হোম > অর্থনীতি

বিদেশি ঋণ: শোধ-নতুন ঋণে উদ্বেগ বাড়ছে

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

ছবি: সংগৃহীত

বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) সরকার আসল ও সুদ মিলিয়ে মোট ৩৫২ কোটি ৫০ লাখ ডলার পরিশোধ করেছে, যা আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ের ৩২১ কোটি ২০ লাখ ৮০ হাজার ডলারের তুলনায় বেশি। দেশীয় মুদ্রায় এই পরিশোধের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৩ হাজার ৬১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।

একদিকে ঋণ পরিশোধের অঙ্ক বাড়ছে, অন্যদিকে নতুন ঋণপ্রবাহে গতি কমে এসেছে—এটাই এখন মূল উদ্বেগ। উন্নয়ন-সহযোগীদের কাছ থেকে ঋণছাড় এবং নতুন প্রতিশ্রুতি—দুটিই আগের তুলনায় কমে গেছে। ফলে অর্থপ্রবাহে যে ভারসাম্য থাকা দরকার, সেখানে একটি চাপ তৈরি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ধীরগতির পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। জাতীয় নির্বাচনের আগে ও পরের সময়টিতে অনেক উন্নয়ন প্রকল্পে বাস্তবায়নের গতি কমে যায়। পাশাপাশি জ্বালানিসংকটকে ঘিরে অগ্রাধিকারের পরিবর্তনও কিছু প্রকল্পের অগ্রগতিকে প্রভাবিত করেছে। এর সরাসরি প্রতিফলন পড়ছে বৈদেশিক ঋণপ্রবাহে।

ফলে পরিস্থিতি এখন এমন জায়গায় দাঁড়িয়েছে, যেখানে একদিকে নিয়মিত বড় অঙ্কের ঋণ পরিশোধ করতে হচ্ছে, অন্যদিকে প্রত্যাশিত নতুন অর্থপ্রবাহ তুলনামূলকভাবে দুর্বল। এতে সরকারের সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনা একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্যের মধ্যে অবস্থান করছে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) প্রকাশিত সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে, যা গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনের এই প্রবণতা ইঙ্গিত দিচ্ছে, বৈদেশিক অর্থায়ন ব্যবস্থাপনায় সতর্কতা ও দ্রুত সমন্বয় এখন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি হয়ে উঠেছে।

এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, বাংলাদেশ এখন এমন পর্যায়ে এসেছে, যেখানে ঋণের গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ায় পরিশোধ বাড়ছে—এটা স্বাভাবিক। তবে একই সময়ে ঋণের ছাড় ও নতুন প্রতিশ্রুতি কমে যাওয়া উদ্বেগের। এতে বৈদেশিক খাতে চাপ বাড়তে পারে। তাই দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়ন ও ফলদায়ক বিনিয়োগে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

ইআরডির প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ঋণ শোধের ক্ষেত্রে আসল পরিশোধ করা হয় ২২৭ কোটি ৬৪ লাখ ১০ হাজার ডলার, আর সুদ পরিশোধে গেছে ১২৫ কোটি ডলার। বৈদেশিক ঋণছাড়ের অগ্রগতি কমেছে। গত অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে ছাড় হয়েছিল ৪৮০ কোটি ৮৮ লাখ ডলার; চলতি অর্থবছরের এই সময়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩৮৯ কোটি ১৮ লাখ ৫০ হাজার ডলারে। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে উন্নয়ন সহযোগীদের ঋণছাড় কমেছে প্রায় ১৯ শতাংশ বা ৯১ কোটি ৬৯ লাখ ৭০ হাজার ডলার।

উন্নয়ন সহযোগীদের নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি এ বছর কমে দাঁড়িয়েছে ২৮০ কোটি ৪১ লাখ ২০ হাজার ডলারে, যা আগের বছরের ৩০০ কোটি ৫২ লাখ ৪০ হাজার ডলারের তুলনায় কম। এই সময়ে ভারত, রাশিয়া, জাপান ও এআইআইবি নতুন কোনো ঋণ প্রতিশ্রুতি দেয়নি। প্রতিশ্রুতির মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে এডিবির ১২৬ কোটি ৯৭ লাখ ১০ হাজার ডলার, এরপর আইডিএ ৪১ কোটি ৬২ লাখ ৫০ হাজার, চীন ২৩ কোটি ৫৬ লাখ এবং অন্যান্য ৮৮ কোটি ৪২ লাখ ৭০ হাজার ডলার। ঋণছাড়ে শীর্ষে রাশিয়া ৮৩ কোটি ডলার, এরপর বিশ্বব্যাংক ৭৬ কোটি ৫০ লাখ, এডিবি ৬১ কোটি, চীন ৫২ কোটি, জাপান ৩১ কোটি ও ভারত ২৪ কোটি ডলার।

জিইডির এপ্রিল প্রতিবেদন: বহুমুখী চাপের মুখে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি

সাউথইস্ট ব্যাংক ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির যৌথ উদ্যোগে এক্সক্লুসিভ ভিসা ব্র্যান্ডেড স্টুডেন্ট কার্ড চালু

বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার ‘সবচেয়ে নিরাপদ’—আসলেই কি

চীনের হাসপাতালের সঙ্গে যমুনা ব্যাংক ও বিআরএইচসির চুক্তি

শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংকের এএমডি হলেন আব্দুল্লাহ আল-মামুন

১৪টি উড়োজাহাজ কিনতে বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি করল বিমান

বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স: কোন কোন বিমান সংস্থা ব্যবহার করে, কতটা নিরাপদ

সকালে কমে সন্ধ্যায় বাড়ল সোনার দাম

বিশ্ববাজারে তেলের দাম চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ

ইরানে হামলার বিকল্প ভাবছে ট্রাম্প প্রশাসন, ফের বাড়ল তেলের দাম