হোম > ইসলাম

মেহমানদারি করায় আসমান থেকে এল সুখবর

কাউসার লাবীব

ছবি: সংগৃহীত

সাহাবিদের নিয়ে বসে আছেন দয়ার নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। কথা বলছেন নানা বিষয়ে। হঠাৎ এক ক্ষুধার্ত আগন্তুক এসে নবীজি (সা.)-এর সামনে দাঁড়ালেন। চোখেমুখে ক্লান্তির ছাপ, কপালে ভাঁজ, হাত দুটি রিক্ত, শরীর ভেঙে পড়েছে ক্ষুধায়। রহমাতুল্লিল আলামিন নিজ ঘরে স্ত্রীদের কাছে খবর পাঠালেন—‘ঘরে কিছু খাবার আছে কি?’ মলিন উত্তর—‘পানি ছাড়া আর কিছুই নেই।’

নবীজি (সা.)-এর চোখেমুখে হতাশার কালো মেঘ। কণ্ঠে আফসোস। বড় আশা নিয়ে তাকালেন সাহাবিদের দিকে—‘কে আছে যে এই মেহমানকে তাঁর ঘরে নিয়ে গিয়ে মেহমানদারি করবে?’

বুকে সাহস নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লেন এক আনসার সাহাবি, নাম তাঁর আবু তালহা (রা.)। তাঁর চোখে দৃঢ় প্রত্যয়, মুখে উদার বাণী—‘আমি পারব, ইয়া রাসুলাল্লাহ।’

নবী করিম (সা.)-এর কাছ থেকে ক্ষুধার্ত মেহমানকে নিয়ে বাড়ির পথ ধরলেন আবু তালহা (রা.)। নিজ বাড়িতে পৌঁছে সালাম দিলেন। দরজা খুলে মুচকি হাসি দিয়ে সালামের উত্তর দিলেন স্ত্রী উম্মে সুলাইম (রা.)।

‘প্রাণের স্বামী, আপনি তো সাধারণত এই সময় বাড়িতে ফিরে আসেন না। আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর সোহবতে থাকেন। কোন বিষয় আপনাকে ঘরে নিয়ে এসেছে?’ শান্ত গলায় জানতে চাইলেন স্ত্রী।

সাহাবি আবু তালহা (রা.) বললেন, ‘সঙ্গে করে নবীজির মেহমান নিয়ে এসেছি। তাঁর খাবারের ব্যবস্থা করো।’

উম্মে সুলাইম (রা.) হতাশ গলায় বললেন, ‘ঘরে তো বাচ্চাদের জন্য সামান্য খাবার ছাড়া আর কিছু নেই।’

আবু তালহা (রা.)-এর কপালে চিন্তার ভাঁজ—‘তাহলে কি নবী করিম (সা.)-এর মেহমানের সম্মান আমরা রক্ষা করতে পারব না।’ এসব ভাবতে ভাবতে তিনি ক্লান্ত। হঠাৎ মাথায় এক বুদ্ধি এল। স্ত্রীকে বললেন, ‘বাচ্চাদের জন্য যে খাবার আছে তা দস্তরখানায় পরিবেশন করো। বাতি জ্বালাও। আর বাচ্চাদের ঘুম পাড়িয়ে দাও—আপাতত তাদেরকে খাবার দেওয়ার দরকার নেই।’

শ্রদ্ধাভরে স্বামীর আদেশ মেনে নিলেন উম্মে সুলাইম। বাচ্চাদের ঘুম পাড়িয়ে দিয়ে ঘরে থাকা সামান্য খাবার মেহমানের সামনে পরিবেশন করলেন। মেহমান খেতে বসলে আবু তালহা (রা.)-এর স্ত্রী বাতি ঠিক করার ছলে উঠে গিয়ে তা নিভিয়ে দেন। ঘরে নেমে আসে অন্ধকার। তারা মেহমানকে অনুরোধ করেন খাবার শুরু করার জন্য। মেহমান খাবার শুরু করেন। পাশে থেকে স্বামী-স্ত্রী উভয়েই এমনভাবে শব্দ করতে লাগেন, যেন তাঁরাও মেহমানের সঙ্গে খাচ্ছেন। মেহমান তৃপ্তি সহকারে খাবার খেলেন, কিন্তু সন্তানসহ তাঁরা দুজন সারা রাত অভুক্ত রইলেন।

পরদিন সকালে যখন আবু তালহা (রা.) নবীজি (সা.)-এর কাছে গেলেন, নবীজির মুখে এক স্বর্গীয় হাসি। তিনি বললেন, ‘আবু তালহা, আল্লাহ তোমাদের গত রাতের কাজে অত্যন্ত খুশি হয়েছেন। এবং এই আয়াতটি নাজিল করেছেন—‘...তাঁরা অভাব থাকা সত্ত্বেও নিজেদের ওপর অন্যদেরকে অগ্রাধিকার দেয়। আর যাদের মন কার্পণ্য থেকে মুক্ত রাখা হয়েছে, তাঁরাই সফলকাম।’

আবু তালহা (রা.) অবাক হয়ে শুনলেন সবকিছু। তিনি বুঝতে পারলেন, তাঁদের সামান্য ত্যাগ আল্লাহকে কতটা মুগ্ধ করেছে। তিনি দৌড়ে গেলেন স্ত্রীর কাছে। ভালোবাসার পরশ মেখে জানালেন আল্লাহ তাআলার সুসংবাদের কথা।

রমজান মাস পেয়েও যারা হতভাগা

ইমাম তাহাবি: আকিদা ও ফিকহ শাস্ত্রের অনন্য মহিরুহ

ইতিকাফের যে মাসআলাগুলো জানা জরুরি

আজকের নামাজের সময়সূচি: ০৯ মার্চ ২০২৬

রমজানে জীবন বদলানোর ১০ উপায়

রমজানের শেষ দশকের ইতিকাফ: প্রস্তুতি নেবেন যেভাবে

ফাজায়েলে আমলের লেখক শায়খুল হাদিস জাকারিয়া কান্ধলভি

নবীজির একদল সাহসী গোয়েন্দার আত্মত্যাগ

মুসাফির ও অসুস্থ ব্যক্তি কীভাবে রোজা রাখবেন?

আজকের নামাজের সময়সূচি: ০৮ মার্চ ২০২৬