বাহরাইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পানি শোধন কেন্দ্রে ইরানের ড্রোন হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজ রোববার এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এই হামলার ফলে ওই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানি ড্রোন হামলার ফলে দেশটির একটি প্রধান পানি শোধন কেন্দ্রের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী এলাকাটি ঘিরে ফেলে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই হামলায় বড় ধরনের কোনো প্রাণহানি না ঘটলেও স্থাপনাটির কারিগরি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
এই ঘটনার মাত্র একদিন আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি অভিযোগ করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কেশম দ্বীপে একটি স্বাদু পানির পরিশোধন কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। আরাঘচি এটিকে একটি ‘বিপজ্জনক নজির’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। বাহরাইনের আজকের হামলার পর ধারণা করা হচ্ছে, এটি সেই হামলারই একটি পাল্টা জবাব হতে পারে। তবে বাহরাইনের এই বিবৃতির পর তেহরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের নাগরিকদের পানির চাহিদার জন্য মূলত সমুদ্রের লোনা পানি শোধনের ওপর নির্ভরশীল। বাহরাইনের মতো একটি দেশে এই ধরনের অবকাঠামোতে হামলার ঘটনা সরাসরি জনজীবনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই ধরনের হামলা এই অঞ্চলের উত্তেজনাকে নতুন এক মাত্রায় নিয়ে গেছে। বিশেষ করে ইরান ও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে চলমান এই সংঘাত সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক দিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা এই অঞ্চলকে একটি অস্থির পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।