হোম > জীবনধারা > সাজসজ্জা

নখের ক্যানভাসে স্বপ্নের কারিগর: বেকি হলিস

ফিচার ডেস্ক, ঢাকা 

নখের সূক্ষ্ম কারুকাজ একজন নারীর আত্মবিশ্বাস এবং ব্যক্তিত্বের এক শৈল্পিক বহিঃপ্রকাশ। প্রতীকী ছবি: ফ্রিপিক

নারীর সৌন্দর্যচর্চার অন্যতম অনুষঙ্গ হলো নখ। এর সঙ্গে নারীর ব্যক্তিত্ববোধের একটা সম্পর্ক আছে। এ যেন এক আদিম অথচ চিরন্তন সম্পর্ক। হাতের আঙুলের ডগায় সেই নিখুঁত রঙের ছোঁয়া কিংবা নখের সূক্ষ্ম কারুকাজ কেবল সাজগোজ নয়। বরং তা একজন নারীর আত্মবিশ্বাস এবং ব্যক্তিত্বের এক শৈল্পিক বহিঃপ্রকাশ। নখের এই ক্ষুদ্র ক্যানভাসে যাঁরা জাদুর ছোঁয়া দেন, তাঁদেরই একজন বেকি হলিস। মাত্র ২৯ বছর বয়সে তিনি প্রমাণ করেছেন, সদিচ্ছা আর কঠোর পরিশ্রম থাকলে সাধারণ একটি শখ কীভাবে বিশ্বমঞ্চে নিয়ে যাওয়া যায়।

বেকি হলিসের এই যাত্রা কোনো রূপকথার মতো শুরু হয়নি। ১৭ বছর বয়সে খরচ বাঁচাতে তিনি নিজেই নিজের নখ সাজাতে শুরু করেন। তখন কে জানত, নিজের শোয়ার ঘরে করা সেই শৌখিন কাজ একদিন তাঁকে কয়েক কোটি টাকার মালিক করে তুলবে!

বেকি হলিস। ছবি: সংগৃহীত

২০২০ সালের করোনা মহামারি যখন বিশ্বকে থমকে দিয়েছিল, তখন বেকি থমকে না গিয়ে সময়টাকে কাজে লাগালেন। নখের কাজ করার সুযোগ না থাকায় তিনি শিক্ষকতা নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। তৈরি করেন প্রশিক্ষণের মডিউল। বিধিনিষেধ শেষ হতেই নিজের মায়ের ঘরের এক কোণ থেকে শুরু করেন হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া। বেকির শ্রমের ফসল হিসেবে যাত্রা শুরু করে ‘ব্লসম একাডেমি’। নিজের শহর শ্রুসবেরিতে তিনি গড়ে তুললেন একটি পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণকেন্দ্র। কিন্তু বড় পরিসরে কাজ করতে গিয়ে তিনি খেয়াল করেন, বাজারে ভালো মানের যন্ত্রপাতির বেশ অভাব রয়েছে। কিন্তু তত দিনে তিনি নিজের হাতেই অনেক শিক্ষার্থীকে তৈরি করে ফেলেছেন কাজের মাঠে নামার জন্য। তাই নিজের শিক্ষার্থীদের কাজকে আরও নিখুঁত করতে তিনি স্বপ্ন দেখলেন নিজের একটা ব্র্যান্ড তৈরি করার। সেই স্বপ্ন থেকেই জন্ম রিল ‘মুজ’। বেকির প্রতিশ্রুতি, এখান থেকে পেশাদার নখ টেকনিশিয়ানদের জন্য উচ্চমানের এবং সাশ্রয়ী সরঞ্জাম সরবরাহ করা হবে।

বেকি যখন শুরু করেছিলেন, তখন মাসে অর্ডার আসত মাত্র ৫০টি। আর আজ সেই সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে হাজার। তাঁর ব্র্যান্ড মুজ এখন কেবল একটি নাম নয়, নেল ইন্ডাস্ট্রিতে আস্থার প্রতীক। আমেরিকা থেকে অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এখন তাঁর তৈরি সরঞ্জাম পৌঁছে যাচ্ছে। বেকির ভাষায়, ‘এটি একটি স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো ব্যাপার।’ তাঁর একাডেমি এবং ব্র্যান্ড দুটিই এখন বছরে মিলিয়ন ডলারের ব্যবসায় পরিণত হয়েছে।

বেকি হলিস এর ব্র্যান্ড মুজ- এর একটি পণ্য। ছবি: সংগৃহীত

তবে এই পথচলা সব সময় মসৃণ ছিল না। বেকি যখন বিভিন্ন বিজনেস নেটওয়ার্কিং মিটিংয়ে যেতেন, পুরুষ ব্যবসায়ীরা তাঁকে প্রায়ই অবজ্ঞা করতেন। নখের কাজ করেন শুনলে অনেকে তাঁকে গুরুত্ব দিতে চাইতেন না। ধীরে ধীরে বেকি তাঁদের ভুল প্রমাণ করেছেন। তিনি মনে করেন, যে নারীরা আজ বিউটি ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে কাজ করছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই অনুপ্রেরণা। তাঁরা নিজেদের আয় তৈরি করছেন, পরিবার সামলাচ্ছেন, আবার সন্তানদের স্কুলে পৌঁছে দিয়ে সফলভাবে ব্যবসাও পরিচালনা করছেন।

বেকি বিশ্বাস করেন, ব্যবসার পথ সোজা নয়, কখনো ছিল না। তাঁর মতে, যখন সব ভালো চলে তখন সরব থাকা সহজ। কিন্তু আসল পরীক্ষা হয় মন্দা বা খারাপ সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার মধ্যে। তাঁর স্বপ্ন এখন পুরো ইউরোপ এবং আমেরিকাজুড়ে মিউজকে ছড়িয়ে দেওয়া। হাতের নখের মতো ছোট জায়গায় রঙের আঁচড় দিয়েও যে বিশ্ব জয় করা যায়, বেকি তার উজ্জ্বল উদাহরণ।

সূত্র: বিবিসি, স্ক্র্যাচ ম্যাগাজিন

বর্ষবরণে যেসব শুভ রঙে নিজেকে সাজাতে পারেন

ছোট ঘর সাজান মাল্টিফাংশনাল আসবাবে

২০২৫ সালের বিয়ের সাজে যা কিছু এল এবং গেল

উৎসবে ঘরের আবহ বদলে দেবে আলোর ব্যবহার

আপনার প্রিয় সাজের সামগ্রী কত দিন নিরাপদ

ফুরিয়ে আসা লিপস্টিকে নতুন প্রসাধনী

ফিরে ফিরে আসে ষাটের দশকের মেকআপ

রাশি মেনে লিপস্টিক পরছেন তো?

এই শীতে চুলের সেরা ৫ রং

দশমীতে ধুতি-পাঞ্জাবির মেলবন্ধন