কেনিয়ার এক ‘ভুয়া আইনজীবী’ টানা ২৬টি মামলায় জয়ী হওয়ার পর গ্রেপ্তার হন এবং পরে নিজের পক্ষে নিজেই আদালতে আইনি লড়াই চালিয়ে আবারও জয় লাভ করেছেন—এমন একটি চমকপ্রদ দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
২৮ জুলাই ‘BONGO WIKI’ নামের ফেসবুক পেজে একটি ইংরেজি ফটোকার্ড শেয়ার করা হয়, যা আলোচিত দাবিতে সম্ভাব্য প্রথম পোস্ট ও সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে। পোস্টটিতে ৩০ জুলাই বেলা ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ৩৬ হাজার রিয়েকশন, ৬২৩ কমেন্ট ও ২ হাজার শেয়ার রয়েছে।
ভাইরাল হওয়া পোস্টের কমেন্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অধিকাংশ ব্যবহারকারী দাবিটিকে সত্য বলে বিশ্বাস করছেন।
ঘটনাটির সত্যতা যাচাইয়ে অনুসন্ধানে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিতে ২০২৩ সালের ১৫ অক্টোবর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়।
ওই প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবির সঙ্গে প্রচারিত ফটোকার্ডের ছবির হুবহু মিল রয়েছে। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, কেনিয়ার হাইকোর্টের আইনজীবী পরিচয়ে টানা ২৬টি মামলায় জয়লাভ করা ব্রায়ান এমওয়েন্দা এনজাগি নামের এক ভুয়া আইনজীবীকে গ্রেপ্তার করেছে কেনিয়া পুলিশ। প্রতিবেদনে বলা হয়, এমওয়েন্দা দীর্ঘদিন ধরে সফলতার সঙ্গে কাজ করে আসছিলেন। এমনকি গ্রেপ্তারের আগ পর্যন্ত তাঁর যোগ্যতা নিয়ে বিচারকদের মনেও কোনো সন্দেহ জাগেনি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ব্রায়ান এমওয়েন্দা তাঁর নামের সাথে মিল থাকা এক আইনজীবীর পরিচয় চুরি করেন। পরে ‘ব্রায়ান এমওয়েন্দা এনটুইগা’ নামের সত্যিকারের আইনজীবী যখন খেয়াল করেন যে তিনি আর সিস্টেমে লগইন করতে পারছেন না, তখন তিনি সচিবালয়ে যোগাযোগ করলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম স্ট্রেইটস টাইমস ও ‘বিবিসি’ -সহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও এই গ্রেপ্তারের খবরটি প্রকাশিত হয়।
তবে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তিনি নিজের মামলায় নিজেই আইনি লড়াই চালিয়ে জয়লাভ করেছেন—এমন দাবির সত্যতা অনুসন্ধানে কেনিয়ার শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিক ‘The Star’-এ ২০২৩ সালের ২৩ অক্টোবরে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়।
প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আইনজীবী হিসেবে মিথ্যা পরিচয় দেওয়ার দায়ে অভিযুক্ত ব্রায়ান এমওয়েন্দাকে ২ লাখ কেনিয়ান শিলিং মুচলেকা নিয়ে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। মামলাটির পরবর্তী শুনানির জন্য ৭ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।
নিজের আইনজীবী জন খামিনওয়া ও ডানস্টান ওমারির মাধ্যমে ব্রায়ান এমওয়েন্দা দাবি করেন, তিনি আদালতের বিচার প্রক্রিয়া থেকে পালিয়ে যেতে পারেন বা আত্মগোপন করতে পারেন—রাষ্ট্রপক্ষের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি যুক্তি দেন যে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার কোনো কারণ তাঁর নেই। তাঁর আইনজীবী ওমারি বলেন, এমওয়েন্দাকে জামিন না দেওয়ার পক্ষে বাদী পক্ষের আইনজীবী আদালতে কোনো যৌক্তিক কারণ উপস্থাপন করতে পারেননি।
এ সময় ব্রায়ান এমওয়েন্দা এনজাগি তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা নথি তৈরি, জাল নথি প্রকাশ এবং অন্যের পরিচয় চুরির মোট ৬টি অভিযোগ আনা হলে তিনি সবগুলোই অস্বীকার করেন।
এ ছাড়া কেনিয়ার গণমাধ্যম Citizen Digital-এও একই তথ্য পাওয়া যায়।
বিষয়টি নিয়ে আরও অনুসন্ধানে গত বছরের ২০ জানুয়ারি ও ৩ জুলাই কেনিয়ার বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন (১, ২,) পাওয়া যায়। তবে এসব প্রতিবেদনে এমওয়েন্দা এনজাগি নিজের মামলায় নিজেই আইনজীবী হিসেবে লড়ে জয়ী হওয়ার কোনো তথ্য বা প্রমাণ মেলেনি। বরং প্রতিবেদনগুলো থেকে জানা যায়, মামলাটি এখনো কেনিয়ার আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
কেনিয়ার ব্রায়ান এমওয়েন্দা নামের ভুয়া আইনজীবী গ্রেপ্তারের পর জামিন পেলেও নিজের মামলায় নিজেই লড়ে জয়ী হওয়ার খবরটি বানোয়াট।