হোম > অর্থনীতি

হরমুজে প্রবেশ করেও অতিক্রম করতে পারেনি বাংলাদেশি জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’

আবু বকর ছিদ্দিক, চট্টগ্রাম 

ছবি: সংগৃহীত

হরমুজে প্রবেশ করেও অতিক্রম করতে পারেনি সরকারি মালিকানাধীন বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’। ইরানের নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালি থেকেই আবার ফেরত পাঠিয়েছে জাহাটি। শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৯টায় জাহাজটি হরমুজ অতিক্রম করার জন্য যাত্রা শুরু করে। ইরানের নৌবাহিনী শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টায় হঠাৎ সব জাহাজকে ইঞ্জিন বন্ধ করতে বলে এবং ফেরত যাওয়ার নির্দেশনা দেয়।

এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে ৪০ দিন ধরে আটকে থাকা ‘বাংলার জয়যাত্রা’ গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে রওনা দিয়েছিল। প্রায় ৪০ ঘণ্টা জাহাজ চালিয়ে ১০ এপ্রিল সকালে হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি পৌঁছায়। এরপর ইরান সরকারের কাছে প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি চাইলে তেহরান তা প্রত্যাখ্যান করে। জাহাজটি ঘুরিয়ে আবারও নিরাপদে আরব আমিরাতের শারজা বন্দরে চলে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানান, শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাত ১১টা ৫০ মিনিটে জাহাজটি হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করে এবং ভোরের দিকে অতিক্রমের পরিকল্পনা ছিল। তিনি বলেন, ‘কিন্তু রাত আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে ইরানের নৌবাহিনী সব জাহাজকে ইঞ্জিন বন্ধ করে থামার নির্দেশ দেয় এবং জানায়, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজকে অতিক্রম করতে দেওয়া হবে না।’

পরবর্তী সময়ে জাহাজটি প্রণালিতে অবস্থান করে অনুমতির অপেক্ষায় থাকে। তবে শেষ পর্যন্ত ছাড়পত্র না মেলায় জাহাজটিকে আমিরাতের মিনাসাকার বন্দরে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে জাহাজটির ক্যাপ্টেন মো. শফিকুল ইসলাম রাত আড়াটার দিকে বলেন, ‘ইরানের নৌবাহিনী জাহাজটি বের হতে অনুমতি দেয়নি এবং আমরা মিনাসাকার আউটার পোর্ট লিমিটে (ওপিএল) ফিরে যাচ্ছি।’

৩১ জন নাবিক নিয়ে চলা জাহাজটি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যে প্রায় ৪০ দিন ধরে ওই অঞ্চলে অবস্থান করছে। ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রঘোষিত যুদ্ধবিরতির পর এটি সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। তবে ১০ এপ্রিল হরমুজ প্রণালির কাছে পৌঁছালে অতিক্রমের অনুমতি না পেয়ে ফিরে গিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মিনাসাকার উপকূলের কাছে আশ্রয় নেয়।

বিএসসির কর্মকর্তারা জানান, জাহাজে থাকা ৩১ জন নাবিকের জন্য পর্যাপ্ত খাবারের মজুত আছে। জাহাজটি প্রতিদিন ১৮ টন সামুদ্রিক পানি পরিশোধন করতে পারে। তবে তার জন্য ইঞ্জিন পুরোদমে চালু রাখতে হয়। রেশনিং করে পানির ব্যবহার দৈনিক ছয় টনে নামিয়ে আনা হয়েছে।

বিএসসির তথ্যমতে, ভারত থেকে পণ্য বহন করে গত ২ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে ‘বাংলার জয়যাত্রা’। পরে কাতারের একটি বন্দর থেকে স্টিল কয়েল বোঝাই করে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায় জাহাজটি। এর পরদিনই ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালালে সংঘাত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। গত ১১ মার্চ জেবেল আলী বন্দরে জাহাজটি পণ্য খালাস শেষ করে। এরপর কুয়েতের একটি বন্দরে নতুন করে পণ্য বোঝাই করার সূচি ছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি চলমান থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছেড়ে নিরাপদে জাহাজটি ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় বিএসসি। কিন্তু জাহাজটি হরমুজ প্রণালির দিকে যাত্রা শুরু করলেও নিরাপত্তার কারণে মিনাসাকার দিকে ফিরে যেতে বাধ্য হয় জাহাজটি। জাহাজটি ৩৭ হাজার টন সার নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউেন যাওযার কথা।

হরমুজ প্রণালির পথে ‘বাংলার জয়যাত্রা’

হরমুজ খোলার ঘোষণায় তেলের দাম কমল ১৩ শতাংশ

হরমুজ বন্ধের প্রভাব দস্তানা উৎপাদনেও, স্বাস্থ্য খাতে বিপর্যয়ের আশঙ্কা

যুদ্ধ শেষের আশায় বাজারে স্বস্তি, বিশেষজ্ঞদের ভেংচি কাটলেন ট্রাম্প

ম্যালেরিয়ায় মারা গেলেন বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান

রাজধানীর বাজারদর: মুরগি কমে, সবজিতে বাড়তি

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন: নির্বাচনের আগে ব্যাপক সাড়া মেলে ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে

বিবিএসের জরিপ: ইন্টারনেট ব্যবহার করে না ৪৬.৬% মানুষ

শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংকের নির্বাহী কমিটির ৯১৭তম সভা অনুষ্ঠিত

১৮৮ প্লাজা ও কর্মকর্তাকে পুরস্কার দিল ওয়ালটন