হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগী–অংশীদার দেশগুলো যুদ্ধের আগুনে পুড়বে: ইরানি শীর্ষ জেনারেল

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

মেজর জেনারেল আলী আবদুল্লাহি। ছবি: পার্স টুডে

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ওই অঞ্চলের মুসলিম দেশগুলোকে নজিরবিহীন কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য বড় ধরনের হামলা মোকাবিলায় মুসলিম বিশ্বকে মার্কিন জোটবদ্ধতা থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে আমেরিকার সামরিক সুরক্ষায় সাহায্যকারী যেকোনো দেশকে সরাসরি যুদ্ধের আগুনে পোড়ানোর হুমকিতে আঞ্চলিক উদ্বেগ নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে।

ইরান সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের জরুরি জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার হুমকি বাস্তবায়ন করে, তবে ইরানও পাল্টা জবাব দেবে। একই সময়ে পুরো অঞ্চলজুড়ে সামরিক হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইরানের যুদ্ধকালীন সামরিক কমান্ডের প্রধান মেজর জেনারেল আলী আবদুল্লাহি গতকাল শনিবার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বেশ দ্রুততার সঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধের আগুন ছড়িয়ে দেওয়ার দিকে এগোচ্ছে।’

অঞ্চলের প্রতিবেশী দেশগুলোকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজস্ব স্বার্থরক্ষায় তাদের রাজধানী, সম্পদ এবং অবকাঠামোকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে এবং একই সঙ্গে ইসরায়েলের যুদ্ধযন্ত্রকে শক্তিশালী করছে। আবদুল্লাহি স্পষ্ট করে বলেন, ‘পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিচ্ছি—মুসলিম দেশগুলোকে অবশ্যই দূরদর্শিতার সঙ্গে আমেরিকার অপরাধগুলো নজরদারিতে রাখতে হবে এবং তাদের (যুক্তরাষ্ট্রের) সঙ্গে সহযোগিতা ও জোটবদ্ধতার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে হবে। অন্যথায়, যে দেশই অপরাধী ও আক্রমণকারী আমেরিকার আত্মরক্ষার ঢাল হিসেবে নিজেকে সঁপে দেবে, সে যুদ্ধের আগুনে পুড়বে।’

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় ইরান এই সতর্কতা দিল। প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও পেট্রোকেমিক্যালের মতো ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে খুব শীঘ্রই এক দফায় ব্যাপক হামলা শুরু করতে পারে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও এই অভিযানের চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি। এই অভিযান দুই সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে এবং এর লক্ষ্য হতে পারে ইরানের রাজধানী তেহরান জুড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া এবং দেশজুড়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি করা।

ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংক ট্যাংক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ চলতি সপ্তাহের শুরুতে জানিয়েছে, মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সামগ্রিকভাবে ভালো পারফর্ম করেছে। তবে ক্রমাগত সামরিক অভিযানের কারণে মার্কিন সেনাবাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধকের (ইন্টারসেপ্টর) মজুদ কমে গেছে। বর্তমানে তাদের হাতে প্যাট্রিয়টের মজুদ ১ হাজারের নিচে এবং টার্মিনাল হাই–অলটিট্যুড এয়ার ডিফেন্স বা থাডের (THAAD) মজুদ প্রায় ২৫০-এ নেমে এসেছে।

এদিকে, গত মঙ্গলবার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেন, ‘আমরা ইরানের জ্বালানি লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলা চালাতে খুব পছন্দ করব।’ দেশটির সম্প্রচারমাধ্যম চ্যানেল ১৪-এ প্রচারিত এক নিরাপত্তা সম্মেলনের বক্তব্যে তিনি যোগ করেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আপাতত এটি অনুমোদন করছে না, কারণ তারা চিন্তিত যে ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলা চালাতে পারে এবং বিশ্বজুড়ে একটি জ্বালানি তেল সংকট তৈরি হতে পারে।’ তিনি বলেন, ইসরায়েল ইরানকে ‘৪০ বছর পেছনে ফেলে দিতে’ প্রস্তুত।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল পুরো ইরানজুড়ে সামরিক ঘাঁটি ও নেতাদের ওপর হামলা চালিয়েছে, পাশাপাশি তারা দেশটির বেসামরিক অবকাঠামোগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করেছে। যার কিছু অংশ পুনর্নির্মাণ করতে বহু বছর এবং ব্যাপক বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে। এই বোমা হামলা কেবল ইরানের অভ্যন্তরীণ দুর্ভোগকেই বাড়িয়ে তুলেছে, যার মধ্যে রয়েছে সংকুচিত হতে থাকা অর্থনীতি এবং চরম জ্বালানি ভারসাম্যহীনতা, যা ৯ কোটিরও বেশি ইরানিকে বিপর্যস্ত করে তুলছে।

জবাবে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনী পুরো অঞ্চলজুড়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। শুধু তাই নয়, জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার জবাবে তারা ইসরায়েল, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন এবং ওমানের জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত হেনে পাল্টা জবাব দিয়েছে।

কূটনীতির পথ বন্ধ হয়নি

ইরান জোর দিয়ে বলেছে, মার্কিন আক্রমণ মোকাবিলার কৌশলগত চাল হিসেবে তারা হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া করতে চায় না। দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদর গত শনিবার সংক্ষিপ্ত বার্তায় বলেন, সামরিক হামলা অব্যাহত রাখা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ কেবল হরমুজ প্রণালী এবং অন্যান্য জলপথের পরিস্থিতিকে আরও আশঙ্কাজনক করে তুলছে। তিনি বলেন, ‘এর মাসুল গুনতে হবে বিশ্ব অর্থনীতি, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বাজার এবং তাদের ভোটারদের।’

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে তারা ওয়াশিংটনের কাছে আলোচনার জন্য কোনো অনুরোধ পাঠায়নি, তবে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত হলে কীভাবে প্রণালীটি পুনরায় চালু করা যায় তা নিয়ে আলোচনা চলছে। গত শনিবার বক্তব্য দেওয়ার সময় ইরানের প্রধান মধ্যস্থতাকারী ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ আবার সামরিক পদক্ষেপ থেকে অর্জিত সাফল্যগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে একটি সমঝোতামূলক নিষ্পত্তিতে পৌঁছানোর সংকেত দেন।

কট্টরপন্থী আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি বলেন, ‘আমরা বিজয়ী হয়েছি। কিন্তু এই যুদ্ধের বিজয়গুলোকে সুসংহত করতে হবে, আমাদের এই বিজয়কে নথিবদ্ধ করতে সক্ষম হতে হবে।’ তিনি আরও যোগ করেন যে, একটি সুস্পষ্ট ভবিষ্যতের জন্য দেশের আশা থাকা প্রয়োজন। গালিবাফ বলেন, কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য হওয়া উচিত ভবিষ্যৎ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দপ্তরকে আরও বেশি স্বাধীনতা দেওয়া, তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি।

গাজায় আরও ৮ জনকে হত্যা করল ইসরায়েল

মোজতবা খামেনিকে হন্যে হয়ে খুঁজছে ইসরায়েল, মাঠে মোসাদ-সিআইএ

সমুদ্রপথ সুরক্ষায় সামরিক জোটের ঘোষণা সৌদির, আছে বাংলাদেশও

হামাস সদস্যদেরও গাজা পুলিশে নেওয়ার পরিকল্পনা, প্রবেশ করবে আন্তর্জাতিক বাহিনী

ঐতিহাসিক অগ্রগতি: অস্ত্র সমর্পণে হামাসের সম্মতি, গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারে রাজি ইসরায়েল

সুয়েজ খালের কাছে ড্রোন হামলায় নতুন মাত্রা পেল মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ

এক হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের তিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি ইরানের

এবার মিসরের বন্দরে মার্কিন ট্যাংকারে ড্রোন হামলা, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ফের হামলা

ইরানি অর্থনীতির শ্বাসরোধের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের, ১০ প্রতিষ্ঠান ও ৮ ট্যাংকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা

ইরানের বিক্ষোভে এক কিশোরীর শেষ প্রতিরোধের খবর প্রকাশ