পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর পদে বিজেপি নেতা ‘জায়ান্ট কিলার’ শুভেন্দু অধিকারীর জায়গা এখন প্রায় নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে। গত মাসের তীব্র নির্বাচনী লড়াইয়ের পর তিনি এখন অপেক্ষা করছেন নিজের রাজনৈতিক গুরু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্তরসূরি হওয়ার জন্য। নতুন মন্ত্রিসভায় দুজন উপমুখ্যমন্ত্রী পেতে পারেন শুভেন্দু।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ফলাফলে তৃণমূল কংগ্রেসকে কার্যত হতবাক করে দিয়ে রাজ্যে প্রথম বিজেপি সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। এখন সরকার গঠনের দিকে নজর ঘুরতেই ভেতরের সূত্রগুলো বলছে, শুভেন্দু অধিকারীকে সহায়তা করতে রাজ্যে দুজন উপমুখ্যমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।
গত দুই দশকে পশ্চিমবঙ্গে কোনো উপমুখ্যমন্ত্রী ছিলেন না। প্রয়াত সিপিএম নেতা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যই ছিলেন শেষ ব্যক্তি, যিনি জ্যোতি বসুর সরকারে এই পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
সূত্রগুলোর দাবি, সম্ভাব্য দুই উপমুখ্যমন্ত্রীর একজন হতে পারেন একজন নারী। সাম্প্রতিক নির্বাচনে আসানসোল দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে জয়ী বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এই দৌড়ে এগিয়ে আছেন বলে জানা গেছে। তিনি এই পদ পেলে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম নারী উপমুখ্যমন্ত্রী হবেন। অন্য উপমুখ্যমন্ত্রীর পদটি উত্তরবঙ্গ থেকে কাউকে দেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। এ নিয়ে জল্পনা চলছে, শিলিগুড়ি থেকে জয়ী বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর ঘোষকে এই দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা অমিত শাহ কলকাতায় অগ্নিমিত্রা পাল ও শঙ্কর ঘোষের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন। সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ। আজ সন্ধ্যায় বিজেপির বিধায়কদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে বিধানসভা দলের নেতা নির্বাচিত করা হবে এবং তিনিই মুখ্যমন্ত্রী হবেন। এর আগে সূত্রগুলো এনডিটিভিকে জানিয়েছিল, বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ সভাপতি সমীক ভট্টাচার্য শুভেন্দু অধিকারীর নাম প্রস্তাব করতে পারেন। পরে বিধায়কদের কণ্ঠভোটে তা অনুমোদিত হবে।
আগামীকাল শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান নির্ধারিত থাকায় খুব দ্রুত পরিষ্কার হয়ে যাবে, তাঁর মন্ত্রিসভার অন্য সদস্য কারা হচ্ছেন। শপথ অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে। সেখানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, এনডিএ শাসিত বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং বিজেপির শীর্ষ নেতাদের। সাম্প্রতিক নির্বাচনে দলের বিস্ফোরক সাফল্যের পর এই আয়োজনকে বিজেপির শক্তি প্রদর্শনের বড় মঞ্চ হিসেবে দেখা হচ্ছে।