রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় শব্দদূষণের মাত্রা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে বেসরকারি সংস্থা ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডাব্লিউবিবি) ট্রাস্ট। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত নগরীর ২০টি স্থানে পরিচালিত পরিমাপে এ চিত্র উঠে এসেছে, যা জনস্বাস্থ্য ও নগরজীবনের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
আজ বৃহস্পতিবার ‘শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে করণীয়: বর্তমান সরকারের কাছে নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক লাইভ টকশোতে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে সেন্টার ফর ল অ্যান্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্স ট্রাস্টের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম তাহিন বলেন, ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে নতুন বিধিমালা প্রণয়ন ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে শুধু আইন করলেই হবে না, এর যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং কঠোর নজরদারি ছাড়া কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না।’
ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডাব্লিউবিবি) ট্রাস্টের স্বাস্থ্য বিভাগের হেড অব প্রোগ্রাম সৈয়দা অনন্যা রহমান বলেন, ‘বর্তমান বিধিমালায় জনপরিসরে লাউডস্পিকার ও উচ্চশব্দের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এর প্রয়োগ না থাকায় শব্দদূষণ দিন দিন বাড়ছে। অপ্রয়োজনীয় হর্ন বাজানো বন্ধে চালকদের প্রশিক্ষণে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।’
চিলড্রেন ওয়াচ ফাউন্ডেশনের পরিচালক শাহ ইসরাত আজমেরী বলেন, ‘শব্দদূষণ একটি নীরব ঘাতক। এটি শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। অতিরিক্ত শব্দ শিশুদের মনোযোগ কমিয়ে দেয়, আচরণে নেতিবাচক পরিবর্তন আনে এবং তাদের সৃজনশীলতাকে বাধাগ্রস্ত করে।’
অনুষ্ঠানে ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের ডকুমেন্টেশন অফিসার মো. বাবুল মিয়া বলেন, ‘আমরা নিয়মিত শব্দের মাত্রা পরিমাপ, সেমিনার ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছি। সাম্প্রতিক জরিপে ঢাকার ব্যস্ত ও আবাসিক এলাকাগুলোতেও নির্ধারিত সীমার চেয়ে অনেক বেশি শব্দ পাওয়া গেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’
সভাপতির বক্তব্যে ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারী বলেন, ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে শুধু সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। অপ্রয়োজনীয় হর্ন ব্যবহার কমানো এবং শব্দদূষণের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।’
বক্তারা আরও বলেন, অপ্রয়োজনীয় হর্ন বাজানো, নির্মাণকাজ, লাউডস্পিকার ব্যবহার এবং সামাজিক অনুষ্ঠানে উচ্চ শব্দ-এসবই শব্দদূষণের প্রধান উৎস। এসব নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং নাগরিক সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা শব্দদূষণকে ‘নীরব ঘাতক’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি মানুষের শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত করা ছাড়াও মানসিক চাপ, অনিদ্রা ও হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
তারা মনে করেন, সরকার, বেসরকারি সংস্থা ও নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে রাজধানীর বাসযোগ্যতা আরও হুমকির মুখে পড়বে।