হোম > বিশ্ব > ভারত

মমতা-পাওয়ার কি আদৌ কংগ্রেসে ফিরবেন, সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ কতটা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শারদ পাওয়ারের মতো সাবেক কংগ্রেস নেতারা দলে ফিরতে পারেন এমন গুঞ্জন দেখা যাচ্ছে ভারতের রাজনীতিতে। ছবি: সংগৃহীত

ভারতে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রচারের সময় শারদ পাওয়ার ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, ‘আগামী দুই বছরের মধ্যে একাধিক আঞ্চলিক দল কংগ্রেসের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হবে, অথবা তারা কংগ্রেসে একীভূত হওয়ার বিকল্প বিবেচনা করতে পারে।’ তিনি এ কথা বলেছিলেন সাতারায়, এক সাক্ষাৎকারে। নিজের দল ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি সম্পর্কে পাওয়ার বলেন, তিনি তাঁর দল এবং কংগ্রেসের মধ্যে কোনো পার্থক্য দেখেন না।

সাক্ষাৎকারটি দ্রুতই গুরুত্ব পেতে শুরু করে। বিশেষ করে, পাওয়ারের ব্যক্তিত্বের কারণে। কারণ, তিনি এমন কোনো ব্যক্তি নন, যিনি হঠাৎ মুখে যা আসে তাই বলেন। তাঁর কথা পরিমিত এবং সময় নির্বাচনও অত্যন্ত সচেতন। স্পষ্টই বোঝা গিয়েছিল, এটি ছিল একটি ‘ট্রায়াল বেলুন’ বা কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়া যাচাই করার কৌশল। এক বছর আগে এনসিপি বিভক্ত হওয়ার পর, বড় অংশটি তাঁর (বর্তমানে প্রয়াত) ভাইপো অজিত পাওয়ারের দিকে ঝুঁকে পড়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে প্রবীণ পাওয়ার হয়তো রাজ্য নির্বাচনে পরিস্থিতি পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতিতে বড় ভূমিকার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখতে চেয়েছিলেন।

কয়েক মাস পরে এই বিষয়ে শারদ পাওয়ারের সঙ্গে আলোচনা করা একজন জানান, শারদ পাওয়ারের এই মন্তব্যের পর কংগ্রেসের দিক থেকে কোনো প্রতিক্রিয়াই আসেনি। কংগ্রেস লোকসভায় পাওয়া ৯৯টি আসনের কারণে যে গতি তৈরি হয়েছিল, তা কাজে লাগিয়ে অগ্রসর হওয়ার পথ বেছে নেয়নি। হয়তো তারা চাইলে পাওয়ারের মাধ্যমে অন্য আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয় গড়ে তুলতে পারত। প্রশ্ন হলো, তা হলে কি হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র ও দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল বদলাত, যেখানে বিজেপি নতুন শক্তি ফিরে পেয়েছিল?

কংগ্রেস নেতৃত্ব সম্ভবত পাওয়ারের প্রতি তাদের দীর্ঘদিনের সতর্ক মনোভাব অতিক্রম করতে পারেনি। পাওয়ার ১৯৭৮ সালে প্রথম কংগ্রেস ছেড়ে বেরিয়ে যান, পরে ১৯৮৬ সালে ফেরেন এবং আবার ১৯৯৯ সালে সোনিয়া গান্ধীর বিদেশি পরিচয় ইস্যুতে দল ত্যাগ করে এনসিপি গঠন করেন। এখন—ঠিক দুই বছর পর—পাওয়ারের ভবিষ্যদ্বাণী নতুন করে বাস্তবতার আলো পাচ্ছে। আঞ্চলিক দলগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে, আর বিজেপি দ্রুত নিজের প্রভাব বিস্তার করছে। নতুন আত্মবিশ্বাসে ক্ষমতাসীন দলটি সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের লক্ষ্যে বিরোধী দলগুলোর ভাঙনকে উৎসাহিত করে এগোচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গে একসময় অপ্রতিরোধ্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু পরাজিতই হননি, তাঁর দলও দ্রুত ভাঙনের মুখে পড়েছে। তাঁর দুই-তৃতীয়াংশ বিধায়ক ও লোকসভা সদস্য ইতিমধ্যে তাঁর কাছ থেকে সরে গেছেন। ২০ বিদ্রোহী সংসদ সদস্যের একটি দল একটি অখ্যাত দল এনসিপিআইতে মিশে গিয়েছে, মূলত দলত্যাগ বিরোধী আইন থেকে বাঁচার জন্য। পরে তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে—তারা এখন বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটকে সমর্থন করবে।

মহারাষ্ট্রে শিবসেনা (ইউবিটি) হঠাৎ আরেক দফা বিভাজনের আশঙ্কার মুখে পড়েছে। গত রোববার উদ্ধব ঠাকরের আহ্বানে ডাকা বৈঠকে তাঁদের নয় লোকসভা সদস্যের মধ্যে পাঁচজনই অনুপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে এনসিপি (শরদ পাওয়ার) শিবিরেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, যেখানে আট লোকসভা সদস্যের মধ্যে কয়েকজন অজিত পাওয়ারের এনসিপিতে ফিরে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন, যদিও চলতি বছরের শুরুতে এক বিমান দুর্ঘটনায় অজিতের মৃত্যু সেই প্রক্রিয়াকে থামিয়ে দেয়।

কেরালায় বিজেপি—যারা সংসদে সীমা পুনর্নির্ধারণ (ডিলিমিটেশন) সংক্রান্ত আইন পাস করাতে এবং নারী সংরক্ষণ আইন কার্যকর করতে চায়—সদ্য ক্ষমতা হারানো ডিএমকের সঙ্গেও যোগাযোগ বাড়িয়েছে। ডিএমকে কংগ্রেসের প্রতি অসন্তুষ্ট। কারণ, তারা অভিনেতা ও কেরালার নতুন মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়ের দল টিভিকের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। ইঙ্গিত রয়েছে, বিজেপি ডিএমকে নেতৃত্বের সঙ্গে নীরব আলোচনা চালাচ্ছে এবং তাদের সঙ্গে সমঝোতার জন্য ডিলিমিটেশন বিল নতুনভাবে সাজাচ্ছে। বর্তমানে ডিএমকের কাছে ২২ জন লোকসভা সদস্য রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন কংগ্রেস ৮ জুন দুই বছর পর প্রথমবারের মতো ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক ডাকে। যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগে এই জোট নিয়ে খুব একটা আগ্রহ দেখাননি, এবার তাঁকে সোনিয়া গান্ধীকে আন্তরিকভাবে আলিঙ্গন করতে দেখা যায়। এরপর হঠাৎই গুঞ্জন ছড়ায় যে মমতা এবং পাওয়ার তাঁদের সংকুচিত আঞ্চলিক দলগুলো কংগ্রেসের সঙ্গে একীভূত করতে পারেন।

যদিও কংগ্রেস ও মমতার তৃণমূলের মুখপাত্ররা এই খবর অস্বীকার করেন। রাজস্থানের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট বলেন, যারা একসময় কংগ্রেস ছেড়ে গিয়েছিলেন, তাঁদের সকলেরই ‘ঘরে ফেরা’ প্রয়োজন। শিবসেনার (ইউবিটি) সঞ্জয় রাউতও—যিনি শারদ পাওয়ারের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত—একই ধরনের মন্তব্য করেন। এনসিপি নেতা ও পাওয়ারের ভাইপো রোহিত পাওয়ারও সম্ভাবনাটি পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি। তাঁর মতে, ‘উপযুক্ত সময়ে এটি অবশ্যই সম্ভব।’

প্রশ্ন থেকেই যায়

‘ঘরে ফেরা’ ধারণাটি একটি মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব তৈরি করতে পারে। তবে আকর্ষণীয় শোনালেও এটি বাস্তবে কতটা সম্ভব? যারা দল ছেড়ে নিজেদের আলাদা পথ গড়েছেন, তারা আবার ফিরে এসে কতটা গ্রহণযোগ্য হবেন? কারণ ভাঙা যত সহজ, জোড়া লাগানো ততই কঠিন; পুরনো ক্ষোভ, অপমান ও অবিশ্বাস ভুলে আবার এক ছাতার নিচে আসা সহজ কাজ নয়।

মমতা বা পাওয়ার কি রাহুল গান্ধীর অধীনে কাজ করতে পারবেন? টেকনিক্যালি তাঁরা দলীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের অধীনেই থাকবেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, তাঁদের নিজ নিজ রাজ্যে কি স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হবে? আরও বড় প্রশ্ন, যেসব কর্মীরা গত কয়েক বছরে একে অপরের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছে, তারা কীভাবে সহজে একসঙ্গে কাজ করবে?

মমতা ও পাওয়ার ছাড়াও আছেন অন্ধ্রপ্রদেশের ওয়াইএসআর কংগ্রেসের ওয়াইএস জগন মোহন রেড্ডি। তাঁর দল ২০১০ সালে তাঁর বাবা ও তৎকালীন অবিভক্ত অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াইএস রাজশেখর রেড্ডির মৃত্যুর পর কংগ্রেস থেকে আলাদা হয়ে যায়। এ ছাড়া, বিভিন্ন জনতা দলের অংশ রয়েছে, যাদের রাজনৈতিক শিকড় কংগ্রেসের ঐতিহ্যের সঙ্গেই যুক্ত। তবে মহারাষ্ট্রের শিবসেনা, দিল্লির আম আদমি পার্টি, উত্তর প্রদেশের সমাজবাদী পার্টি বা বিহারের রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) এই ধাঁচের নয়। তাদের রাজনৈতিক গঠন মূলত অতীতের সমাজতান্ত্রিক ধারার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

পূর্ণ একীভূতকরণ হোক বা না হোক, পাওয়ারের কথামতো আঞ্চলিক দলগুলোর সঙ্গে কংগ্রেসের ‘আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক’ বা ধাপে ধাপে আসনভিত্তিক জোট গঠন তুলনামূলকভাবে বেশি বাস্তবসম্মত পথ হতে পারে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসে ফিরবেন কি না, তা অনেকটাই নির্ভর করবে তিনি কত দ্রুত এবং কীভাবে জনমনে সহানুভূতির ঢেউ তুলতে পারেন তারা ওপর। বিশেষ করে তাঁর দলীয় সহকর্মীদের কাছ থেকে পাওয়া আচরণের প্রেক্ষিতে। আর সেই সহানুভূতিকে তিনি রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করতে পারবেন কি না, সেটাই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপ।

বাংলাদেশঘেঁষা চিকেন’স নেক ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক পরিকল্পনা, কী আছে এতে

আন্দোলনের মাঠে চড়-থাপ্পড় খেলেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক

বিহারে মন্ত্রীর আত্মীয়ের জমি বাঁচাতে পরিবর্তন হয়ে গেল এক্সপ্রেসওয়ের রুট

এবার মমতাকে ছেড়ে মোদির জোটে তৃণমূলের ২০ বিদ্রোহী সংসদ সদস্য

পরিস্থিতি খুব খারাপ, শুধু ভারতীয়দের ওপরই হামলা হচ্ছে—সাহায্যের আকুতি জানিয়ে ভিডিও বার্তা

বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় জনমিতিক পরিবর্তন খতিয়ে দেখবে ভারত

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া নির্মাণে বিলম্ব ছিল ঐতিহাসিক ভুল: হিমন্ত বিশ্ব শর্মা

প্রেমের বিয়ে মেনে না নিয়ে থানার ভেতরেই মেয়েকে খুন করলেন বাবা

টেস্টটিউব বেবি নিতে গিয়ে গর্ভে অন্যের ভ্রূণ, যমজ সন্তান নিয়ে বিপাকে দম্পতি

ভারতে ওষুধের বদলে ফরমালিন ইনজেকশন, ক্যানসার আক্রান্ত শিশুর মৃত্যু