তাইওয়ান, জাপান ও ফিলিপাইনের আশপাশের জলসীমায় চীনের নৌবাহিনী ও অন্যান্য সরকারি সংস্থার ৫০টির বেশি জাহাজের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। এসব জাহাজের মধ্যে বিমানবাহী রণতরি লিয়াওনিংসহ ৩৪টি যুদ্ধজাহাজ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তাইওয়ান।
তাইওয়ানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মহাসচিব জোসেফ উ জানিয়েছেন, দক্ষিণ জাপান থেকে তাইওয়ান হয়ে ফিলিপাইনের কাছাকাছি জলসীমা পর্যন্ত চীনা জাহাজের তৎপরতা স্পষ্ট নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত একটি মানচিত্রে তিনি ৫৩টি জাহাজের অবস্থান তুলে ধরেন।
মানচিত্র অনুযায়ী, বিমানবাহী রণতরি লিয়াওনিং ও এর বহর ফিলিপাইনের পূর্ব দিকে অবস্থান করছিল। এ ছাড়া তাইওয়ানের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের কাছাকাছি এবং জাপানের দক্ষিণ উপকূলসংলগ্ন জলসীমায় চীনা জাহাজের একাধিক বহর দেখা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েলিংটন কু বলেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা ক্ষুণ্ন করতে পারে—এমন সামরিক শক্তি প্রদর্শনের প্রচেষ্টা তাঁরা সমর্থন করেন না। চীনা যুদ্ধজাহাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
স্বশাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে বেইজিং। দ্বীপটিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনতে শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও কখনো নাকচ করেনি চীন। তবে দেশটির দাবি, তারা শান্তিপূর্ণ পুনরেকত্রীকরণকেই অগ্রাধিকার দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, তাইওয়ানের আশপাশে চীনের নিয়মিত সামরিক মহড়া স্বাভাবিক প্রশিক্ষণ নাকি সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি, তা নির্ধারণ কষ্টসাধ্য।
এদিকে জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এক দিন আগে চীনের তিনটি যুদ্ধজাহাজ ও কোস্ট গার্ডের একটি জাহাজ কিউশু দ্বীপের কাছে ওসুমি প্রণালি অতিক্রম করে প্রশান্ত মহাসাগরে প্রবেশ করেছে। তবে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, লিয়াওনিংয়ের কার্যক্রম ছিল নিয়মিত প্রশিক্ষণের অংশ এবং তা কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়নি।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে চীনের সঙ্গে জাপান ও ফিলিপাইনের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। তাইওয়ানের প্রতি জাপানের নতুন করে সমর্থন ও দক্ষিণ চীন সাগরে ম্যানিলার সঙ্গে বেইজিংয়ের বিরোধ এই উত্তেজনা বাড়িয়েছে। দক্ষিণ চীন সাগরের অধিকাংশ জলসীমার ওপর চীন সার্বভৌমত্ব দাবি করলেও ব্রুনেই, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, তাইওয়ান ও ভিয়েতনামেরও সেখানে আঞ্চলিক দাবি রয়েছে।
মার্কিন সামরিক সংবাদমাধ্যম স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় স্থলবাহিনীর কমান্ডার রোনাল্ড ক্লার্কের মতে, ২০২৭ সালের মধ্যেই চীন তাইওয়ানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে।
ইতিপূর্বে জাপানও চীনা সামরিক বিমান, নজরদারি ড্রোন ও যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি শনাক্ত করার কথা জানিয়েছিল। অন্যদিকে, দক্ষিণ চীন সাগরের স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জের সাবিনা শোল-সংলগ্ন জলসীমায় মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস চার্লসটনের উপস্থিতি নিয়ে চীন আপত্তি জানায়। তবে মার্কিন নৌবাহিনী ও ফিলিপাইনের সামরিক বাহিনী বলেছে, জাহাজটি আন্তর্জাতিক আইন মেনে আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।