বর্তমান ডিজিটাল যুগে বিনোদন, শিক্ষা কিংবা খবরের খোরাক জোগাতে সবাই প্রথমেই খোঁজেন ইউটিউব। বিশ্বজুড়ে ইউটিউবের মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা এখন প্রায় ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন বা ২৭০ কোটি। অর্থাৎ পৃথিবীর বিশাল জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ প্রতিদিন বুঁদ হয়ে থাকে এই ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মে। শুধু তা-ই নয়, এর শর্টস ফিচার প্রতিদিন প্রায় ২০০ বিলিয়ন বা ২০ হাজার কোটি ভিউ ছাড়িয়ে এক অভাবনীয় রেকর্ড গড়েছে। তবে এই বিশাল দর্শকসংখ্যা সব দেশে সমানভাবে ছড়িয়ে নেই। কোন দেশগুলো ইউটিউব দেখার দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে এবং এর পেছনের গল্পটাই-বা কী, তা নিয়ে উঠে এসেছে এক চমকপ্রদ তথ্যচিত্র।
ইউটিউব ব্যবহারকারীর সংখ্যার দিক থেকে অন্য যেকোনো দেশকে বহুদূরে ফেলে শীর্ষে রয়েছে ভারত। দেশটিতে বর্তমানে প্রায় ৪৯ কোটি (৪৯০ মিলিয়ন) মানুষ নিয়মিত ইউটিউব ব্যবহার করেন। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ভারতের দর্শকসংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ। শুধু তা-ই নয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের মোট দর্শকসংখ্যাকে একত্র করলেও তা ভারতের একক ব্যবহারকারীর সংখ্যার চেয়ে প্রায় ১০ কোটি কম। কম খরচে মোবাইল ডেটা ও স্মার্টফোনের সহজলভ্যতা ভারতে এই বিপ্লব ঘটিয়েছে; বিশেষ করে ইউটিউব শর্টস এবং ক্রিকেটপ্রেমী দেশের উন্মাদনা ভারতকে এই প্ল্যাটফর্মের সবচেয়ে বড় বাজারে পরিণত করেছে। যেমন শুধু ক্রিকেটবিষয়ক ভিডিওতেই বছরে ৫০ বিলিয়নের বেশি ভিউ ভারতেই হয়।
যে দেশটিতে ইউটিউবের জন্ম, সেই যুক্তরাষ্ট্র রয়েছে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে। দেশটিতে প্রায় ২৫ কোটি সক্রিয় ইউটিউব ব্যবহারকারী রয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও বাজার ও প্রভাবের দিক থেকে বেশ শক্ত অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র। এরপরেই তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে রয়েছে লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিল (প্রায় ১৪ কোটি ৪৪ লাখ) এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ইন্দোনেশিয়া (প্রায় ১৪ কোটি)। ব্রাজিল ও ইন্দোনেশিয়ার দর্শকসংখ্যা এতটাই কাছাকাছি যে সামান্য এদিক-সেদিক হলেই তাদের স্থান বদল হতে পারে। এই দুই দেশের মোট দর্শকসংখ্যা আবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেও ছাড়িয়ে যায়। এ ছাড়া মেক্সিকো (৮৩ কোটি), জাপান (৭৮ কোটি) ও পাকিস্তান (৭২ কোটি) কাছাকাছি সংখ্যা নিয়ে তালিকার পরের অবস্থানগুলোতে রয়েছে।
বিশ্বের ইউটিউব সাম্রাজ্যের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মাত্র কয়েকটি দেশ। ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও ইন্দোনেশিয়া—এই চার দেশের মোট ব্যবহারকারী সংখ্যা প্রায় ১০২ কোটি। বিশ্বজুড়ে ইউটিউবের মোট দর্শকের প্রায় ৩৮ শতাংশই এই চার দেশের নাগরিক। এর মধ্যে শুধু ভারত একাই নিয়ন্ত্রণ করছে মোট দর্শকের প্রায় ১৮ শতাংশ। অর্থাৎ পৃথিবীর প্রতি ৫-৬ জন ইউটিউব ব্যবহারকারীর মধ্যে অন্তত ১ জন ভারতের। বাকি ৬২ শতাংশ দর্শক ছড়িয়ে রয়েছে বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তের বিভিন্ন দেশের শতকোটি মানুষের মাঝে।
ইউটিউবের এই বিশাল বিস্তার শুধু বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে এর সফলতার গল্প বলে না; এটি মূলত মানুষের ডিজিটাল সংযোগের পরিধিকেই প্রকাশ করে। ভারতের আকাশচুম্বী অগ্রযাত্রা, যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের ধারাবাহিকতা এবং এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি প্রমাণ করে, ইন্টারনেট ও ভিডিও কনটেন্ট আজ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের কতটা গভীরে শিকড় গেড়েছে। নতুন নতুন দর্শক প্রতিদিন এই দুনিয়ায় যুক্ত হওয়ায় কনটেন্ট নির্মাতা ও বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে এই প্ল্যাটফর্মগুলোর গুরুত্ব দিন দিন আরও বেড়ে চলেছে।
সূত্র: ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ