হোম > বিশ্ব > ইউরোপ

স্পেনে ট্রেন দুর্ঘটনা: ৬৯ প্রাণহানির ছয় দিন পর পরিবহনমন্ত্রীর পদত্যাগ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে। ছবি: সিনহুয়া

স্পেনে ট্রেন দুর্ঘটনায় ৬৯ জনের প্রাণহানি এবং আরও অর্ধ শতাধিক আহতের ছয় দিন পর পদত্যাগ করেছেন দেশটির পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে। গত বুধবার রাজধানী মাদ্রিদের দক্ষিণে উর্দা শহরের কাছে দ্রুতগতির দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। ওই দুর্ঘটনায় একটি ট্রেন থেমে থাকা আরেকটি ট্রেনের পেছনে সজোরে ধাক্কা দিয়েছিল।

মন্ত্রী পুয়েন্তে বলেন, ‘স্পেনের মতো একটি দেশের পরিবহনমন্ত্রী এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে এ ধরনের দুটি ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর দায়িত্বে থাকতে পারেন না।’ এ বছরের জানুয়ারিতে একই রেলপথে আরেকটি দুর্ঘটনায় ৪৬ জন নিহত হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে এ কথা বলেন তিনি।

গত সপ্তাহের দুর্ঘটনাটি আধুনিক ইউরোপের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনা। ২০১৩ সালের পর স্পেনে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী ট্রেন দুর্ঘটনা।

স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পার্লামেন্টে দীর্ঘ অধিবেশনের শেষ দিকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন পুয়েন্তে। ওই অধিবেশনে তিনি রেলপথের নিরাপত্তা জোরদারে নতুন কিছু পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি বিরোধী দলগুলোর তীব্র প্রশ্নের মুখেও পড়েন।

পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমি শুধু পরিবহনমন্ত্রীর পদ থেকেই সরে দাঁড়াচ্ছি না, আগাম আইনসভা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার তালিকা থেকেও নিজের নাম প্রত্যাহার করছি।’

আগামী ২৯ নভেম্বর দেশটিতে আগাম সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা।

গত ২৮ অক্টোবরের দুর্ঘটনার পর থেকেই পুয়েন্তের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। প্রধান বিরোধী দল রক্ষণশীল পিপলস পার্টি (পিপি) এবং উগ্র ডানপন্থী ভক্স—দুই দলই তাঁর পদত্যাগ দাবি করছিল। এমনকি সরকারের কয়েকটি মিত্র দলও একই দাবি তোলে।

তাদের যুক্তি, স্পেনের দ্রুতগতির রেলব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে এখন অনেক নাগরিকের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে। এ ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমনকি সমাজতন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজও স্বীকার করেছেন, রেলব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা ‘ভেঙে পড়েছে’। এ অবস্থায় পরিবহনমন্ত্রী হিসেবে পুয়েন্তের উচিত এর দায় নেওয়া।

দুর্ঘটনার জন্য চালকের ভুলকে দায়ী করার ইঙ্গিত দেওয়ায় পুয়েন্তের সমালোচনাও করেছে বিরোধীরা। তাদের অভিযোগ, নিজের ব্যর্থতা থেকে দৃষ্টি সরাতেই তিনি মানবিক ভুলের প্রসঙ্গ সামনে এনেছিলেন।

অনেক পর্যবেক্ষকের ধারণা, এই দুর্ঘটনা সমাজতন্ত্রী নেতৃত্বাধীন সরকারের জন্য নির্বাচনে বড় ধরনের ধাক্কা হয়ে উঠবে। এর ফলে জনমত জরিপের ফল উপেক্ষা করে সানচেজের নির্বাচনে জয়ের সম্ভাবনা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে।

পুয়েন্তে ও প্রধানমন্ত্রীর জন্য পরিস্থিতি ছিল বেশ কঠিন। দুর্ঘটনার পর পদত্যাগ না করলে সেটিকে ভুক্তভোগীদের প্রতি অসংবেদনশীলতা হিসেবে দেখা হতে পারত। আবার পদত্যাগ করলে তা তাঁর নিজের এবং সরকারের দায় স্বীকারের ইঙ্গিত দিতে পারত। শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় পথটিই বেছে নেন পুয়েন্তে। তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক মর্যাদাবোধ’ থেকেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী সানচেজ তাঁর সহকর্মীর প্রশংসা করে বলেন, ‘পুয়েন্তে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন, জবাব ও সমাধান দিয়েছেন এবং এরপর সরে দাঁড়িয়েছেন। মর্যাদার খাতিরে। নিজের সিদ্ধান্তে। নিহত ব্যক্তিদের প্রতি সম্মান জানিয়ে।’

তবে কয়েক দিন আগেও দায়িত্বে থাকার ঘোষণা দেওয়া পুয়েন্তের আকস্মিক পদত্যাগের সিদ্ধান্ত অনেককেই বিস্মিত করেছে। এখনো অনেক স্প্যানিশ নাগরিকের প্রশ্ন, পুয়েন্তের উত্তরসূরিরা দেশটির রেলব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারবেন কি না।

গত বুধবারের দুর্ঘটনায় রাষ্ট্রায়ত্ত রেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান রেনফের একটি ট্রেনে ৩৯৭ জন যাত্রী ছিলেন। ট্রেনটির সঙ্গে সংঘর্ষ হয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইরিও পরিচালিত একটি থেমে থাকা ট্রেনের। ওই ট্রেনে ছিলেন ১৪৭ জন যাত্রী।

ইউরোপে সাতটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে বোমা হামলার হুমকি

সাইবার হামলায় অকেজো ইউরোপের সাত দেশের সুপারমার্কেট ফ্রিজ

হ্যাকারের দখলে ইউক্রেনের জরুরি সতর্কতা অ্যাপ, পারমাণবিক হামলার ভুয়া বার্তা

অগ্নিকাণ্ডে ধ্বংসের পর হিটলারের ঐতিহাসিক ‘ইগলস নেস্ট’ নিয়ে নতুন বিতর্ক

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর কৃষ্ণসাগরে ১ লাখ ২০ হাজার ডলফিনের মৃত্যু, কে দায়ী

স্পেনের ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতদের তালিকায় কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী

জার্মানির ৩৪ শহরে জেন-জি বিক্ষোভ, ফ্রাঙ্কফুর্টে লুটপাট-সহিংসতা

দাসপ্রথার জন্য ক্ষমা চাইতে পারি, তবে ক্ষতিপূরণ নয়: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

পোল্যান্ডের বিচার বিভাগ ঘিরে সরকার-প্রেসিডেন্ট বিরোধ তুঙ্গে, সর্বোচ্চ আদালতে পুলিশ মোতায়েন

ইউক্রেনকে ৫০০ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র দেবে যুক্তরাষ্ট্র