ভারতের পুরান দিল্লির চাওড়ি বাজার এলাকায় আজ বৃহস্পতিবার সকালে নির্মাণাধীন তিনতলা একটি ভবন ধসে অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে বেশ কয়েকজন আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। খবর এনডিটিভির।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে চাওড়ি বাজার মেট্রো স্টেশনের কাছে গলি সিতারা এলাকায় ভবন ধসের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে অন্তত ছয়টি ফায়ার সার্ভিস ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। এসব ইউনিটের মধ্যে পানিবাহী ফায়ার টেন্ডার ও উদ্ধারকারী যানও রয়েছে।
ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে, ভবনটির একটি অংশ ধসে সরু গলির ওপর পড়ে আছে। আশপাশের ভবনগুলোর মাঝখানে গলিজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে ধ্বংসস্তূপ। পুরান দিল্লির ঐতিহাসিক সরু গলিগুলোতে রাস্তার দুই পাশে যানবাহন পার্ক করে রাখায় উদ্ধারকাজে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে।
ঘটনাস্থলের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের গাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন, যাতে একটি অ্যাম্বুলেন্স গলির ভেতর দিয়ে যেতে পারে। উদ্ধারকর্মীদের ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে এবং আহতদের সহায়তা দিতে বেশ কয়েক মিটার পথ হেঁটে যেতে হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ নাঈমের ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, ‘আমরা ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দ শুনতে পাই। সবাই ঘুম থেকে উঠে দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসি। প্রথমে ভেবেছিলাম আমাদের নিজেদের বাড়িটিই ধসে পড়ছে। পরে বাইরে এসে বুঝতে পারি, পাশের নির্মাণাধীন বাড়িটি ধসে পড়েছে।’
স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, গত তিন থেকে চার মাস ধরে ভবনটির নির্মাণকাজ চলছিল। সেখানে কেউ বসবাস করতেন না। দুর্ঘটনার সময় ভবনটির ভেতরে কেবল নির্মাণশ্রমিকেরা উপস্থিত ছিলেন। ভবনটির মালিক পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকেন।
এর কয়েক দিন আগেই উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে একটি ভবনের দুটি ছাদ বা স্ল্যাব ধসে দুই ব্যক্তি নিহত হন। নতুন একটি তলা নির্মাণের সময় মিলান গার্ডেন এলাকায় পুরোনো একটি বাড়িতে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। নির্মাণকাজ চলাকালে বাড়িটির বিদ্যমান ছাদের একটি অংশ ধসে পড়ে। এর ফলে তার ওপরের স্ল্যাবটিও ভেঙে পড়ে বলে জানা গেছে।
ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন ৬০ বছর বয়সী চন্দরপাল এবং ৩৩ বছর বয়সী বিজয় কুমার। পরে তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।
এর আগে গত ৭ অক্টোবর উত্তর-পূর্ব দিল্লির সীমাপুরী এলাকায় চারতলা একটি ভবন ধসে এক শিশুসহ তিনজন নিহত হন। এ ঘটনায় আহত আটজনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য তাহিরপুরের রাজীব গান্ধী সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সর্বশেষ ভবন ধসের ঘটনায় দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা এবং দিল্লি মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের (এমসিডি) সমালোচনা করেছেন আম আদমি পার্টির (আপ) নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ।
গত ৬ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় ছেলেদের পেইং গেস্ট (পিজি) আবাসন হিসেবে ব্যবহৃত একটি ভবন ধসে পড়ার পর এমসিডি দিল্লির বিভিন্ন ভবনে নিরাপত্তা নিরীক্ষা বা সেফটি অডিট পরিচালনা করেছিল। তবে সেই নিরীক্ষার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভরদ্বাজ। তিনি প্রশ্ন করেন, ‘রেখা গুপ্তার সরকার এবং এমসিডি দিল্লির সব ভবনে একাধিকবার নিরাপত্তা নিরীক্ষা চালিয়েছে। তা সত্ত্বেও একের পর এক ভবন ধসে পড়ছে কেন?’