বাজেট ২০২৬-২৭
এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে ৬৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা গত বছরের সংশোধিত বাজেটের প্রায় দ্বিগুণ এবং জিডিপির প্রায় ১ শতাংশ। এটি স্বাগত জানানোর মতো পদক্ষেপ। এবার প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থা, পুষ্টি, অসংক্রামক ও ব্যয়বহুল রোগ প্রতিরোধে সরকার কিছু ভালো পদক্ষেপ নিচ্ছে। পাশাপাশি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে গুরুত্ব দিয়েছে।
মূল প্রতিবন্ধকতা হলো—বরাদ্দ দেওয়া হলেও তা পুরোটা খরচ করা যায় না। এবার নতুন উদ্যোগে হয়তো ব্যয় কিছুটা সহজ হবে কিন্তু খরচ করার দক্ষতা আদৌ বেড়েছে কি না এবং সেই ঘাটতি দূর করার সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ আছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। তেমন উদ্যোগ না থাকলে এই টাকা খরচ করা কঠিন হবে।
চিকিৎসাসেবায় মানুষের পকেট থেকে ব্যয়ের প্রধান কারণ ওষুধ। এবার ক্যানসারের ওষুধের কাঁচামালসহ বেশ কয়েকটি কাঁচামালের কর ছাড় দেওয়া হলেও সাধারণ মানুষ পরোক্ষভাবে এর সুফল কতটা পাবে নাকি ওষুধ কোম্পানিগুলোই সুবিধা পাবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। অতি প্রয়োজনীয় ওষুধগুলো প্রায় বিনা মূল্যে সরবরাহের সুযোগ রয়েছে। সরকারি হাসপাতালে সব ওষুধ না থাকায় বাইরের বাজারের ওপর নির্ভরতা থেকেই যায়। বরাদ্দ যেহেতু বেড়েছে, তাই তা সঠিকভাবে খরচের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।
বরাদ্দ বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ হলেও আসল বিষয় হলো এটি কতটা দক্ষভাবে খরচ করা হচ্ছে। বছর শেষে দেখা যায় অনেক অর্থই ব্যয় হয় না, যা বাস্তবায়ন দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়। তাই কোথায় ঘাটতি হচ্ছে, কেন খরচ হচ্ছে না, কোথাও ভুল বণ্টন হচ্ছে কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা জরুরি।
অধ্যাপক ড. শাফিউন নাহিন শিমুল
পরিচালক, স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়