। তখন সঙ্গীর পোশাক, কথা বলার ধরন, চাকরি বা চেহারা—সবকিছুতেই নার্সিসিস্ট ব্যক্তি খুঁত ধরা শুরু করেন। সম্পর্কে কেবল তাঁদের চাহিদা, ইচ্ছা ও মেজাজই প্রাধান্য পায়। সঙ্গীর কোনো মতামত বা আবেগের মূল্য থাকে না। নার্সিসিস্ট কৌশলে সঙ্গীকে তাঁর পরিবার ও বন্ধুদের থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন, যাতে বিপদের সময় সঙ্গীর পাশে কেউ না থাকে ও সঙ্গীকেই ভুল বোঝে। তীব্র মানসিক নির্যাতন ও মাঝে মাঝে হঠাৎ একটুখানি ভালোবাসার মিশ্রণের কারণে ভুক্তভোগী একধরনের আসক্তিতে পড়ে যান। খারাপ আচরণ পাওয়ার পরও তাঁরা নার্সিসিস্ট সঙ্গীকে ছেড়ে যেতে পারেন না আর একেই বলে ট্রমা বন্ড। এখন প্রশ্ন হলো, কেবল এখানেই কি ভুক্তভোগীর ভোগান্তি শেষ? মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে নার্সিসিস্টিক অ্যাবিউজ বা মানসিক নির্যাতনের যেমন: গ্যাসলাইটিং, অবমাননা ও ক্রমাগত মানসিক চাপের শিকার হলে মানুষের মস্তিষ্কের গঠনে এবং কার্যকারিতায় স্থায়ী ও মারাত্মক শারীরিক পরিবর্তন ঘটে। চিকিৎসাবিজ্ঞান ও নিউরোসায়েন্সের গবেষণায় দেখা গেছে, এই ধরনের মানসিক অত্যাচার মস্তিষ্কে একধরনের ক্রনিক ট্রমা বা গভীর ক্ষত তৈরি করে, যা কোনো শারীরিক আঘাতের চেয়ে কম নয়।

নার্সিসিস্টিক অ্যাবিউজের কারণে মস্তিষ্কের যে ধরনের পরিবর্তন ও ক্ষতি হয়

নার্সিসিস্টিক অ্যাবিউজের কারণে মস্তিষ্কের মূলত তিনটি প্রধান অংশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

হিপোক্যাম্পাস সংকুচিত হয়ে যায়

হিপোক্যাম্পাস মস্তিষ্কের এমন একটি অংশ, যা নতুন কিছু শেখা, তথ্য মনে রাখা ও স্মৃতি ধরে রাখার কাজ করে। নার্সিসিস্টিক নির্যাতনের ফলে শরীরে প্রতিনিয়ত কর্টিসল নামের স্ট্রেস হরমোন নিঃসৃত হয়। অতিরিক্ত কর্টিসল হিপোক্যাম্পাসের কোষগুলোকে ধ্বংস করে দেয়, যার ফলে এটি আকারে ছোট বা সংকুচিত হয়ে পড়ে। এর কারণে ভুক্তভোগী তীব্র স্মৃতিভ্রম, মনোযোগের অভাব ও যেকোনো তথ্য সহজে গ্রহণ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন।

অ্যামিগডালা অতিরিক্ত সক্রিয় ও বড় হয়ে যায়

অ্যামিগডালা হলো মস্তিষ্কের ভয় ও আবেগ নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র। নার্সিসিস্টের সঙ্গে থাকার সময় ভুক্তভোগীকে সব সময় একধরনের আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা ও আশঙ্কার মধ্যে বাস করতে হয়। ফলে অ্যামিগডালা সব সময় অতিরিক্ত সক্রিয় থাকে এবং ক্রমাগত উদ্দীপনার কারণে এটি আকারে বৃদ্ধি পায়। এর ফলে ভুক্তভোগী সব সময় একধরনের দীর্ঘস্থায়ী সতর্কাবস্থা বা হাইপারভিজিলেন্সে ভোগেন। সামান্য আওয়াজ বা সাধারণ কোনো ঘটনাতেও তিনি প্যানিক অ্যাটাক, তীব্র ভয়, উদ্বেগ ও ট্রমা ফ্ল্যাশব্যাকে আক্রান্ত হন।

মস্তিষ্কে ডোপামিন ও সেরোটোনিনের মতো ‘ফিল-গুড’ হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়, যা গভীর বিষণ্নতা ও তীব্র উদ্বেগের জন্ম দেয়। ছবি: পেক্সেলস

প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্সের কার্যক্ষমতা হ্রাস

প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স মানুষের মস্তিষ্কের একেবারে সামনের অংশ, যা যুক্তিসংগত সিদ্ধান্ত নেওয়া, আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা, পরিকল্পনা করা এবং সামাজিক আচরণ পরিচালনার জন্য দায়ী। অ্যামিগডালা যখন অতিরিক্ত মাত্রায় সক্রিয় হয়ে ওঠে, তখন এটি প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্সের যৌক্তিক ক্ষমতাকে ব্লক করে দেয়। ক্রমাগত মানসিক ট্রমার কারণে এই অংশের কার্যকারিতা ও রক্ত সঞ্চালন কমে যায় এবং এটিও সংকুচিত হতে পারে। এর কারণে ভুক্তভোগী কোনো বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না, নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম খান, তীব্র মানসিক ক্লান্তি বা ব্রেন ফগ অনুভব করেন এবং নিজের বিচারবুদ্ধির ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেন।

অন্যান্য সমস্যা

মস্তিষ্কের এই গাঠনিক পরিবর্তনের ফলে ভুক্তভোগীর শরীরে আরও কিছু দীর্ঘমেয়াদি লক্ষণ দেখা দেয়। দীর্ঘদিন ধরে এই নির্যাতনের ফলে জটিল পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার দেখা দেয়, যা মানুষকে একধরনের মানসিক অবশতার দিকে ঠেলে দেয়। মস্তিষ্কে ডোপামিন ও সেরোটোনিনের মতো ‘ফিল-গুড’ হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়, যা গভীর বিষণ্নতা ও তীব্র উদ্বেগের জন্ম দেয়। এ ছাড়া গ্যাসলাইটিং বা সত্যকে বিকৃত করার অভ্যাসের কারণে মস্তিষ্ক স্মৃতিগুলোকে যুক্তিসংগতভাবে সাজাতে পারে না। স্মৃতিগুলো এলোমেলো বা টুকরো টুকরো মনে হয়।

এ ধরনের ক্ষতি এড়াতে যা করা যেতে পারে

মস্তিষ্কের নিউরোপ্লাস্টিসিটি গুণের কারণে, নিরাপদ পরিবেশে ফিরে এলে, টক্সিক সম্পর্ক থেকে পুরোপুরি দূরে থাকলে এবং বিশেষজ্ঞের পরামর্শমতো থেরাপির মাধ্যমে মস্তিষ্ক পুনরায় আগের গঠনে ফিরে আসতে পারে এবং সুস্থ হতে পারে। এ ছাড়া নার্সিসিস্ট সঙ্গীর সঙ্গে বসবাসকালে মস্তিষ্কের এ ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে বা খানিকটা কমিয়ে আনতে মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি পরামর্শ দিয়ে থাকেন। সেগুলো হলো—

কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বা কথোপকথন ঘটার সঙ্গে সঙ্গে তা ডায়েরিতে লিখে রাখুন বা টেক্সট মেসেজের স্ক্রিনশট রাখুন। যখন সে অস্বীকার করবে, তখন নিজের নোট দেখে নিশ্চিত হোন যে আপনার স্মৃতি একদম ঠিক আছে।

কেউ যদি কোনো নার্সিসিস্ট সঙ্গীর সঙ্গে বসবাস করতে পারিবারিক বা সামাজিকভাবে বাধ্য হয়ে থাকেন, তখন তাঁদের একটি ধূসর পাথরের মতো আচরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তাঁদের কোনো আচরণে কোনো আবেগ দেখাবেন না। তাঁরা আপনাকে রাগানোর বা কাঁদানোর চেষ্টা করবে, যাতে আপনি প্রতিক্রিয়া দেখান। কিন্তু সে ক্ষেত্রে যত অল্প কথায় বিষয়টি শেষ করা যায়, সেভাবে এগোতে হবে। এতে সমস্যা সমাধান হবে না, তবে তুলনামূলক ভালো থাকা যাবে বলে মনে করেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র: মিডিয়াম ও অন্যান্য

বিবলিওথেরাপি যেভাবে বদলাতে পারে জীবনের দৃষ্টিভঙ্গি

ইউটিউব সবচেয়ে বেশি দেখে কোন দেশের মানুষ

জেনে নিন বিশ্বের সবচেয়ে সুস্থ হৃৎপিণ্ডের দেশের নাম

আজকের রাশিফল: প্রেমে অতিরিক্ত উদ্দীপনা সন্দেহ বাড়াবে, কাঠি করবে হিংসুটে সহকর্মী

জেনে নিন, আসছে শীতে শরীর ও মনকে চাঙ্গা রাখার উপায়

ভালোবাসার অন্তহীন লড়াইতে একা ক্রিস্টিন দাউদ

সঙ্গীর মন ভালো করতে ডিনার ডেটের আয়োজন, যা মনে রাখা জরুরি

আজকের রাশিফল: পকেট খালি হলেও মন থাকবে দরিয়া, দিবাস্বপ্ন দেখতে গিয়ে বাস মিস

প্রতারক জীবনসঙ্গী কি সত্যিই কখনো বিশ্বস্ত হয়ে উঠতে পারেন? যেভাবে বুঝবেন

হেমন্তে ত্বকের যত্নে যে প্রসাধনীগুলো এড়িয়ে চলা উচিত