ভাইরাল হওয়ার জন্য সব সময় খোলামেলা পোশাক পরা বা অশালীন আচরণ করার দরকার হয় না। কখনো কখনো সরলতা, স্বাভাবিক সৌন্দর্য আর একটি সুন্দর হাসিই কাউকে সবার নজরে এনে দিতে পারে—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। মুহূর্তেই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অন্যান্য প্ল্যাটফর্মেও ছড়িয়ে পড়ে।
‘Shekhar’ নামের অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি শেয়ার করে ক্যাপশনে দাবি করা হয়, কোনো ফিল্টার নেই, কোনো এডিট নেই—কেবলই পাকিস্তানের অবিশ্বাস্য ও চোখ জুড়ানো সৌন্দর্য, যার প্রশংসা স্বয়ং ইংরেজ ধারাভাষ্যকারও করেছেন।
‘Champaran Wala’ নামের আরেকটি অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার করা ভিডিওতে বলা হয়, ‘ফিফা বিশ্বকাপের আয়োজকেরাও এখন আইপিএল আয়োজকদের কাছ থেকে দর্শকদের কীভাবে আকৃষ্ট করে রাখতে হয়, তা শিখছে। দেখে নিয়েন, এখন প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই কোনো না কোনো মেয়েকে ভাইরাল করে তোলা হবে।’
শেয়ার করা ভিডিওটির কমেন্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বেশির ভাগ ব্যবহারকারী ভিডিওটিকে সত্য মনে করেছেন। আরবিসহ বিভিন্ন ভাষায় ছড়িয়ে পড়া পোস্টগুলোর কমেন্টে ওই তরুণীর সৌন্দর্য, মার্জিত উপস্থিতি এবং পোশাকের ভূয়সী প্রশংসা করছেন। একজন কমেন্ট করেছেন, ‘গোলাপ আর বসন্ত যেন মেয়েটির মুখে ফুটে উঠছে।’ আরেকজন বলেন, ‘আমি আমার জীবনের কিছু দিন ইরবিল, বারজানে কাটিয়েছি। এটি সম্পূর্ণভাবে কুর্দিদের সৌন্দর্য।’ অপর একজন বলেন, ‘পৃথিবী যেন জান্নাতের সৌন্দর্যে ভরে আছে, আর এই তরুণীও তারই একটি অংশ।’ আরেকজন আবার বলেন, ‘হায় আল্লাহ! এত মানুষ কীভাবে এই এআই জেনারেটেড সৌন্দর্যে মজল?’
এ ছাড়া কেউ ভিডিওটিকে পাকিস্তানের ক্রিকেট ম্যাচ চলাকালের এবং কেউ আবার বলেন, ‘এটা চলতি ফুটবল বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচ ও মেয়েটি ইরাকের। তবে একটি বিষয় আছে, পর্দায় যাকে যতটা সুন্দর দেখায়, বাস্তবে অনেক সময় তাকে ঠিক ততটা আকর্ষণীয় দেখায় না। স্টেডিয়ামে টি-শার্ট ও জিনস পরা, ফর্সা গায়ের রঙের হাজারো মেয়ে থাকতে পারে, কিন্তু ক্যামেরায় যে বিশেষ সৌন্দর্য দেখা যায়, বাস্তবে তার সঙ্গে সব সময় মিল না-ও থাকতে পারে।’
ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একটি মেয়ে স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বেগুনি সালোয়ার-কামিজ ও দোপাট্টা পরে বসে আছেন। যখনই ক্যামেরা তাঁর ওপর ফোকাস করছে, তখন তাঁকে হাসতে দেখা যায়। এ সময় ধারাভাষ্যকারকে বলতে শোনা যায়, ‘আজকের জনসমাগম অনেক বেশি।’ মেয়েটিকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘সে অনেক সুন্দর। সে বুঝতে পেরেছে ক্যামেরা তাকে ফোকাস করেছে। তার হাসিটি বেশ লাজুক ও অনেক সুন্দর।’
এ ছাড়া ভিডিওটিতে ইরাকের টেলিভিশন চ্যানেল ALFORAT-এর লোগো দেখা যায়। তবে চ্যানেলটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে অনুসন্ধানে এমন কোনো ভিডিও পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি নিয়ে আরও অনুসন্ধানে ‘Zoya Khan’ নামের একটি টিকটক অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও পাওয়া যায়। গত ২৪ জুন শেয়ার করা ওই ভিডিওটির সঙ্গে ভাইরাল ভিডিওর হুবহু মিল পাওয়া যায়। ওই ভিডিওর ক্যাপশনে স্পষ্ট করে প্রচারণামূলক কনটেন্ট এবং এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি উপাদান রয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে।
অ্যাকাউন্টটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সেখানে একই ধরনের একাধিক ভিডিও রয়েছে এবং প্রতিটিতে একই ধরনের ভিজ্যুয়াল ও বর্ণনা ব্যবহার করা হয়েছে।
‘Zoya Khan’ নামের ওই টিকটক অ্যাকাউন্টের ইউজার নেমেও (@zoyakhan_ai) এআইয়ের ইঙ্গিত রয়েছে, যা কনটেন্টের প্রকৃতি সম্পর্কে ধারণা দেয়। এ ছাড়া অ্যাকাউন্টটির কনটেন্টগুলো দেখলে বোঝা যায়, সেখানে নিয়মিতভাবে গ্যালারিতে বসা সুন্দরী তরুণীদের এমন অনেক এআই জেনারেটেড ভিডিও আপলোড করা হয়েছে।
এ ছাড়া ভিডিওটির নিচে ডান পাশে গুগলের এআই চ্যাটবট জেমিনির লোগো স্পষ্ট দেখা যায়।
বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হতে এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী প্ল্যাটফর্ম ‘হাইভ মডারেশন’-এর সাহায্য নেওয়া হয়। হাইভ মডারেশনের বিশ্লেষণে দেখা যায়, ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ১০০ শতাংশ।
গ্যালারিতে বসা তরুণীর সরল সৌন্দর্য ও হাসির আলোচিত ভিডিওটি কোনো বাস্তব ঘটনা নয়। এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক চরিত্র।