বছর শেষে অনেকে হিসাব মেলান, বছর কেমন গেল। সব হিসাব শেষ করে বছরের শুরু থেকে শুরু করুন নতুন কিছু। সেই পরিবর্তনগুলো মানসিক শান্তি আনুক আপনার জীবনে। স্বাস্থ্যের পাশাপাশি নিজের মনের যত্ন নেওয়া জরুরি। বছর শুরুর আগে আপনার মানসিক সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে মেনে চলতে পারেন কিছু কার্যকর কৌশল।
আত্মোপলব্ধি করুন
বিচারকের আসনে না বসে আত্মোপলব্ধি করুন। গত বছরের ভুল-ভ্রান্তি অথবা না পাওয়া নিয়ে নিজেকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো কোনোভাবেই ঠিক না; বরং একজন কৌতূহলী পর্যবেক্ষক হিসেবে বছরটির দিকে তাকান। গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা নিজের প্রতি সদয় থেকে অভিজ্ঞতাগুলো পর্যালোচনা করেন, তাঁরা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অন্যদের চেয়ে বেশি সক্ষম হন। আপনার অর্জন আর খামতি—উভয়কেই স্বীকৃতি দিন।
অবাস্তব লক্ষ্য ঠিক করবেন না
হঠাৎ কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জীবন আমূল বদলে ফেলার তীব্র চাপ অনুভব করবেন না। তার বদলে মধ্যপন্থা অবলম্বন করে দীর্ঘ মেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণ করা অনেক বেশি কার্যকর। এটি আপনাকে জানুয়ারির শুরুতে ক্লান্ত হওয়ার বদলে সতেজ বোধ করতে সাহায্য করবে।
লিখে ফেলুন, মন শান্ত হবে
মনে জমে থাকা নেতিবাচক চিন্তা বা অমীমাংসিত দ্বন্দ্বগুলো লিখে ফেলুন। কোনো বদভ্যাস হোক কিংবা তিক্ত স্মৃতি, যা ঝেড়ে ফেলতে চান, কাগজে লিখে নিজেকে হালকা করুন। এই লেখার অভ্যাস উদ্বেগ ও বিষণ্নতা কমাতে জাদুর মতো কাজ করে।
জীবনযাপনে ছন্দে ফিরুন
যাপিত জীবনে মৌলিক ছন্দে ফিরে আসুন। তবে উৎসবের দিনগুলোতে আমাদের ঘুম, খাওয়া কিংবা ব্যায়ামের রুটিন ওলটপালট হয়ে যায়। মানসিক স্থিরতার জন্য এই মৌলিক রুটিনগুলোতে ফিরে আসা জরুরি। পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাবার আর প্রতিদিন অন্তত কিছুক্ষণ হাঁটা আপনার দুশ্চিন্তা কমাতে সহায়ক হবে।
তুলনা করবেন না
তুলনার ফাঁদ থেকে নিজেকে মুক্ত করুন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের জীবনের ঝকঝকে মুহূর্ত দেখে নিজের ওপর সন্দেহ তৈরি করবেন না। মনে রাখবেন, প্রত্যেকের জীবনের পর্যায় ভিন্ন। আমেরিকার সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের মতে, ৪৫ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ অন্যদের সঙ্গে তুলনা করে মানসিক চাপে ভোগেন। তাই স্ক্রিন টাইম কমিয়ে নিজের পথে মনোনিবেশ করুন।
না বলতে শিখুন
দ্বিধাহীনভাবে ‘না’ বলতে শিখতে হবে। নিজের সীমানা বা বাউন্ডারি নির্ধারণ করা কোনো অপরাধ নয়। তবে কোনো সামাজিক অনুষ্ঠান বা অতিরিক্ত কাজের চাপে যদি আপনি হাঁপিয়ে ওঠেন, তাহলে কোনো দীর্ঘ ব্যাখ্যা ছাড়াই সেখানে ‘না’ বলুন। এটি আপনার আত্মসম্মান বাড়াবে এবং বার্ন আউট থেকে রক্ষা করবে।
মানুষের সঙ্গে সংযোগে থাকুন
আস্থার কোনো মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করুন। মানসিক চাপে অনেক বন্ধুর প্রয়োজন নেই। শুধু একজন বিশ্বস্ত মানুষের সঙ্গে মনের কথা শেয়ার করাই যথেষ্ট। এক কাপ কফি কিংবা ফোনের অন্য প্রান্তে প্রিয় মানুষের কণ্ঠ আপনার মনকে শান্ত করতে এবং মানসিক শক্তি জোগাতে সাহায্য করবে।
আনন্দের জন্য কাজ করুন
নিছক আনন্দের জন্য কিছু করুন। সব কাজই যে হতে হবে উৎপাদনশীল, এমন কোনো কথা নেই। কোনো বই পড়া, গান শোনা অথবা স্রেফ চুপচাপ বসে থাকা যদি আপনাকে আনন্দ দেয়, তাহলে সে জন্য সময় বরাদ্দ করে নিন। এটি আপনার মস্তিষ্কের রিওয়ার্ড সিস্টেমকে সক্রিয় করে মানসিক চাপ কমিয়ে আনবে।
সূত্র: হেলথ শর্টস