ভারতীয় উপমহাদেশের স্বাধীনতা-আন্দোলন ও ইসলামি শিক্ষা প্রসারের ইতিহাসে শায়খুল হিন্দ মাওলানা মাহমুদ হাসান দেওবন্দি (রহ.) একটি অবিস্মরণীয় নাম। তিনি ছিলেন দারুল উলুম দেওবন্দের ইতিহাসের প্রথম ছাত্র এবং ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব।
শায়খুল হিন্দ ১৮৫১ সালে ভারতের বেরেলিতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বংশধারা ইসলামের তৃতীয় খলিফা হজরত উসমান (রা.)-এর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। তাঁর পিতা মাওলানা জুলফিকার আলী উসমানি ছিলেন একজন প্রখ্যাত আলেম, সুলেখক ও বুজুর্গ ব্যক্তিত্ব।
শায়খুল হিন্দের প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় স্থানীয় মক্তবে। তিনি ছিলেন দারুল উলুম দেওবন্দের প্রথম ব্যাচের প্রথম ছাত্র।
শিক্ষাজীবন শেষ করে তিনি দারুল উলুম দেওবন্দেই শিক্ষকতা শুরু করেন। তাঁর পাণ্ডিত্য ও পাঠদান পদ্ধতির কারণে তিনি দ্রুতই ‘শায়খুল হাদিস’-এর মর্যাদা লাভ করেন। দীর্ঘ ৪০ বছর তিনি দেওবন্দে শিক্ষকতা করেন। তাঁর হাতে তৈরি হওয়া বিশ্ববিখ্যাত ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন:
শায়খুল হিন্দ কেবল একজন শিক্ষকই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের ঘোর বিরোধী এক বিপ্লবী নেতা। তাঁর রাজনৈতিক চিন্তা গড়ে উঠেছিল শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভির দর্শনের ওপর ভিত্তি করে।
ব্রিটিশ সরকার তাঁর বৈপ্লবিক কার্যক্রম জানতে পেরে ১৯১৬ সালে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। তাঁকে ভূমধ্যসাগরের মাল্টা দ্বীপে নির্বাসিত করা হয়। সেখানে দীর্ঘ তিন বছর তিনি অমানবিক পরিবেশে কারাবাস করেন। বন্দী অবস্থায় তিনি পবিত্র কোরআনের তাফসির ও অনুবাদ নিয়ে কাজ করেন। ১৯২০ সালে তিনি মুক্তি পেয়ে ভারতে ফিরে আসেন।
কারাগারের অমানুষিক নির্যাতন তাঁর শরীরে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। ১৯২০ সালের ৩০ নভেম্বর এই মহান জ্ঞানতাপস ও বীর মুজাহিদ ইন্তেকাল করেন। তাঁর জীবন আজও স্বাধীনতাপ্রেমীদের জন্য অনুপ্রেরণা।