ঠাকুরগাঁও শহরে ইজিবাইক চুরির ঘটনার তদন্তে সংঘবদ্ধ একটি চোর চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে চোরাই ইজিবাইকের বিপুল পরিমাণ যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বুধবার গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ৩ আগস্ট শহরের উত্তর হাজীপাড়ার একটি রেস্তোরাঁর সামনে ইজিবাইক রেখে খাবার খেতে যান চালক আব্দুল কাদের। এ সময় ইজিবাইকটি চুরি করে পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় ফেরদৌস ও রাজা নামের দুই জনকে আটক করা হয়। এ সময় তাঁদের আরেক সহযোগী পালিয়ে যান। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা হয়। ফেরদৌস ঠাকুরগাঁয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার মালিপাড়া লাহিড়ী বাজার এলাকার বাসিন্দা এবং রাজার বাড়ি ঠাকুরগাঁও শহরের শাহাপাড়া নিশ্চিন্তপুর এলাকায়।
পরে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, গত ২৩ জুলাই শহরের বলাকা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে থেকে চুরি হওয়া আরেকটি ইজিবাইকও একই চক্রের সদস্যরা নিয়ে যান। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় বিষয়টি নিশ্চিত হয় পুলিশ। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল মঙ্গলবার রাতে ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর জেলা পুলিশ যৌথ অভিযান চালায়। অভিযানে দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার রেলকলোনীপাড়া এলাকা থেকে চোরাই ইজিবাইকের ক্রেতা ফজলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ফজলের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৮টি মোটর, ১৫টি চার্জার, ১০টি কন্ট্রোলার, ২০টি চাবির মিটার এবং ইজিবাইক খুলে যন্ত্রাংশ আলাদা করার বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করে পুলিশ।
ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোদাদাদ হোসেন বলেন, ‘ফজল দীর্ঘদিন ধরে কম দামে চোরাই ইজিবাইক কিনে খুলে যন্ত্রাংশগুলো আলাদাভাবে বিক্রি করে আসছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরি ও দস্যুতাসহ ছয়টি মামলা রয়েছে। চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’