সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একটি পোস্ট ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। পোস্টটিতে দাবি করা হয়েছে, ‘বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুন। মনে রেখো বাংলাদেশ, এর বিচার কিন্তু একদিন এই বাংলার মাটিতেই হবে, ইনশা আল্লাহ।’ পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ে এবং এ নিয়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
‘ওবায়দুল কাদের এমপি’, ‘Shipon Islam’,‘বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’,‘সাতক্ষীরা জেলা ’ ,‘জাকির হোসেন’, ‘লাকি খানম’-সহ আরও ২০টির বেশি পেজ ও অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সময়ের দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে।
শেয়ার করা পোস্টগুলোর কমেন্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অধিকাংশ নেটিজেন ঘটনাটিকে বাংলাদেশের বলে মনে করছেন। তাঁরা দেশের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়ে কমেন্ট করেছেন।
ছড়িয়ে পড়া দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে অনুসন্ধানে সামাজিক যাগাযোগমাধ্যম এক্স অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও https://x.com/Kamru_Choudhury/status/2073728423751487548?s=20 পাওয়া যায়। ‘Kamru Choudhury’ নামের ওই অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা ভিডিওর সঙ্গে প্রচারিত ভিডিওর মিল পাওয়া যায়। ওই পোস্টের ক্যাপশনে বলা হয়, ‘পশ্চিমবঙ্গের বারুইপুরে ১২ বছরের এক মেয়ে অপহৃত, ধর্ষিত এবং খুনের শিকার হয়েছে। সরকার পরিবর্তন হওয়া সত্ত্বেও সেখানকার আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন উঠেছে। পাশাপাশি অনুসন্ধানে জানা যায়, বারুইপুর নামক স্থানটি বাংলাদেশের কোনো উপজেলা বা জেলা নয়, এটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার একটি মহকুমা ও শহর।
একই তথ্য পাওয়া যায় আরও কিছু (১ , ২ ) পোস্ট থেকেও।
এই সূত্র ধরে অনুসন্ধানে একাধিক (১ , ২, ৩ ) গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বারুইপুর-সংলগ্ন সূর্যপুর এলাকায় ১২ বছর বয়সী এক বালিকার বস্তাবন্দী মরদেহ একটি পুকুর থেকে উদ্ধার (৫ জুলাই) করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, মেয়েটিকে অপহরণের পর ধর্ষণ ও খুন করা হয়েছে। ওই নৃশংস ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে এবং গণপিটুনিতে এক সন্দেহভাজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যায়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পুলিশ ইতিমধ্যে বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং আনন্দ সরদার, প্রভাস মণ্ডল ও দিবাকর মণ্ডল নামের মূল অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সুতরাং ঘটনাটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বারুইপুর এলাকার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্থানটি বাংলাদেশে অবস্থিত বলে দাবি করা হচ্ছে।