হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

যুদ্ধের মধ্যেও ভিন্নমতাবলম্বীদের গ্রেপ্তার ও মৃত্যুদণ্ড থেমে নেই ইরানে

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

প্রতীকী ছবি। ছবি: সেন্টার ফর হিউমান রাইটস ইরান

গত জানুয়ারির সরকারবিরোধী রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভের জেরে আমিরহোসেন হাতামি নামে আরও এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান। দেশটির বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে তেহরানে একটি সামরিক স্থাপনায় হামলা ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ আনা হয়েছিল।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৯ জন রাজনৈতিক বন্দীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে। এ ছাড়া আরও বেশ কয়েকজন বর্তমানে মৃত্যুদণ্ডের তালিকায় রয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন করে বিক্ষোভ দানা বাঁধা ঠেকাতেই ইরান এই কঠোর পথ বেছে নিয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিদিন গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যাচ্ছে। আটককৃতদের অনেকের বিরুদ্ধে বিরোধী মিডিয়া এবং বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছড়া ইরানি কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রীয় মাধ্যমগুলো ক্রমাগত হুঁশিয়ারি দিয়ে বলছে, কেউ নিয়ম ভাঙলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানুয়ারির বিক্ষোভের সময় ইরানে নজিরবিহীন দমন-পীড়ন চালানো হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্ট নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, সেই সময় অন্তত ৬ হাজার ৫০৮ জন বিক্ষোভকারী নিহত হন এবং ৫৩ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেই ব্যাপক ধরপাকড় এবং বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির কারণেই এখন বড় ধরনের কোনো বিক্ষোভ দেখা যাচ্ছে না।

রাজধানী তেহরানের বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, যুদ্ধের বিস্ফোরণ ও হামলার শব্দের পাশাপাশি রাতে অন্য এক ধরনের শব্দ তাদের ঘুমাতে দিচ্ছে না। রাস্তায় রাস্তায় ইসলামিক রিপাবলিকের পতাকা ও লাউডস্পিকার নিয়ে টহল দিচ্ছে বিশেষ দল। এই টহল দলের লাউডস্পিকারের শব্দ নাগরিকদের মনে সার্বক্ষণিক নজরদারির এক আতঙ্ক তৈরি করছে।

বিক্ষোভ দমনে ইরান আরও কিছু কৌশল প্রয়োগ করছে। শহরের বিভিন্ন মোড়ে নতুন করে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। বাসিন্দাদের ফোনে গণহারে সতর্কতামূলক খুদে বার্তা (এসএমএস) পাঠানো হচ্ছে।

এই পদক্ষেপগুলো মানুষের মধ্যে যোগাযোগ সীমিত করে দিচ্ছে, যার ফলে নতুন কোনো বিক্ষোভ সংগঠিত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

এদিকে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনগুলোতে প্রতিদিন রাতে বড় বড় শহরগুলোর প্রধান চত্বরগুলোতে সরকারপন্থীদের সমাবেশের খবর প্রচার করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, এই চত্বরগুলোতেই গত জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

পাইলট খুঁজতে গিয়ে ইরানি হামলার মুখে মার্কিন উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার

ইয়েমেনে আরব আমিরাতের কিলিং মিশন—মাসে ১৫ লাখ ডলার পেতেন সাবেক মার্কিন সেনা

তেলের জাহাজ থেকে ইরানের টোল আদায় মানবে না যুক্তরাজ্য

এফ-৩৫ বিধ্বস্তের পর পাইলট উদ্ধারে মার্কিন অভিযান ব্যর্থ: ইরান

ইরানে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ

কুয়েতের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পানি শোধনাগারে হামলা নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

হরমুজ খুলতে জাতিসংঘে ইরানকে চাপ প্রয়োগের প্রস্তাব রুখে দিল তিন দেশ

ইরানের করিডর এড়িয়ে যেভাবে হরমুজ পার হচ্ছে ওমানি জাহাজ

ইউক্রেন ও ইরান: যুদ্ধে যেভাবে মিলেছে দুই দেশ

ইরানে পুরস্কারজয়ী মানবাধিকার আইনজীবী গ্রেপ্তার