হোম > শিক্ষা

লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি

বাংলাদেশ ব্যাংকে সহকারী পরিচালক পদে নিয়োগ

সুমন সেন

সুমন সেন। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক (এডি) পদটি দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ও প্রতিযোগিতামূলক সরকারি চাকরি হিসেবে পরিচিত। ১৭ জুলাই অনুষ্ঠিত সহকারী পরিচালক পদের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ৫ হাজার ১৪৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ৭ আগস্ট। এই পরীক্ষায় ভালো ফল করতে পারলে চূড়ান্ত মেধাতালিকায় স্থান পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশে বেড়ে যায়। লিখিত পরীক্ষায় সফল হওয়ার জন্য কার্যকর প্রস্তুতির কৌশল নিয়ে আলোচনা করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক সুমন সেন।

ফোকাস রাইটিং

এই পরীক্ষায় বাংলা ফোকাস রাইটিংয়ে ৩০ ও ইংরেজি ফোকাস রাইটিংয়ে ৩০ নম্বর বরাদ্দ থাকে। সমসাময়িক বৈশ্বিক বা বাংলাদেশ-সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ে বাংলা ও ইংরেজিতে একটি করে ফোকাস রাইটিং লিখতে হয়। ফোকাস রাইটিং নিয়ে অনেকের মধ্যে কিছু ভুল ধারণা রয়েছে, যেমন টাইটেল লিখতে হবে কি না, কতটুকু লিখতে হবে, পয়েন্ট আকারে লেখা যাবে কি না কিংবা ভূমিকা ও উপসংহার থাকবে কি না। টাইটেল অবশ্যই লিখতে হবে। লেখার দৈর্ঘ্য নির্ভর করবে পরীক্ষার সময় এবং উত্তরপত্রে বরাদ্দ স্থানের ওপর। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যতটা সম্ভব তথ্যসমৃদ্ধ ও সুসংগঠিত লেখা উপস্থাপন করার চেষ্টা করতে হবে।

ফোকাস রাইটিং পয়েন্ট আকারে কিংবা অনুচ্ছেদ আকারে লেখা যায়। তবে শুরুতে ‘ভূমিকা’ এবং শেষে ‘উপসংহার’ শব্দ ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই। এই অংশে ভালো করতে হলে নিয়মিত জাতীয় দৈনিকের সম্পাদকীয় ও মতামত বিভাগ পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ডি-ডলারাইজেশন, পঞ্চম শিল্পবিপ্লব, ব্যাংকিং খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, ফ্রি ট্রেড জোন, স্মার্ট বাংলাদেশ, ডিজিটাল ব্যাংক, সাইবার নিরাপত্তা, বিভিন্ন মেগা প্রকল্প, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব, মুদ্রাস্ফীতির কারণ ও নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা, সম্ভাব্য বৈশ্বিক মন্দা ও বাংলাদেশের করণীয়, ব্যাংকিং খাতে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং অনলাইন ব্যাংকিং। বাংলা ও ইংরেজি ফোকাস রাইটিংয়ের জন্য একই প্রস্তুতি অনুসরণ করা যেতে পারে।

সাধারণ জ্ঞান

এই অংশে ১০ নম্বরের জন্য সাধারণত ৫ থেকে ১০টি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন থাকে এবং সব প্রশ্নের উত্তর লিখতে হয়। প্রশ্নগুলো সাধারণত বিভিন্ন ব্যাংকিং টার্ম (যেমন BACH, BACPS, NPSB, BEFTN, MICR), সাম্প্রতিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ঘটনা, অর্থনৈতিক সংকট, মেগা প্রকল্প, খেলাধুলা, জলবায়ু, ভূগোল, তথ্যপ্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা (যেমন SWIFT, SOFR, LIBOR) থেকে আসে। ভালো প্রস্তুতির জন্য এসব বিষয় নিয়মিত অনুসরণ করতে হবে। পাশাপাশি পূর্ববর্তী বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করলে প্রশ্নের ধরন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়।

গণিত

এই অংশে ৩০ নম্বরের জন্য সাধারণত ৫টি প্রশ্ন থাকে এবং প্রতিটি প্রশ্নের মান ৬। প্রশ্নের মান এসএসসি পর্যায়ের হলেও প্রশ্ন প্রণয়ন করবে আইবিএ। তাই সবার আগে আইবিএ পরিচালিত পূর্ববর্তী পরীক্ষার গণিত প্রশ্ন ভালোভাবে অনুশীলন করা উচিত। এরপর তাদের পছন্দের অধ্যায়; যেমন শতকরা, লাভ-ক্ষতি, সময় ও কাজ, সময়-দূরত্ব-গতিবেগ, অংশীদারত্ব, মিশ্রণ, সেট, সংখ্যাপদ্ধতি ও পরিমিতি থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো সমাধান করতে হবে।

অনুবাদ

এই অংশে ২০ নম্বরের একটি বাংলা অনুচ্ছেদ ইংরেজিতে অনুবাদ করতে হয়। ভালো করার জন্য নিয়মিত অনুবাদের অনুশীলনের বিকল্প নেই। জাতীয় দৈনিকের সম্পাদকীয় বা মতামত বিভাগ থেকে অনুবাদ চর্চা করা যেতে পারে। অনুবাদের ক্ষেত্রে শাব্দিক অনুবাদ না করে ভাবানুবাদের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

অ্যানালিটিক্যাল রিজনিং ও অন্যান্য

এই অংশে ৪০ নম্বর থাকে এবং আইবিএ এখানে নতুন ধরনের প্রশ্ন দিতে পারে; যেমন পাজল, ক্রিটিক্যাল রিজনিং, আরগুমেন্ট রাইটিং, এসেই (যেমন: ট্রি, হ্যাপিনেস, আ টিপিক্যাল ডে ইন ২০২৫ ইত্যাদি)। পাজল ও ক্রিটিক্যাল রিজনিংয়ের জন্য জিআরই বিগ বুক এবং জিম্যাট অফিশিয়াল গাইড থেকে অনুশীলন করলেই যথেষ্ট। পাশাপাশি থিমেটিক রাইটিং, এসেই ও আরগুমেন্ট রাইটিংয়ের জন্য ইউটিউব বা অভিজ্ঞ কারও কাছ থেকে লেখার সঠিক কাঠামো শিখে নিয়মিত অনুশীলন করলে ভালো নম্বর অর্জন করা সম্ভব।

বাংলা ব্যাকরণ

এই অংশে ১০ নম্বর থাকবে। সাধারণত বানান, বাক্যশুদ্ধি, প্রবাদ-প্রবচন, কারক, সমাস, সন্ধি, এককথায় প্রকাশ এবং প্রায় সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দ থেকে প্রশ্ন আসে। বিসিএস লিখিত পরীক্ষার জন্য প্রকাশিত যেকোনো মানসম্পন্ন বাংলা গাইড থেকে উল্লিখিত বিষয়গুলো প্রস্তুতি নিলে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।

ইংরেজি ব্যাকরণ

এই অংশে ২০ নম্বর থাকে। প্রশ্ন আসে সেনটেন্স স্ট্রাকচার, সাবজেক্ট-ভার্ব অ্যাগ্রিমেন্ট, ফাইনাইট অ্যান্ড নন-ফাইনাইট ভার্ব, ট্রান্সফরমেশন, ন্যারেশন/স্পিচ, ক্লজ অ্যান্ড ফ্রেজ, গ্রুপ ভার্বস, ইডিয়মস, রাইট ফর্ম অব ভার্ব। এই অংশের জন্য পিসি দাসের ইংরেজি গ্রামার বই অনুসরণ করা যেতে পারে।

ফাইন্যান্সিয়াল অ্যান্ড ব্যাংকিং নলেজ

এই অংশে ভালো নম্বর পেতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যাবলি, মনিটারি পলিসি, ব্যাংকিং টার্মস, ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনস, ফাইন্যান্সিয়াল মার্কেটস, ব্যাংকিং আইন এবং সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক ও ব্যাংকিং ইস্যুগুলোকে অগ্রাধিকার দিন। প্রতিদিন একটি জাতীয় দৈনিকের অর্থনীতি পাতা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ সার্কুলার ও রিপোর্ট অনুসরণ করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। শুধু সংজ্ঞা মুখস্থ না করে প্রতিটি বিষয়ের ধারণা, প্রয়োগ ও সাম্প্রতিক উদাহরণসহ লিখতে অনুশীলন করুন। পাশাপাশি পূর্ববর্তী বাংলাদেশ ব্যাংক ও আইবিএ পরিচালিত লিখিত পরীক্ষার ফাইন্যান্সিয়াল অ্যান্ড ব্যাংকিং নলেজ-সংক্রান্ত প্রশ্নগুলো নিয়মিত সমাধান করলে এই অংশে ভালো নম্বর পাওয়া সম্ভব।

গ্রন্থনা: আনিসুল ইসলাম নাঈম

ব্রাজিলের অধিকাংশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফি নেই

সেলস অপারেশনে সফল হবেন যেভাবে

জবিতে ক্লাসরুমে চলন্ত সিলিং ফ্যান খুলে পড়ল শিক্ষার্থীর ওপর

ঢাবির ৩ শিক্ষক ও ১ কর্মকর্তা বরখাস্ত, ৪ শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি

বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের সদস্য হলেন আইইউবির অধ্যাপক শাহ এমরান

পরিবর্তনের চাবিকাঠি নাগরিকদের হাতেই: হোসেন জিল্লুর রহমান

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইভনিং এমবিএতে ভর্তি, আবেদন ৩০ জুলাই পর্যন্ত

আইইএলটিএস স্কোর কত দিন বৈধ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: ক্যাম্পাসেও নিরাপত্তাহীন ছাত্রীরা

ইউআইইউতে প্রাইম ব্যাংকের ‘এমপাওয়ারিং ইয়ুথ সিজন ২.০’ অনুষ্ঠিত