হোম > স্বাস্থ্য > স্বাস্থ্য টিপস

ঘাড়ে কুঁচকে যাওয়া কালো ত্বক, হতে পারে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির লক্ষণ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ঘাড়ে কুঁচকে যাওয়া কালো ত্বক অনেক সময় ‘অ্যাকান্থোসিস নিগ্রিকান্স’ হতে পারে। ছবি: এনডিটিভি

ঘাড়ের পেছনে বা বগলের নিচে ত্বক কুঁচকে কালো হয়ে যাওয়া মানেই সেটি সব সময় অপরিচ্ছন্নতার লক্ষণ নয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় এটি অনেক সময় ‘অ্যাকান্থোসিস নিগ্রিকান্স’ হতে পারে। সাধারণভাবে এটি ক্ষতিকর না হলেও, অনেক ক্ষেত্রে এটি ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা বা অন্যান্য বিপাকীয় সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।

ত্বক কী বার্তা দিচ্ছে

ভারতের মহারাষ্ট্রের হোমিওপ্যাথি বিশেষজ্ঞ ডা. সায়াজিরাও গায়কোয়াড় এই বিষয়ে আলোকপাত করেছেন। তিনি গত ১১ জানুয়ারি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া একটি পোস্টে বিষয়টির বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন।

গায়কোয়াড় লেখেন, ‘ঘাড়ের কালো দাগ মানেই ময়লা নয়। এটি ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের লক্ষণ। ঘাড় বা বগলের নিচে দেখা যাওয়া কালচে ও মখমলের মতো ত্বক সবসময় অপরিচ্ছন্নতার কারণে নয়, এটা অ্যাকান্থোসিস নিগ্রিকান্সও হতে পারে। যা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের অন্যতম স্পষ্ট বাহ্যিক লক্ষণ।’

এর কারণ ব্যাখ্যা করে ডা. সায়াজিরাও লেখেন, ‘যখন শরীরের কোষগুলো ইনসুলিনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে, তখন শরীর অতিরিক্ত ইনসুলিন উৎপাদন করতে শুরু করে। এই অতিরিক্ত ইনসুলিন ত্বকের কোষ ও রঞ্জক পদার্থকে (পিগমেন্ট) অতিরিক্তভাবে উদ্দীপ্ত করে, ফলে ত্বক মোটা হয়ে যায় এবং কালচে দাগ তৈরি হয়। এটি কেবল সৌন্দর্যজনিত সমস্যা নয়। এটাকে প্রি-ডায়াবেটিস, টাইপ–২ ডায়াবেটিস, পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস), ফ্যাটি লিভার এবং মেটাবলিক সিনড্রোমের প্রাথমিক সতর্ক সংকেত বলা যায়।’

ঘাড়ের কালচে দাগ দূর করবেন যেভাবে

ডা. গায়কোয়াড়ের মতে, এর সমাধান জোরে জোরে ঘষা নয়। সমাধান হলো জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে ইনসুলিনের মাত্রা কমানো। এই ‘কালো ঘাড়’ আসলে আপনার বিপাকীয় ব্যবস্থার সতর্ক সংকেত।

এ ক্ষেত্রে তিনি যেসব পদক্ষেপ অনুসরণের কথা বলেছেন, সেগুলো হলো—

১. কঠোরভাবে শর্করা কম বা লো-কার্ব ডায়েট মেনে চলা।

২. বেশি পরিমাণে প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি (হেলদি ফ্যাট) গ্রহণ।

৩. ওজন কমানো (এমনকি ৫-১০ শতাংশ ওজন কমানোও কার্যকর)।

৪. রেজিস্ট্যান্স ট্রেনিং বা শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত ঘুম।

ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স পরীক্ষা করবেন কীভাবে

ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স আছে কি না তা যাচাই করতে যে পরীক্ষাগুলো সহায়ক হতে পারে, সেগুলো হলো—

ফাস্টিং গ্লুকোজ (Fasting glucose)

HbA1c (গত ৩ মাসের গড় শর্করা)

ফাস্টিং ইনসুলিন → HOMA-IR

লিপিড প্রোফাইল (ট্রাইগ্লিসারাইড বেশি এবং এইচডিএল কমে যাওয়া সতর্ক সংকেত)

ওজিটিটি (OGTT-চিনি গ্রহণের পর রক্তে শর্করা ও ইনসুলিনের প্রতিক্রিয়া)

চিকিৎসক গায়কোয়াড় আরও বলেন, ‘ঘাড়ের কুঁচকে যাওয়া কালো ত্বক, পেটের অতিরিক্ত মেদ, পিসিওএস এবং ফ্যাটি লিভার—এই চারটি একসঙ্গে থাকলে তা গুরুত্বপূর্ণ ক্লিনিক্যাল ক্লু বা শারীরিক লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হয়।’

গত বছর ডা. গায়কোয়াড় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পৃথক পোস্টে প্রাথমিক পর্যায়ের ডায়াবেটিস প্রতিরোধ এবং তা নিরাময়ের জন্য একটি ডায়েট গাইড বা খাদ্যাভ্যাস নির্দেশিকা তুলে ধরেন। সেখানে তিনি যে বিষয়গুলো অনুসরণের পরামর্শ দেন, সেগুলো হলো—

> প্রোটিন গ্রহণ বাড়ানো : ডিম, মাছ, পনির ও ডালজাতীয় খাবার

> দ্বিগুণ শাকসবজি: ফাইবার ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের বিরুদ্ধে লড়াই করে।

> প্রতিদিন শরীরচর্চা: ৮-১০ হাজার কদম হাঁটা এবং স্ট্রেংথ ট্রেনিং।

> চিনি ও রিফাইন কার্ব (চিনিযুক্ত ও পরিশোধিত খাবার) বর্জন করুন।

> পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ।

ক্র্যাশ ডায়েট নয়, ছোট ছোট দৈনন্দিন অভ্যাসই বেশি কার্যকর

ডা. গায়কোয়াড় বলেন, ‘আজ থেকেই শুরু করুন, একটি প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার এবং ৩০ মিনিট হাঁটা আপনার হেলথ রিপোর্ট বদলে দিতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রায়ই ত্বকের ছোটখাটো সমস্যাকে অবহেলা করি। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে এসব পরিবর্তনই শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির ইঙ্গিত বহন করতে পারে।’

সাধ্যের মধ্যে দরকারি সব ওষুধ, পূর্ণতা পাচ্ছে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর স্বপ্ন

শীতকালে কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে কী করবেন

এই শীতে যত্নে রাখুন নিজের কান

রাতে দ্রুত ঘুমাতে যাওয়ার ৮ অভ্যাস

নিজের মানসিক প্রশান্তিতে নজর দিন

যেভাবে ডিম খাওয়া উচিত নয়

শীতকালে কেন কিছু মানুষকে রক্ত পাতলা করার ওষুধ খেতে হয়

‘অত্যাবশ্যকীয়’ তালিকায় আরও ১৩৫টি ওষুধ, দাম বেঁধে দেবে সরকার

তীব্র শীতে হাসপাতালে বাড়ছে শিশু রোগীর চাপ

ফ্রান্স-জার্মানিসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ থেকে শিশুদের দুধ তুলে নিল নেসলে