শবে বরাত মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ রাত। এ রাতে আল্লাহ তাআলা তাঁর অগণিত বান্দাকে ক্ষমা করে দেন। তবে হাদিস শরিফে এমন কতিপয় মানুষের কথা উল্লেখ আছে, যারা এই মহিমান্বিত রজনীতেও আল্লাহর ক্ষমা থেকে বঞ্চিত থাকে।
যারা আল্লাহ তাআলার সঙ্গে কাউকে শরিক করে, তারা এই রাতেও ক্ষমা পায় না। শিরক হলো সবচেয়ে বড় গুনাহ। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে এই গুনাহ ক্ষমা করবেন না বলে স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন। তাই যারা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেন, মৃত ব্যক্তি বা মাজারকে সেজদা করেন, তাদের জন্য এই রাতে তওবা করা অত্যন্ত জরুরি।
হিংসা এমন মারাত্মক ব্যাধি যা মানুষের ইমান ও আমলকে ধ্বংস করে দেয়। যে ব্যক্তি অন্যের ভালো দেখে জ্বলেপুড়ে মরে, কারও উন্নতি সহ্য করতে পারে না, সে আল্লাহর রহমত থেকে দূরে সরে যায়। হিংসুক ব্যক্তি মূলত আল্লাহর ফয়সালার প্রতি অসন্তুষ্ট থাকে। তাই শবে বরাতের মতো বরকতময় রাতেও সে ক্ষমা থেকে বঞ্চিত থাকে।
ইসলামের দৃষ্টিতে আত্মীয়তার বন্ধন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যারা রক্তের সম্পর্ক ছিন্ন করে, নিকটাত্মীয়দের সঙ্গে কথা বলে না, তাদের খোঁজখবর নেয় না, তারা আল্লাহর অসন্তুষ্টির শিকার হয় এবং এ রাতের ক্ষমা থেকে বঞ্চিত থাকে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (সহিহ্ বুখারি: ৫৯৮৪)
যারা মুসলিম ভাইয়ের প্রতি শত্রুতা পোষণ করে, হিংসা-বিদ্বেষ রাখে, তারাও এই রাতে ক্ষমা পায় না। ইসলাম ভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসার ধর্ম। মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ ও শত্রুতা আল্লাহ তাআলা অপছন্দ করেন।
এ ছাড়া মদ্যপায়ী, পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান, ব্যভিচারী, হত্যাকারী, টাখনুর নিচে কাপড় পরিধানকারী প্রভৃতি শ্রেণির মানুষরাও আল্লাহর ক্ষমা থেকে বঞ্চিত থাকে। তবে আন্তরিকভাবে তওবা করলে এ সমস্ত জঘন্য পাপ থেকেও নিষ্কৃতি পাওয়া যায়।
এ জন্য শবে বরাতে এ জাতীয় গুনাহগুলো থেকে তওবা করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া প্রতিজন মুসলমানের একান্ত কর্তব্য।