ভগবান রামচন্দ্র ও ভগবান কৃষ্ণের তুলনা করতে গিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের মুখে পড়েছেন মধ্যপ্রদেশের ‘বাগেশ্বর ধাম’-এর প্রধান পুরোহিত ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী। তিনি ‘বাগেশ্বর বাবা’ নামেই অধিক পরিচিত। ভগবান কৃষ্ণকে ‘বাঁকা’ এবং রামচন্দ্রকে ‘সোজা’ বলে বর্ণনা করে তাঁর দেওয়া একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
বিতর্ক জোরদার হওয়ার পর ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী তাঁর মন্তব্যের জন্য দুঃখপ্রকাশ করেছেন এবং জানিয়েছেন, তাঁর কথাকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে মধ্যপ্রদেশের শিবপুরী জেলার করেরা এলাকায় আয়োজিত এক ‘রামকথা’ অনুষ্ঠানে। সেখানে উপস্থিত ভক্তদের উদ্দেশে কথা বলতে গিয়ে তিনি রামচন্দ্র ও কৃষ্ণের আচার-আচরণ, শারীরিক ভঙ্গি এবং তাঁদের নিবাস স্থান নিয়ে তুলনা করেন।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘তোমাদের ভগবান কৃষ্ণ অত্যন্ত বাঁকা, এমনকি তাঁর নামটাও বাঁকা। আমাদের রামচন্দ্র অত্যন্ত সাদাসিধে। তিনি সোজা হাঁটেন, সোজা বসেন এবং তাঁর দৃষ্টিও সোজা।’
তিনি আরও বলেন, ‘তোমাদের ভগবানের দাঁড়ানো, হাঁটা এমনকি বাঁশি বাজানোর ভঙ্গিও বাঁকা—তিন জায়গা থেকে বাঁকানো। আর আমাদের ভগবান সোজা দাঁড়ান। আমাদের ভগবানের ধাম অযোধ্যাও সোজা, কিন্তু তোমাদের ধাম বৃন্দাবন।’
কৃষ্ণ ও রামের কাজের তুলনা করতে গিয়ে বাগেশ্বর বাবা বলেন, ‘গরু চরানো বা বাঁশি বাজানো সহজ কাজ, কিন্তু ধনুক চালানো কিংবা বানরদের সংগঠিত করা সহজ খেলা নয়।’
এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন গোষ্ঠী, কৃষ্ণভক্ত এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের অনেকেই এই মন্তব্যকে ভগবান কৃষ্ণের প্রতি অবমাননাকর বলে অভিহিত করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সমালোচকদের মতে, একজন ধর্মীয় প্রচারকের কাছ থেকে হিন্দুধর্মের দুই অবতারের মধ্যে এ ধরনের ভেদাভেদমূলক এবং অবমাননাকর তুলনা গ্রহণযোগ্য নয়।
বিতর্ক বৃদ্ধি পাওয়ার পর এক ভিডিও বার্তায় নিজের মন্তব্যের ব্যাখ্যা দেন ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘ভক্তির আবেগে ভেসে গিয়ে আমি কথাগুলো বলেছিলাম। আমার বক্তব্যের ভুল অর্থ বের করা হচ্ছে। আমি নিজে শ্রীকৃষ্ণের বিরোধী নই, আমার নিজের নামের মধ্যেও কৃষ্ণের নাম রয়েছে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘ভগবানের গুণগান গাওয়ার সময় বা অনুভূতির গভীরতা থেকে কথাগুলো বলা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও যদি আমার কথায় কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগে থাকে, তবে আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী।’
তবে তাঁর এই ক্ষমা প্রার্থনার পরও বিতর্ক পুরোপুরি থামেনি। সামাজিক মাধ্যমে এবং ধর্মীয় মহলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বর দুর্গাপূজার আগে পশ্চিমবঙ্গে এসে বাঙালি হিন্দুদের পূজায় আমিষ খাওয়া ও নৈবেদ্য হিসেবে আমিষ দেওয়ার রীতি নিয়ে কড়া মন্তব্য করেন বাগেশ্বর বাবা। তিনি বলেন, ‘দুর্গা প্যান্ডেলের পেছনে অথবা মঞ্চের নিচে অনেকে আমিষ খাবার খায়। এদের ধার্মিক বলা যায়? আমি চাই এদের ধার্মিক নয়, পাখণ্ডি (ভণ্ড) বলে ডাকা হোক।’ এ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়। বাঙালি হিন্দুদের অপমান করায় তাঁকে গ্রেপ্তারের দাবিও ওঠে। অবশ্য পরে বাগেশ্বর বাবা তাঁর অবস্থান থেকে সরে যান।