হোম > অর্থনীতি

দাম কমতে পারে যেসব পণ্যের

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

less price

মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা সাধারণ মানুষের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় ও অতিপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যে শুল্ক-কর কমানো বা প্রত্যাহারের প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী চাল, গম, আলু, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, মসলা, শিশুখাদ্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম, প্রযুক্তিপণ্য ও ইলেকট্রিক যানবাহনসহ নানা খাতে কর ছাড়ের ঘোষণা দেন।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, ধান, চাল, গম, আলু, মাছ, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, বীজসহ ৬০টি কৃষি ও ভোগ্যপণ্যের ওপর উৎসে কর সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকারের ভাষ্য, খাদ্যপণ্যের সরবরাহ ও বিপণন ব্যয় কমিয়ে ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যস্ফীতির চাপ কমানোই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

সব ধরনের মসলার ওপর আরোপিত ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। খেজুর আমদানির ওপর থাকা ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্কও তুলে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সোনা ও স্বর্ণালংকার সরবরাহে উৎসে করের হার ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রীর ভাষ্য, উচ্চ উৎসে করের কারণে সোনা ও স্বর্ণালংকারের সরবরাহ এখনো অনানুষ্ঠানিক থাকায় সরকার রাজস্ব পাচ্ছে না। এই ব্যবসাকে আনুষ্ঠানিক খাতে আনতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কৃষি উৎপাদন ব্যয় কমাতে সারের ব্যবসায়ী পর্যায়ে বিদ্যমান ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভ্যাট সম্পূর্ণ অব্যাহতির প্রস্তাব করা হয়েছে। কৃষিকাজে ব্যবহৃত সব ধরনের কীটনাশকের আমদানিতে প্রযোজ্য ৭ দশমিক ৫ শতাংশ আগাম করও প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

শিশুখাদ্য তৈরির কাঁচামালের আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতে কিডনি রোগীদের ব্যবহৃত ডায়ালাইসিস ফিল্টারের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ৫ শতাংশ অগ্রিম কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকারের হিসাবে, এর ফলে প্রতিবার ডায়ালাইসিসে রোগীদের প্রায় ৮০০ টাকা পর্যন্ত খরচ কমতে পারে।

হার্টের স্টেন্ট ও চোখের ইনট্রাওকুলার লেন্সের ওপর ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাবও রয়েছে।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটার, সার্ভার, প্রিন্টার ও মনিটরের ওপর বিদ্যমান আমদানি শুল্ক, রেগুলেটরি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসএসডি, ফ্ল্যাশ মেমোরি, কম্পিউটার মনিটর ও প্রিন্টারের ওপর কর কমানোর কথা বলা হয়েছে।

পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবহারে উৎসাহ দিতে ইলেকট্রিক গাড়ি, ইলেকট্রিক বাস-ট্রাক, চার্জার ও চার্জিং স্টেশনের ওপর কর ব্যাপকভাবে কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ইলেকট্রিক গাড়ির মোট করভার ৯৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে সর্বনিম্ন ৬৪ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব রয়েছে। চার্জার ও চার্জিং স্টেশনের আমদানিতে সব ধরনের শুল্ক-কর প্রত্যাহারের কথাও বলা হয়েছে।

মোবাইল ফোন উৎপাদনের কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম কর কমানো হয়েছে। মোবাইল সিমের ওপর আরোপিত ৩০০ টাকার নির্দিষ্ট করও তুলে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে নতুন সিম কেনার খরচ কমতে পারে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, কর ও শুল্ক কমানোর সুবিধা সরবরাহ শৃঙ্খলের বিভিন্ন স্তরে কার্যকরভাবে প্রতিফলিত হলে নিত্যপণ্য থেকে চিকিৎসা, প্রযুক্তি ও পরিবহন খাতের বিভিন্ন পণ্যের দাম কমতে পারে। অর্থনীতিবিদেরাও বলছেন, কর ও শুল্ক কমলে আমদানি ও সরবরাহ ব্যয় কমবে, যা বাজারে পণ্যের দাম কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে এই সুবিধা কতটা ভোক্তার কাছে পৌঁছাবে, তা নির্ভর করবে বাজার ব্যবস্থাপনা, প্রতিযোগিতা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর।

বাজেটে বেসরকারি খাতে ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে: সিপিডির খন্দকার গোলাম

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জন্য ৪,৪০১ কোটি টাকার প্রস্তাব

মার্কেট-শপিং মল খোলা রাখার নতুন সময়, আজ থেকেই কার্যকর

আয়কর রিটার্ন দেওয়া যাবে সারা বছর

প্রান্তিক অর্থনীতি উদ্দীপনায় ৬০ হাজার কোটি টাকা

৫ টাকার জিনিস ২৫ টাকা দেখানোর সংস্কৃতি বন্ধ হলেই বাজেট সফল: আবদুল মজিদ

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ বাড়ছে ৫ হাজার ৪১১ কোটি

তৃতীয় ভাষা শিক্ষায় পূর্ণাঙ্গ কারিকুলাম, স্থাপন হবে ৫০০ ভাষা ল্যাব

দুদকের বাজেট ১৯৭ কোটি টাকা, কমছে উন্নয়ন ব্যয়

সৃজনশীল অর্থনীতিতে ৫ লাখ কর্মসংস্থানের লক্ষ্য, বরাদ্দ ৮০০ কোটি টাকা